শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভয়ঙ্কর মাদক এলএসডিসহ ৫ শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে ভয়ঙ্কর মাদক এলএসডিসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের খিলগাঁও থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- সাইফুল ইসলাম ওরফে সাইফ (২০), এস এম মনোয়ার আকিব ওরফে আনান (২০), নাজমুস সাকিব (২০), নাজমুল ইসলাম (২৪) ও বি এম সিরাজুস সালেকীন ওরফে তপু (২৪)। তাদের কাছ থেকে দুই হাজার মাইক্রোগ্রাম ওজনের ১২ পিস ব্লটার পেপার, এলএসডি বিক্রির নগদ ৪৬ হাজার টাকা, একশ মার্কিন ডলার, গাঁজা, মোবাইল ও ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (২৯ মে) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৭ মে) মামলার তিন আসামিকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের সাত দিন করে রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এরপর আদালত রবিবার রিমান্ডের বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। একইসঙ্গে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাফিজুর রহমানের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে রাজধানীর একটি বাসা থেকে এলএসডি নামক (লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইইথ্যালামাইড) মাদক জব্দ করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের রমনা বিভাগ। দেশে এলএসডি জব্দের ঘটনা এটাই প্রথম বলে জানিয়েছে ডিবি। গত বুধবার (২৬ মে) রাতে এলএসডি বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এসময় এই তিনজনের কাছ থেকে ২০০টি এলএসডি জব্দ করা হয়। প্রতিটি এলএসডি তিন হাজার টাকা মূল্যে বিক্রি করতেন তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের অনলাইন ফার্মাসিউটিক্যাল এনসাইক্লোপিডিয়া ড্রাগস ডটকমের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইইথ্যালামাইড (এলএসডি)। এই ড্রাগটি অ্যাসিড প্রকৃতির এক ধরনের সাইকেডেলিক ওষুধ। মানুষের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবের বিষয়ে এটি কাজ করে। যা এটি সেবন/ব্যবহারে অবাস্তব চিত্রসমূহ বাস্তব মনে হয়। তবে এটি প্রধানত প্রমোদমূলক ওষধ হিসেবে এবং আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। এলএসডি ড্রাগ সাধারণত জিভের নিচে রাখা হয়। এটি ইনজেকশানের সাহায্যে শরীরে নেওয়া যায়। এটি উত্তেজক, আনন্দদায়ক। মনের ওপরও এর প্রভাব রয়েছে। কখনো কখনো এর প্রভাবে ভীতিকর অনুভূতি তৈরি হয়। এমনটা ঘটলে একে ‘ব্যাড ট্রিপ’ বলা হয়।

ডিবির বলছে, ফেসবুকে ‘আপনার আব্বা’ নামে একটি গ্রুপের মাধ্যমে ওই মাদকের ক্রেতা সংগ্রহ করা হয়। গ্রুপে সদস্যসংখ্যা এক হাজারের বেশি। গ্রেপ্তার লুপল গ্রুপটি পরিচালনা করেন। লুপল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর ছাত্র ছিলেন। ড্রপ আউট হওয়ার পর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।-ভোরের কাগজ

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ভয়ঙ্কর মাদক এলএসডিসহ ৫ শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

প্রকাশিত সময় : ০৯:২৭:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ মে ২০২১

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে ভয়ঙ্কর মাদক এলএসডিসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের খিলগাঁও থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- সাইফুল ইসলাম ওরফে সাইফ (২০), এস এম মনোয়ার আকিব ওরফে আনান (২০), নাজমুস সাকিব (২০), নাজমুল ইসলাম (২৪) ও বি এম সিরাজুস সালেকীন ওরফে তপু (২৪)। তাদের কাছ থেকে দুই হাজার মাইক্রোগ্রাম ওজনের ১২ পিস ব্লটার পেপার, এলএসডি বিক্রির নগদ ৪৬ হাজার টাকা, একশ মার্কিন ডলার, গাঁজা, মোবাইল ও ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (২৯ মে) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৭ মে) মামলার তিন আসামিকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের সাত দিন করে রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এরপর আদালত রবিবার রিমান্ডের বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। একইসঙ্গে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাফিজুর রহমানের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে রাজধানীর একটি বাসা থেকে এলএসডি নামক (লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইইথ্যালামাইড) মাদক জব্দ করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের রমনা বিভাগ। দেশে এলএসডি জব্দের ঘটনা এটাই প্রথম বলে জানিয়েছে ডিবি। গত বুধবার (২৬ মে) রাতে এলএসডি বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এসময় এই তিনজনের কাছ থেকে ২০০টি এলএসডি জব্দ করা হয়। প্রতিটি এলএসডি তিন হাজার টাকা মূল্যে বিক্রি করতেন তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের অনলাইন ফার্মাসিউটিক্যাল এনসাইক্লোপিডিয়া ড্রাগস ডটকমের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইইথ্যালামাইড (এলএসডি)। এই ড্রাগটি অ্যাসিড প্রকৃতির এক ধরনের সাইকেডেলিক ওষুধ। মানুষের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবের বিষয়ে এটি কাজ করে। যা এটি সেবন/ব্যবহারে অবাস্তব চিত্রসমূহ বাস্তব মনে হয়। তবে এটি প্রধানত প্রমোদমূলক ওষধ হিসেবে এবং আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। এলএসডি ড্রাগ সাধারণত জিভের নিচে রাখা হয়। এটি ইনজেকশানের সাহায্যে শরীরে নেওয়া যায়। এটি উত্তেজক, আনন্দদায়ক। মনের ওপরও এর প্রভাব রয়েছে। কখনো কখনো এর প্রভাবে ভীতিকর অনুভূতি তৈরি হয়। এমনটা ঘটলে একে ‘ব্যাড ট্রিপ’ বলা হয়।

ডিবির বলছে, ফেসবুকে ‘আপনার আব্বা’ নামে একটি গ্রুপের মাধ্যমে ওই মাদকের ক্রেতা সংগ্রহ করা হয়। গ্রুপে সদস্যসংখ্যা এক হাজারের বেশি। গ্রেপ্তার লুপল গ্রুপটি পরিচালনা করেন। লুপল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর ছাত্র ছিলেন। ড্রপ আউট হওয়ার পর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।-ভোরের কাগজ