মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা মামলায় ৭ আসামির জামিন স্থগিতই থাকছে

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ২০০২ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামির জামিনের স্থগিতাদেশ বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। রবিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণ বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

একই সঙ্গে আগামী ২০ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষকে হাইকোর্ট বিভাগের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করতে বলা হয়েছে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। আসামিপক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

গত ২৭ মে এই সাত আসামিকে হাইকোর্ট বিভাগের দেওয়া জামিন আদেশ ৩০ মে পর্যন্ত স্থগিত করেছিলেন চেম্বার আদালত।

এর আগে ২৫ মে বিচারপতি মুস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট সাত আসামিকে জামিন দেন।

এই সাত আসামি হলেন- গোলাস রসুল, আব্দুস সামাদ, আব্দুস সাত্তার, জহিরুল ইসলাম, রাকিব, শাহাবুদ্দিন ও মনিরুল ইসলাম। আব্দুস সাত্তার ও আব্দুস সামাদের বিচারিক আদালতে সাজা হয়েছিল সাড়ে চার বছর করে। আর বাকিদের সাজা হয় চার বছর করে।

আলোচিত এ মামলায় বিচার শেষে গত ৪ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এক রায়ে সাতক্ষীরা-১ আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ তিনজনের সর্বোচ্চ ১০ বছর করে এবং বাকি ৪৭ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ দেয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ধর্ষণের শিকার এক মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে দেখতে ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট সাতক্ষীরার কলারোয়ায় সফরে যান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

সড়ক পথে ঢাকায় ফেরার সময় কলারোয়া উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে তার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে এবং নেতাকর্মী পরিবেষ্টিত গাড়িবহর লক্ষ করে গুলি ছোড়া, বোমা বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ও সাংবাদিক আহত হন।

এ ঘটনায় মামলার পর তদন্ত শেষে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ১৭ মে সংশ্লিষ্ট আদালতে হত্যা চেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য ও অস্ত্র আইনে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা মামলায় ৭ আসামির জামিন স্থগিতই থাকছে

প্রকাশিত সময় : ০৩:০৬:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ মে ২০২১

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ২০০২ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামির জামিনের স্থগিতাদেশ বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। রবিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণ বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

একই সঙ্গে আগামী ২০ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষকে হাইকোর্ট বিভাগের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করতে বলা হয়েছে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। আসামিপক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

গত ২৭ মে এই সাত আসামিকে হাইকোর্ট বিভাগের দেওয়া জামিন আদেশ ৩০ মে পর্যন্ত স্থগিত করেছিলেন চেম্বার আদালত।

এর আগে ২৫ মে বিচারপতি মুস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট সাত আসামিকে জামিন দেন।

এই সাত আসামি হলেন- গোলাস রসুল, আব্দুস সামাদ, আব্দুস সাত্তার, জহিরুল ইসলাম, রাকিব, শাহাবুদ্দিন ও মনিরুল ইসলাম। আব্দুস সাত্তার ও আব্দুস সামাদের বিচারিক আদালতে সাজা হয়েছিল সাড়ে চার বছর করে। আর বাকিদের সাজা হয় চার বছর করে।

আলোচিত এ মামলায় বিচার শেষে গত ৪ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এক রায়ে সাতক্ষীরা-১ আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ তিনজনের সর্বোচ্চ ১০ বছর করে এবং বাকি ৪৭ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ দেয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ধর্ষণের শিকার এক মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে দেখতে ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট সাতক্ষীরার কলারোয়ায় সফরে যান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

সড়ক পথে ঢাকায় ফেরার সময় কলারোয়া উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে তার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে এবং নেতাকর্মী পরিবেষ্টিত গাড়িবহর লক্ষ করে গুলি ছোড়া, বোমা বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ও সাংবাদিক আহত হন।

এ ঘটনায় মামলার পর তদন্ত শেষে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ১৭ মে সংশ্লিষ্ট আদালতে হত্যা চেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য ও অস্ত্র আইনে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।