মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তীতে ৫০তম বাজেট অধিবেশন শুরু আজ

করোনা মহামারির মধ্যে বুধবার (২ জুন) একাদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হতে চলেছে। বৃহস্পতিবার (৩ জুন) স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশের ৫০তম বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তবে বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির এ তাণ্ডবে যখন লণ্ডভণ্ড অর্থনীতি, সেদিকে লক্ষ রেখে এবারের বাজেটের প্রতিপাদ্য হতে যাচ্ছে ‘জীবন ও জীবিকার প্রাধান্য, আগামীর বাংলাদেশ’।

বৃহস্পতিবার (২ জুন) বিকেল ৩টায় অর্থমন্ত্রী বাজেট পেশ করবেন । এটি হচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকারের ২১তম বাজেট। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামালের এটি তৃতীয় বাজেট পেশ। এবারে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বৃহৎ ৬ লক্ষ ৫ হাজার কোটি টাকার ওপরে বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী।

প্রতি অর্থবছরে জুন মাসে বাজেট উত্থাপন এবং ৩০ জুনের মধ্যে বাজেট পাস করার বিধান রয়েছে। এবারও সেই ধারাবাহিকতায় আগামী ৩ জুন ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপন করা হবে। চলতি ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের বাজেট ছিল ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার। আর স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট অর্থাৎ ১৯৭২-৭৩ সালে বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা। দেশের প্রথম বাজেট উত্থাপন করেন তাজউদ্দীন আহমেদ।

এদিকে করোনা মহামারীর কারণে অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হলেও বাজেট অধিবেশনকে ঘিরে সংসদ সচিবালয় সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সেকারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করাসহ লাল গালিচায় সাজছে সংসদ সচিবালয়।

তবে আজ বিকেল ৫টায় বাজেট অধিবেশন শুরু হলেও কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী বিদ্যমান সংসদের এমপি ঢাকা-১৪ আসনের আসলামুল হক মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন ও আলোচনা শেষে সংসদের বৈঠক মুলতবি ঘোষণা করবেন স্পিকার। এরপরের দিন আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৩ জুন) বিকেল ৩ টায় বাজেট উত্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী। যা আগামী ৩০ জুন বুধবার পাস হবে। ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে নতুন ২০২১-২০২২ অর্থবছর।

এবারও বিরতি দিয়ে বাজেট অধিবেশন চলবে। সবমিলিয়ে ১২ কার্য দিবস চলতে পারে অধিবেশন। আগামী ৩ জুন বাজেট উত্থাপনের পর ৪ ও ৫ জুন শুক্র, শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ এরপর ৬ জুন সকাল ১১ টায় অধিবেশন বসবে। সেদিন ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের সম্পূরক বাজেট উত্থাপন এবং আলোচনা শুরু হবে। সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা শেষে ৭ জুন সম্পূরক বাজেট পাস হবে। এরপর বিরতি দিয়ে ১৪, ১৫, ১৬, ১৭ সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার, ২৮, ২৯, ৩০ সোমবার থেকে বুধবার এবং ১ জুলাই বৃহস্পতিবার সংসদের বৈঠক বসবে বলে সংসদ ক্যালেন্ডারে জানানো হয়েছে।

প্রতিদিন সকাল ১১ টায় শুরু হয়ে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত চলবে বাজেট অধিবেশন। করোনা পরিস্থিতির কারণে এবারও কোভিড টেস্টের নেগেটিভ সনদ নিয়ে ঢুকতে হবে সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী জানিয়েছেন, সব ধরনের বিধি বিধান মেনে এবং এমপিদের আলোচনার সুযোগ দিয়েই বাজেট পাস করা হবে। অধিবেশনের আগে কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের সময়কালসহ সব কিছু ঠিক করা হবে। স্বাস্থ্য বিধি মেনে সংসদ অধিবেশন চলবে। অধিবেশনটি সংক্ষিপ্ত হতে পারে।

চিফ হুইপ নূর ই আলম চৌধুরী বলেছেন, প্রতিদিন ১১০ থেকে ১২০ জন সংসদ সদস্যকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিরাপদ দূরত্বে বসে চলবে সংসদ অধিবেশন। সেক্ষেত্রে কারো কারো বসার সিটও পরিবর্তন করা হয়েছে। যেদিন যে সংসদ সদস্যের নাম তালিকায় থাকবে শুধু ওই দিনই তিনি সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে পারবেন।

এবার সংসদ অধিবেশন কাভার করতে আসা গণমাধ্যমকর্মীদের দুবার কোভিট টেস্ট করার সুবাদে ৩ জুন বাজেট পেশ হওয়ার দিন এবং অধিবেশন শেষ হওয়ার দিন ৩ জুলাই অধিবেশন কভার করার সুযোগ থাকছে।

ঘাটতি বাজেটের রেকর্ড:

এদিকে অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের ইতিহাসে ২০২১-২২ অর্থবছরে আসছে সবচেয়ে বড় ঘাটতির বাজেট। যা ২ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশের মতো। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে তা ছিল ৬ শতাংশ। তবে আগের ১০ বছর ধরে বাজেট ঘাটতি রাখা হচ্ছিল ৫ শতাংশের নিচে।

অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, করোনাকালে লক্ষ্যমাত্রার কতটা রাজস্ব আহরণ সম্ভব, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার বাস্তবতা মেনে ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য এনবিআরকে ৩ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া এবার এনবিআর-বহির্ভূত রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হচ্ছে, যার আকার হবে ৫০ হাজার কোটি টাকার মতো।

বাজেট ব্যয়ের একটি বড় অংশ খরচ হয় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি)। আগামী বাজেটে এডিপির আকার ধরা হচ্ছে ২ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার মতো, যা চলতি অর্থবছরের মূল বরাদ্দের চেয়ে ১২-১৫ হাজার কোটি টাকা বেশি। ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তীতে ৫০তম বাজেট অধিবেশন শুরু আজ

প্রকাশিত সময় : ০৯:৪০:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ জুন ২০২১

করোনা মহামারির মধ্যে বুধবার (২ জুন) একাদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হতে চলেছে। বৃহস্পতিবার (৩ জুন) স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশের ৫০তম বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তবে বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির এ তাণ্ডবে যখন লণ্ডভণ্ড অর্থনীতি, সেদিকে লক্ষ রেখে এবারের বাজেটের প্রতিপাদ্য হতে যাচ্ছে ‘জীবন ও জীবিকার প্রাধান্য, আগামীর বাংলাদেশ’।

বৃহস্পতিবার (২ জুন) বিকেল ৩টায় অর্থমন্ত্রী বাজেট পেশ করবেন । এটি হচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকারের ২১তম বাজেট। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামালের এটি তৃতীয় বাজেট পেশ। এবারে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বৃহৎ ৬ লক্ষ ৫ হাজার কোটি টাকার ওপরে বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী।

প্রতি অর্থবছরে জুন মাসে বাজেট উত্থাপন এবং ৩০ জুনের মধ্যে বাজেট পাস করার বিধান রয়েছে। এবারও সেই ধারাবাহিকতায় আগামী ৩ জুন ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপন করা হবে। চলতি ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের বাজেট ছিল ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার। আর স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট অর্থাৎ ১৯৭২-৭৩ সালে বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা। দেশের প্রথম বাজেট উত্থাপন করেন তাজউদ্দীন আহমেদ।

এদিকে করোনা মহামারীর কারণে অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হলেও বাজেট অধিবেশনকে ঘিরে সংসদ সচিবালয় সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সেকারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করাসহ লাল গালিচায় সাজছে সংসদ সচিবালয়।

তবে আজ বিকেল ৫টায় বাজেট অধিবেশন শুরু হলেও কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী বিদ্যমান সংসদের এমপি ঢাকা-১৪ আসনের আসলামুল হক মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন ও আলোচনা শেষে সংসদের বৈঠক মুলতবি ঘোষণা করবেন স্পিকার। এরপরের দিন আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৩ জুন) বিকেল ৩ টায় বাজেট উত্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী। যা আগামী ৩০ জুন বুধবার পাস হবে। ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে নতুন ২০২১-২০২২ অর্থবছর।

এবারও বিরতি দিয়ে বাজেট অধিবেশন চলবে। সবমিলিয়ে ১২ কার্য দিবস চলতে পারে অধিবেশন। আগামী ৩ জুন বাজেট উত্থাপনের পর ৪ ও ৫ জুন শুক্র, শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ এরপর ৬ জুন সকাল ১১ টায় অধিবেশন বসবে। সেদিন ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের সম্পূরক বাজেট উত্থাপন এবং আলোচনা শুরু হবে। সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা শেষে ৭ জুন সম্পূরক বাজেট পাস হবে। এরপর বিরতি দিয়ে ১৪, ১৫, ১৬, ১৭ সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার, ২৮, ২৯, ৩০ সোমবার থেকে বুধবার এবং ১ জুলাই বৃহস্পতিবার সংসদের বৈঠক বসবে বলে সংসদ ক্যালেন্ডারে জানানো হয়েছে।

প্রতিদিন সকাল ১১ টায় শুরু হয়ে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত চলবে বাজেট অধিবেশন। করোনা পরিস্থিতির কারণে এবারও কোভিড টেস্টের নেগেটিভ সনদ নিয়ে ঢুকতে হবে সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী জানিয়েছেন, সব ধরনের বিধি বিধান মেনে এবং এমপিদের আলোচনার সুযোগ দিয়েই বাজেট পাস করা হবে। অধিবেশনের আগে কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের সময়কালসহ সব কিছু ঠিক করা হবে। স্বাস্থ্য বিধি মেনে সংসদ অধিবেশন চলবে। অধিবেশনটি সংক্ষিপ্ত হতে পারে।

চিফ হুইপ নূর ই আলম চৌধুরী বলেছেন, প্রতিদিন ১১০ থেকে ১২০ জন সংসদ সদস্যকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিরাপদ দূরত্বে বসে চলবে সংসদ অধিবেশন। সেক্ষেত্রে কারো কারো বসার সিটও পরিবর্তন করা হয়েছে। যেদিন যে সংসদ সদস্যের নাম তালিকায় থাকবে শুধু ওই দিনই তিনি সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে পারবেন।

এবার সংসদ অধিবেশন কাভার করতে আসা গণমাধ্যমকর্মীদের দুবার কোভিট টেস্ট করার সুবাদে ৩ জুন বাজেট পেশ হওয়ার দিন এবং অধিবেশন শেষ হওয়ার দিন ৩ জুলাই অধিবেশন কভার করার সুযোগ থাকছে।

ঘাটতি বাজেটের রেকর্ড:

এদিকে অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের ইতিহাসে ২০২১-২২ অর্থবছরে আসছে সবচেয়ে বড় ঘাটতির বাজেট। যা ২ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশের মতো। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে তা ছিল ৬ শতাংশ। তবে আগের ১০ বছর ধরে বাজেট ঘাটতি রাখা হচ্ছিল ৫ শতাংশের নিচে।

অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, করোনাকালে লক্ষ্যমাত্রার কতটা রাজস্ব আহরণ সম্ভব, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার বাস্তবতা মেনে ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য এনবিআরকে ৩ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া এবার এনবিআর-বহির্ভূত রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হচ্ছে, যার আকার হবে ৫০ হাজার কোটি টাকার মতো।

বাজেট ব্যয়ের একটি বড় অংশ খরচ হয় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি)। আগামী বাজেটে এডিপির আকার ধরা হচ্ছে ২ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার মতো, যা চলতি অর্থবছরের মূল বরাদ্দের চেয়ে ১২-১৫ হাজার কোটি টাকা বেশি। ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা।