রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চিকিৎসক সাবিরার মরদেহ উদ্ধারের ৩৫ ঘণ্টা পর মামলা

রাজধানীর কলাবাগান গ্রিন লাইফ হাসপাতালের চিকিৎসক কাজী সাবিরা রহমান লিপির মরদেহ উদ্ধারের ৩৫ ঘণ্টা পর কলাবাগান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে অজ্ঞাত আসামি উল্লেখ করে মামলাটি করেন নিহতের মামাতো ভাই রেজাউল হাসান মজুমদার জুয়েল।

রমনা বিভাগের নিউমার্কেট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, নিহতের পরিবার বিলম্বে থানায় আসায় মামলা দেরিতে নথিভুক্ত হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কলাবাগান থানা পুলিশ। পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্তে নেমেছে। পাশাপাশি ডিবি পুলিশও তদন্ত করছে।

গত সোমবার কলাবাগানের ওই বাসা থেকে চিকিৎসক কাজী সাবিরা রহমান লিপির রক্তাক্ত ও দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আগুনের খবরে ওই বাসায় গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ধোঁয়া দেখতে পান। নিথরদেহ উদ্ধারের পর পিঠে দুটি ও গলায় একটি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পায় পুলিশ। তার শরীরের কিছু অংশ দগ্ধ ছিল বলেও জানান তারা।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ থেকে আলামত সংগ্রহ করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাবিরার ময়নাতদন্ত সম্পন্নের পর পরিবারের কাছে তার লাশ হস্তান্তর করা হয়।

সাবিরার মৃত্যুর ৩৫ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও কে বা কারা, কেন তাকে হত্যা করেছে সে বিষয়ে এখনো জানতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

তবে এ হত্যাকাণ্ডের মামলার আগেই রহস্যের সন্ধানে কাজ শুরু করে দিয়েছেন তারা।

এ ঘটনায় পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে ডিবি পুলিশ। এদের মধ্যে সাবিরার বাসায় সাবলেট থাকা একজন তরুণী ও তার দুই বন্ধু, সাবিরার বাসার খণ্ডকালীন গৃহকর্মী এবং ওই বাসার দারোয়ান রয়েছে।

মহানগরের রমনা ডিবির উপকমিশনার এইচ এম আজিমুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে এসেছি। এ ছাড়া সন্দেহের তালিকায় আরও অনেককেই রাখা হয়েছে। আমরা ধারাবাহিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে যাব। তদন্তাধীন বিষয় নিয়ে এর বেশি এখন বলা যাবে না।

এদিকে ক্রাইম সিন ইউনিট জানিয়েছে, সাবিরাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা (ব্রুটালি কিলড) করা হয়েছে। তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের পর বিছানায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। দাহ্য পদার্থ না থাকায় আগুন তেমন ছড়ায়নি। সাবিরার শরীরের কিছু অংশ এতে দগ্ধ হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক টিমের সন্দেহ, সাবিরাকে রোববার মধ্যরাতে হত্যা করা হয়। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সোমবার সকালে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

ডা. সাবিরা কলাবাগানের ৫০/১ নম্বর বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। তিনি গ্রিন লাইফ হাসপাতালের রেডিওলোজি বিভাগের চিকিৎসক ছিলেন।

শামসুদ্দীন আজাদ সাবিরার দ্বিতীয় স্বামী। তার আগের স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। তিনি চিকিৎসক ছিলেন। দুই ছেলে-মেয়ের মধ্যে ছেলে আগের স্বামীর ঘরের।

সাবিরার মামাতো ভাই জানান,সাবিরার মামাতো ভাই জানান, সাবিরার এক ছেলে, এক মেয়ে। ছেলে বড় মেয়ে ছোট। ছেলে বিবিএ পড়ে, মেয়ের বয়স ১০ বছর। ওনার স্বামী আবুল কালাম আজাদ এখানে থাকেন না। মনোমালিন্যের কারণে এক বছর ধরে আলাদা থাকেন সাবিরা-আজাদ। তবে ওনাদের ভেতরে যোগাযোগ ছিল এবং ভালো সম্পর্ক ছিল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

চিকিৎসক সাবিরার মরদেহ উদ্ধারের ৩৫ ঘণ্টা পর মামলা

প্রকাশিত সময় : ১১:০০:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুন ২০২১

রাজধানীর কলাবাগান গ্রিন লাইফ হাসপাতালের চিকিৎসক কাজী সাবিরা রহমান লিপির মরদেহ উদ্ধারের ৩৫ ঘণ্টা পর কলাবাগান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে অজ্ঞাত আসামি উল্লেখ করে মামলাটি করেন নিহতের মামাতো ভাই রেজাউল হাসান মজুমদার জুয়েল।

রমনা বিভাগের নিউমার্কেট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, নিহতের পরিবার বিলম্বে থানায় আসায় মামলা দেরিতে নথিভুক্ত হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কলাবাগান থানা পুলিশ। পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্তে নেমেছে। পাশাপাশি ডিবি পুলিশও তদন্ত করছে।

গত সোমবার কলাবাগানের ওই বাসা থেকে চিকিৎসক কাজী সাবিরা রহমান লিপির রক্তাক্ত ও দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আগুনের খবরে ওই বাসায় গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ধোঁয়া দেখতে পান। নিথরদেহ উদ্ধারের পর পিঠে দুটি ও গলায় একটি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পায় পুলিশ। তার শরীরের কিছু অংশ দগ্ধ ছিল বলেও জানান তারা।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ থেকে আলামত সংগ্রহ করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাবিরার ময়নাতদন্ত সম্পন্নের পর পরিবারের কাছে তার লাশ হস্তান্তর করা হয়।

সাবিরার মৃত্যুর ৩৫ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও কে বা কারা, কেন তাকে হত্যা করেছে সে বিষয়ে এখনো জানতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

তবে এ হত্যাকাণ্ডের মামলার আগেই রহস্যের সন্ধানে কাজ শুরু করে দিয়েছেন তারা।

এ ঘটনায় পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে ডিবি পুলিশ। এদের মধ্যে সাবিরার বাসায় সাবলেট থাকা একজন তরুণী ও তার দুই বন্ধু, সাবিরার বাসার খণ্ডকালীন গৃহকর্মী এবং ওই বাসার দারোয়ান রয়েছে।

মহানগরের রমনা ডিবির উপকমিশনার এইচ এম আজিমুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে এসেছি। এ ছাড়া সন্দেহের তালিকায় আরও অনেককেই রাখা হয়েছে। আমরা ধারাবাহিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে যাব। তদন্তাধীন বিষয় নিয়ে এর বেশি এখন বলা যাবে না।

এদিকে ক্রাইম সিন ইউনিট জানিয়েছে, সাবিরাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা (ব্রুটালি কিলড) করা হয়েছে। তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের পর বিছানায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। দাহ্য পদার্থ না থাকায় আগুন তেমন ছড়ায়নি। সাবিরার শরীরের কিছু অংশ এতে দগ্ধ হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক টিমের সন্দেহ, সাবিরাকে রোববার মধ্যরাতে হত্যা করা হয়। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সোমবার সকালে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

ডা. সাবিরা কলাবাগানের ৫০/১ নম্বর বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। তিনি গ্রিন লাইফ হাসপাতালের রেডিওলোজি বিভাগের চিকিৎসক ছিলেন।

শামসুদ্দীন আজাদ সাবিরার দ্বিতীয় স্বামী। তার আগের স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। তিনি চিকিৎসক ছিলেন। দুই ছেলে-মেয়ের মধ্যে ছেলে আগের স্বামীর ঘরের।

সাবিরার মামাতো ভাই জানান,সাবিরার মামাতো ভাই জানান, সাবিরার এক ছেলে, এক মেয়ে। ছেলে বড় মেয়ে ছোট। ছেলে বিবিএ পড়ে, মেয়ের বয়স ১০ বছর। ওনার স্বামী আবুল কালাম আজাদ এখানে থাকেন না। মনোমালিন্যের কারণে এক বছর ধরে আলাদা থাকেন সাবিরা-আজাদ। তবে ওনাদের ভেতরে যোগাযোগ ছিল এবং ভালো সম্পর্ক ছিল।