রাজশাহীতে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আরো কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আজ বুধবার বিকালে এ বিষয়ে কঠোর ১০টি নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জেলা প্রশাসন। এর আগে রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিলের সভাপতিত্বে তাঁর কার্যালয়ে করোনা নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। তাতেই কঠোর লকডাউনের পরিবর্তে নতুন করে ১০টি বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়। পরে জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়।
এদিকে, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় করোনা ইউনিটে আরো সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তাঁরা মারা যান।
হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মারা যাওয়া সাতজনের মধ্যে পাঁচজনের করোনা পজিটিভ ছিল। অন্য দুজন করোনার উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তাই এদেরও নমুনা পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ২৪ ঘণ্টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনজন, রাজশাহীর তিনজন এবং নাটোরের একজন রোগী মারা গেছেন। এদের মধ্যে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ছিলেন দুজন।
আজ বিকেলে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের জারিকৃত ১০ নির্দেশনায় বলা হয়, করোনা সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজশাহীতে এই বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৩ জুন) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই বিধি-নিষেধ চলমান থাকবে।
বিধি-নিষেধগুলো হলো
সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত অতি জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত (ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসাসেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না।
খাবারের দোকান ও হোটেল, রেস্তোরাঁয় কেবল খাদ্য বিক্রয়/সরবরাহ করা যাবে। শপিংমলসহ অন্যান্য দোকানসমূহ বন্ধ থাকবে। তবে দোকানসমূহে পাইকারি ও খুচরা পণ্য অনলাইনের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবে।
কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। বাজার কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে। মাস্ক ব্যবহার শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে।
কভিড-১৯ প্রতিরোধে সিটি করপোরেশন, জেলা সদর, পৌরসভা এলাকাসমূহে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান সামাজিক দূরুত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন/পৌরসভা মাইকিংসহ ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
আইন-শৃঙ্খলা ও জরুরি পরিষেবা ও তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে। তবে টিকা কার্ড প্রদর্শনসাপেক্ষে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করা যাবে।
স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জুমার নামাজসহ প্রতি ওয়াক্ত নামাজে সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশগ্রহণ করতে পারবে। অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও সমসংখ্যক ব্যক্তি উপাসনা করতে পারবে।
আমের আড়ত/বাজার পৃথক জায়গায় ছড়িয়ে আড়তদারদের মাধ্যমে বিক্রয় করা যাবে। তবে, বাগান থেকে আম ট্রাকে করে প্রেরণ করা যাবে। এ ছাড়া কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আম পরিবহন চালু থাকবে। উপজেলা প্রশাসন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক 
























