রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে প্রথম দিনই কঠোরভাবে বিধি-নিষেধ বাস্তবায়ন করলো প্রশাসন

রাজশাহীতে প্রথম দিনই কঠোরভাবে বিধি-নিষেধ বাস্তবায়ন করলো প্রশাসন

সরকারের চলমান লকডাউনের সাথে রাজশাহীতে বিশেষ বিধি-নিষেধ বাড়ানো হয়েছে। প্রথম দিনেই কঠোরভাবে বিধি-নিষেধ বাস্তবায়ন করেছে রাজশাহী জেলা প্রশাসন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটায় নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট, মণি চত্বর ও গণকপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, হাজারো মানুষের ঢল। পাশেই ছিলো জেলা প্রশাসনের কয়েকজন ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের গাড়ি। সন্ধ্যা সাতটা পাঁচ মিনিটে শুরু হলো প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা। কয়েকটি টিম মাঠে নেমে পড়ে। হ্যান্ড মাইকিং করে সকলকে নির্দেশনার বিষয়ে জানান। সকলকে যার যার গন্তব্যস্থলে যেতে বলেন। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো মানুষ ছোট ছোট যানবহনের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন।
যে যেমন ভাবে পেরেছে সবাই যানবহনে করে বাসায় যাওয়া চেষ্টা করেছেন। যানবহন কম থাকায় শত শত মানুষ পায়ে হেঁটে যাতায়াত শুরু করে। সন্ধ্যা সাতটা ২০ মিনিট পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের আরো কয়েকটি টিম আসে গোটা শহরে ব্যবসায়ী ও পথচারীদের জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে সন্ধ্যা সাতটার পরে বাইরে বের না হওয়ার জন্য। প্রতিবেদক একটু এগিয়ে যায়। নগরীর আরডি মার্কেটের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যারা সকল দোকান বন্ধ করে ব্যবসায়ীদের বাইরে বের করার চেষ্টা করছেন। মণিচত্বর, গণকপাড়াসহ সাহেব বাজারের আশেপাশের গোটা এলাকায় এ সময় মানুষের চলাচল অর্ধেক কমে যায়। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় কথা হয় কয়েকজন ব্যবসায়ীদের সাথে। তারা জানান, সন্ধ্যা সাতটার পরেই তারা দোকান বন্ধ করেছেন এখন যানবহনের জন্য অপেক্ষা করছেন। আগামীকাল থেকে নির্দেশনার বিষয়ে সবাই সতর্ক থাকবেন।
সন্ধ্যা ৭ টা ৪০ মিনিটে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে আসেন। কিছুক্ষণ তিনি গোটা এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। তিনি বলেন, ঘোষণা দেয়া হয়েছিলো সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৬ টা পর্যন্ত । আজ প্রথম দিন অনেকে হয়তো বুঝতে পারেনি। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আমরা মাঠে নামার পরে সবাই বাসায় চলে যাচ্ছে। আমরা বোঝানোর চেষ্টা করছি। আগামীকাল পুরো নগরীতে এর চেয়ে দিগুন তৎপরতা থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আগে আমাদের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চারটি টিম মাঠে কাজ করেছে। এখন দুইটি টিম বেড়ে মোট ছয়টি টিম মাঠে কাজ করবে।
প্রসঙ্গত, করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় রাজশাহীতে ছয়টি বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিধিনিষেধের কারণে বৃহস্পতিবার (০৩ জুন) সন্ধ্যা থেকে শপিংমলসহ অন্যান্য দোকানপাট বন্ধ থাকবে। সীমিত করা হয়েছে মানুষের চলাচল। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন বিধিনিষেধ জারি থাকবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাজশাহীতে প্রথম দিনই কঠোরভাবে বিধি-নিষেধ বাস্তবায়ন করলো প্রশাসন

প্রকাশিত সময় : ০৫:৪০:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুন ২০২১
সরকারের চলমান লকডাউনের সাথে রাজশাহীতে বিশেষ বিধি-নিষেধ বাড়ানো হয়েছে। প্রথম দিনেই কঠোরভাবে বিধি-নিষেধ বাস্তবায়ন করেছে রাজশাহী জেলা প্রশাসন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটায় নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট, মণি চত্বর ও গণকপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, হাজারো মানুষের ঢল। পাশেই ছিলো জেলা প্রশাসনের কয়েকজন ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের গাড়ি। সন্ধ্যা সাতটা পাঁচ মিনিটে শুরু হলো প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা। কয়েকটি টিম মাঠে নেমে পড়ে। হ্যান্ড মাইকিং করে সকলকে নির্দেশনার বিষয়ে জানান। সকলকে যার যার গন্তব্যস্থলে যেতে বলেন। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো মানুষ ছোট ছোট যানবহনের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন।
যে যেমন ভাবে পেরেছে সবাই যানবহনে করে বাসায় যাওয়া চেষ্টা করেছেন। যানবহন কম থাকায় শত শত মানুষ পায়ে হেঁটে যাতায়াত শুরু করে। সন্ধ্যা সাতটা ২০ মিনিট পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের আরো কয়েকটি টিম আসে গোটা শহরে ব্যবসায়ী ও পথচারীদের জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে সন্ধ্যা সাতটার পরে বাইরে বের না হওয়ার জন্য। প্রতিবেদক একটু এগিয়ে যায়। নগরীর আরডি মার্কেটের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যারা সকল দোকান বন্ধ করে ব্যবসায়ীদের বাইরে বের করার চেষ্টা করছেন। মণিচত্বর, গণকপাড়াসহ সাহেব বাজারের আশেপাশের গোটা এলাকায় এ সময় মানুষের চলাচল অর্ধেক কমে যায়। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় কথা হয় কয়েকজন ব্যবসায়ীদের সাথে। তারা জানান, সন্ধ্যা সাতটার পরেই তারা দোকান বন্ধ করেছেন এখন যানবহনের জন্য অপেক্ষা করছেন। আগামীকাল থেকে নির্দেশনার বিষয়ে সবাই সতর্ক থাকবেন।
সন্ধ্যা ৭ টা ৪০ মিনিটে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে আসেন। কিছুক্ষণ তিনি গোটা এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। তিনি বলেন, ঘোষণা দেয়া হয়েছিলো সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৬ টা পর্যন্ত । আজ প্রথম দিন অনেকে হয়তো বুঝতে পারেনি। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আমরা মাঠে নামার পরে সবাই বাসায় চলে যাচ্ছে। আমরা বোঝানোর চেষ্টা করছি। আগামীকাল পুরো নগরীতে এর চেয়ে দিগুন তৎপরতা থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আগে আমাদের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চারটি টিম মাঠে কাজ করেছে। এখন দুইটি টিম বেড়ে মোট ছয়টি টিম মাঠে কাজ করবে।
প্রসঙ্গত, করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় রাজশাহীতে ছয়টি বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিধিনিষেধের কারণে বৃহস্পতিবার (০৩ জুন) সন্ধ্যা থেকে শপিংমলসহ অন্যান্য দোকানপাট বন্ধ থাকবে। সীমিত করা হয়েছে মানুষের চলাচল। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন বিধিনিষেধ জারি থাকবে।