শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পুলিশের শাস্তির দাবিতে গাইবান্ধায় হরতাল

পুলিশের শাস্তির দাবিতে গাইবান্ধায় হরতাল

ব্যবসায়ী হাসান হত্যার বিচার ও সদর থানার ওসিসহ দায়িত্বহীন তিন পুলিশ কর্মকর্তার শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার (১০ জুন) গাইবান্ধায় অর্ধদিবস হরতাল পালিত হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করতে দেখা যায় হরতাল সমর্থকদের। নাগরিক সংগঠন হাসান হত্যার প্রতিবাদ মঞ্চের ডাকা হরতালে তুলনামূলক কম চলাচল করছে যানবাহন। শহরের বেশির ভাগ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

হরতালকারীদের অভিযোগ, দাদন ব্যবসায়ী মাসুদ রানা গত ৫ মার্চ ব্যবসায়ী হাসান আলীকে অপহরণ করে। পরিবারের অভিযোগ পেয়ে হাসানকে উদ্ধার করলেও পুলিশ তাকে আবারও মাসুদ রানার জিম্মায় দেয়। হাসানের নামে চেক ডিজঅনারের মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পরবর্তীতে গত ১০ এপ্রিল মাসুদ রানার বাড়ি থেকে হাসানের মরদেহ উদ্ধার হয়।

হাসান হত্যা প্রতিবাদ মঞ্চের সমন্বয়ক আমিনুল ইসলাম গোলাপ বলেন, অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে পুলিশ আবার অপহরণকারীর হাতে তুলে দেওয়ার পর ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় হাসানের স্ত্রী বাদী হয়ে সদর থানার ওসি তদন্ত মজিবুর রহমান, এএসআই মোশাররফের নাম উল্লেখ করে মাসুদ রানাসহ তিনজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।

মামলায় ওই দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ আনা হয়। ঘটনার দিনই গ্রেপ্তার হন জেলা আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক ও দাদন ব্যবসায়ী মাসুদ রানা। এ ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন পুলিশ সুপার। পরে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ওসি তদন্ত মজিবুর ও এএসআই মোশারফকে প্রত্যহার করা হয়।

হাসান হত্যার প্রতিবাদ মঞ্চের সংগঠক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু বলেন, গত ৫ মার্চ জুতা ব্যবসায়ী হাসান আলীকে অপহরণ করে জেলা আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক মাসুদ রানা। হাসানের স্ত্রী থানায় অভিযোগ করলে মাসুদের বাড়ি থেকে উদ্ধারের পর অপহৃত ব্যবসায়ীকে আবারও অপহরণকারী মাসুদের জিম্মায় দেয় পুলিশ। অথচ হাসানের বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনারের মামলায় ওয়ারেন্ট ছিল। হাসানকে সেই ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার না করে পুলিশ কিছুতেই অপহরণকারীর জিম্মায় দিতে পারে না।

টানা এক মাস মাসুদের বাড়িতে আটক অবস্থায় থাকার পর মারা যান ব্যবসায়ী হাসান আলী। এ ঘটনায় দলীয় পদ থেকে রোববার মাসুদকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। কিন্তু এ ঘটনায় সদর থানার ওসি মাহফুজার রহমানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তিনি বলেন, তারা ওসিসহ দায়ী পুলিশের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবিতে এই হরতাল আহ্বান করেন। শহরের মানুষ দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে হরতাল সফল করছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পুলিশের শাস্তির দাবিতে গাইবান্ধায় হরতাল

প্রকাশিত সময় : ১২:৩৯:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুন ২০২১

ব্যবসায়ী হাসান হত্যার বিচার ও সদর থানার ওসিসহ দায়িত্বহীন তিন পুলিশ কর্মকর্তার শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার (১০ জুন) গাইবান্ধায় অর্ধদিবস হরতাল পালিত হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করতে দেখা যায় হরতাল সমর্থকদের। নাগরিক সংগঠন হাসান হত্যার প্রতিবাদ মঞ্চের ডাকা হরতালে তুলনামূলক কম চলাচল করছে যানবাহন। শহরের বেশির ভাগ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

হরতালকারীদের অভিযোগ, দাদন ব্যবসায়ী মাসুদ রানা গত ৫ মার্চ ব্যবসায়ী হাসান আলীকে অপহরণ করে। পরিবারের অভিযোগ পেয়ে হাসানকে উদ্ধার করলেও পুলিশ তাকে আবারও মাসুদ রানার জিম্মায় দেয়। হাসানের নামে চেক ডিজঅনারের মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পরবর্তীতে গত ১০ এপ্রিল মাসুদ রানার বাড়ি থেকে হাসানের মরদেহ উদ্ধার হয়।

হাসান হত্যা প্রতিবাদ মঞ্চের সমন্বয়ক আমিনুল ইসলাম গোলাপ বলেন, অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে পুলিশ আবার অপহরণকারীর হাতে তুলে দেওয়ার পর ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় হাসানের স্ত্রী বাদী হয়ে সদর থানার ওসি তদন্ত মজিবুর রহমান, এএসআই মোশাররফের নাম উল্লেখ করে মাসুদ রানাসহ তিনজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।

মামলায় ওই দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ আনা হয়। ঘটনার দিনই গ্রেপ্তার হন জেলা আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক ও দাদন ব্যবসায়ী মাসুদ রানা। এ ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন পুলিশ সুপার। পরে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ওসি তদন্ত মজিবুর ও এএসআই মোশারফকে প্রত্যহার করা হয়।

হাসান হত্যার প্রতিবাদ মঞ্চের সংগঠক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু বলেন, গত ৫ মার্চ জুতা ব্যবসায়ী হাসান আলীকে অপহরণ করে জেলা আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক মাসুদ রানা। হাসানের স্ত্রী থানায় অভিযোগ করলে মাসুদের বাড়ি থেকে উদ্ধারের পর অপহৃত ব্যবসায়ীকে আবারও অপহরণকারী মাসুদের জিম্মায় দেয় পুলিশ। অথচ হাসানের বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনারের মামলায় ওয়ারেন্ট ছিল। হাসানকে সেই ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার না করে পুলিশ কিছুতেই অপহরণকারীর জিম্মায় দিতে পারে না।

টানা এক মাস মাসুদের বাড়িতে আটক অবস্থায় থাকার পর মারা যান ব্যবসায়ী হাসান আলী। এ ঘটনায় দলীয় পদ থেকে রোববার মাসুদকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। কিন্তু এ ঘটনায় সদর থানার ওসি মাহফুজার রহমানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তিনি বলেন, তারা ওসিসহ দায়ী পুলিশের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবিতে এই হরতাল আহ্বান করেন। শহরের মানুষ দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে হরতাল সফল করছে।