সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডাক্তার এর ভুল চিকিৎসায় রুগী মারা যায়, মৃত ব্যক্তির স্বজনদের দাবি

ওটিতে একাই অপারেশন করেন ডাক্তার, মারা গেলে পাঠিয়ে দেন রামেকে!

ওটিতে একাই অপারেশন করেন ডাক্তার, মারা গেলে পাঠিয়ে দেন রামেকে! লক্ষাধিক টাকার চুক্তিতে ব্রেন টিউমার অস্ত্রোপচার করার দায়িত্ব নেন রাজশাহী রয়্যাল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক ডা. আ ফ ম মোমতাজুল হক।

অথচ, হাসপাতালে ছিল না প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, সহায়ক চিকিৎসক ও নার্স। একাই অস্ত্রোপচার কক্ষে (ওটি) নিয়ে পাঁচ ঘণ্টা রোগীকে কাটাছেঁড়া করেন। এতে ভুল চিকিৎসায় অকালে প্রাণ হারাতে হয় ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত রোগী কুলসুম (৩৮) নামের এক নারীকে। এ ঘটনায় নিহত কুলসুমের স্বামীর বড়ভাই আব্দুল মালেক বুধবার (১৬ জুন) বাদী হয়ে নগরীর রাজপাড়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এ ঘটনায় রয়্যাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক ডা. আ ফ ম মোমতাজুল হককে দায়ী করছেন রোগীর স্বজনরা। তাদের দাবি, চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার কারণে কুলসুমের মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জুন সন্ধ্যার দিকে কুলসুমকে ব্রেন টিউমার অস্ত্রোপচার করানোর জন্য রয়্যাল হাসপাতালে ভর্তি করেন আব্দুল মালেক। অস্ত্রোপচারের জন্য ডা. মোমতাজুল হকের সঙ্গে মৌখিক চুক্তি অনুযায়ী অগ্রিম ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা রয়্যাল হাসপাতালের ক্যাশ কাউন্টারে জমা দেন।

বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাবদ ৩৭ হাজার, ওষুধ বাবদ ৮ হাজার ৮০০ টাকা ও রক্ত বাবদ ২ হাজার টাকা পরিশোধ করেন রোগীর স্বজন আব্দুল মালেক। মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে অস্ত্রোপচার কক্ষে নেয়া হয় রোগীকে। পাঁচ ঘণ্টা পর রাত ৮টার দিকে ওটি থেকে বেরিয়ে ডা. মোমতাজুল হক বলেন, ‘রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে আইসিইউতে নিতে হবে। পরবর্তীতে তিনি কাউকে কিছু না জানিয়েই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় রামেক হাসপাতালের আইসিইউতে রোগীকে পাঠিয়ে দেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীর স্বজনদের বলেন, ‘রোগী ক্লিনিকেই মারা গেছেন।’ নিজেকে বাঁচাতে এবং দায় এড়ানোর জন্য রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়।

অভিযোগকারী আব্দুল মালেকের ভাষ্য, অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। রোগী যন্ত্রণায় ছটফট করার কারণে তার হাত-পা বেঁধে নাকে গজ দেয়া হয়।

ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর কারণে প্রতিবাদ জানালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্থানীয় গুন্ডা দিয়ে হুমকি-ধমকি দেন। তারাই মরদেহ বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দেন। পরে মরদেহ বাড়ি নেয়ার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করে দেন। এ বিষয়ে জানতে ডা. মোমতাজুল হককে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। সহকারী সার্জন সারওয়ার হোসেনকে ফোন দিলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। যে ডাক্তার অপারেশন করেছেন তিনিই ভালো বলতে পারবেন। আমি শুধু তার অপারেশন করার টাকা নিয়ে তাকে পৌঁছে দিয়েছি মাত্র।’ তিনি বলেন, ‘ওই চিকিৎসক রাজশাহীতে নেই। বুধবার বিকেলে ঢাকা গেছেন। কবে ফিরবেন বলতে পারছি না। তবে ঘটনার বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারব না।’

এ বিষয়ে রাজশাহী রয়্যাল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রধান হিসাব সহকারী হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, ‘চিকিৎসকদের কথায় আমাদের চলতে হয়। তারা এখানে চিকিৎসা করেন, টাকা নেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে একটি ফি প্রদান করেন।

তাছাড়া এ ঘটনাটি আমার জানা নেই। ম্যানেজার সাহেবের মেয়ে অসুস্থ থাকায় তিনিও ঘটনাটি জানেন না।’ রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগকারী আব্দুল মালেককে চিকিৎসাপত্রসহ যাবতীয় পেপার্স নিয়ে আসতে বলা হয়েছে।

বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ডাক্তার এর ভুল চিকিৎসায় রুগী মারা যায়, মৃত ব্যক্তির স্বজনদের দাবি

প্রকাশিত সময় : ০১:০৬:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১

ওটিতে একাই অপারেশন করেন ডাক্তার, মারা গেলে পাঠিয়ে দেন রামেকে! লক্ষাধিক টাকার চুক্তিতে ব্রেন টিউমার অস্ত্রোপচার করার দায়িত্ব নেন রাজশাহী রয়্যাল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক ডা. আ ফ ম মোমতাজুল হক।

অথচ, হাসপাতালে ছিল না প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, সহায়ক চিকিৎসক ও নার্স। একাই অস্ত্রোপচার কক্ষে (ওটি) নিয়ে পাঁচ ঘণ্টা রোগীকে কাটাছেঁড়া করেন। এতে ভুল চিকিৎসায় অকালে প্রাণ হারাতে হয় ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত রোগী কুলসুম (৩৮) নামের এক নারীকে। এ ঘটনায় নিহত কুলসুমের স্বামীর বড়ভাই আব্দুল মালেক বুধবার (১৬ জুন) বাদী হয়ে নগরীর রাজপাড়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এ ঘটনায় রয়্যাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক ডা. আ ফ ম মোমতাজুল হককে দায়ী করছেন রোগীর স্বজনরা। তাদের দাবি, চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার কারণে কুলসুমের মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জুন সন্ধ্যার দিকে কুলসুমকে ব্রেন টিউমার অস্ত্রোপচার করানোর জন্য রয়্যাল হাসপাতালে ভর্তি করেন আব্দুল মালেক। অস্ত্রোপচারের জন্য ডা. মোমতাজুল হকের সঙ্গে মৌখিক চুক্তি অনুযায়ী অগ্রিম ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা রয়্যাল হাসপাতালের ক্যাশ কাউন্টারে জমা দেন।

বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাবদ ৩৭ হাজার, ওষুধ বাবদ ৮ হাজার ৮০০ টাকা ও রক্ত বাবদ ২ হাজার টাকা পরিশোধ করেন রোগীর স্বজন আব্দুল মালেক। মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে অস্ত্রোপচার কক্ষে নেয়া হয় রোগীকে। পাঁচ ঘণ্টা পর রাত ৮টার দিকে ওটি থেকে বেরিয়ে ডা. মোমতাজুল হক বলেন, ‘রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে আইসিইউতে নিতে হবে। পরবর্তীতে তিনি কাউকে কিছু না জানিয়েই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় রামেক হাসপাতালের আইসিইউতে রোগীকে পাঠিয়ে দেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীর স্বজনদের বলেন, ‘রোগী ক্লিনিকেই মারা গেছেন।’ নিজেকে বাঁচাতে এবং দায় এড়ানোর জন্য রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়।

অভিযোগকারী আব্দুল মালেকের ভাষ্য, অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। রোগী যন্ত্রণায় ছটফট করার কারণে তার হাত-পা বেঁধে নাকে গজ দেয়া হয়।

ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর কারণে প্রতিবাদ জানালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্থানীয় গুন্ডা দিয়ে হুমকি-ধমকি দেন। তারাই মরদেহ বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দেন। পরে মরদেহ বাড়ি নেয়ার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করে দেন। এ বিষয়ে জানতে ডা. মোমতাজুল হককে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। সহকারী সার্জন সারওয়ার হোসেনকে ফোন দিলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। যে ডাক্তার অপারেশন করেছেন তিনিই ভালো বলতে পারবেন। আমি শুধু তার অপারেশন করার টাকা নিয়ে তাকে পৌঁছে দিয়েছি মাত্র।’ তিনি বলেন, ‘ওই চিকিৎসক রাজশাহীতে নেই। বুধবার বিকেলে ঢাকা গেছেন। কবে ফিরবেন বলতে পারছি না। তবে ঘটনার বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারব না।’

এ বিষয়ে রাজশাহী রয়্যাল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রধান হিসাব সহকারী হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, ‘চিকিৎসকদের কথায় আমাদের চলতে হয়। তারা এখানে চিকিৎসা করেন, টাকা নেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে একটি ফি প্রদান করেন।

তাছাড়া এ ঘটনাটি আমার জানা নেই। ম্যানেজার সাহেবের মেয়ে অসুস্থ থাকায় তিনিও ঘটনাটি জানেন না।’ রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগকারী আব্দুল মালেককে চিকিৎসাপত্রসহ যাবতীয় পেপার্স নিয়ে আসতে বলা হয়েছে।

বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে