শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামিন হচ্ছে না, আমি পাগল হয়ে যাব: আদালতে পরী মনি

রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় তৃতীয় দফায় একদিনের রিমান্ড শেষে চিত্রনায়িকা পরী মনিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শনিবার (২১ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমামের আদালত এ আদেশ দেন।

শুনানি শেষে পরী মনি এজলাসে দাঁড়িয়ে আইনজীবীদের বলেন, আপনারা জামিন দিতে পারছেন না, বুঝতে পারছেন আমি পাগল হয়ে যাব।

পরী মনির এ কথার প্রেক্ষিতে তার আইনজীবী নিলাঞ্জনা রিফাত সুরভি বলেন, পরী মনিকে বার বার রিমান্ড নেওয়া হচ্ছে। সে খুব অসুস্থ। জামিন হচ্ছে না বলে সে একথা বলেছে।

এর আগে বেলা ১১টা ৫১ মিনিটে রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতে হাজির করে অপরাধ তদন্ত সংস্থা সিআইডি। হাজির করার পর তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।

এরপর আসামির উপস্থিতিতে শুনানি করার জন্য আদালতে একটি পিটিশন দাখিল করেন পরী মনির আইনজীবী। আদালত এটি মঞ্জুর করেন। শুনানি শুরু হলে মাদক মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চিত্রনায়িকা পরী মনিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক কাজী গোলাম মোস্তফা।

তবে এর বিরোধিতা করে আইনজীবী বলেন, কোর্টে পরী মনির সঙ্গে আইনি বিষয়ে কথা বলার জন্য আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। এটি সেন্সিটিভ মামলা। এটি ছাড়া আর অন্য মামলায় আমরা আসামিদের সঙ্গে কথা বলতে পারি। এটা কেন নয়। মামলার বিষয়ে জানতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিন। কোনো আইনজীবী তার সঙ্গে কোনো কথা বলতে পারছে না। তবে আদালত কথা বলার বিষয়টি নামঞ্জুর করে তাকে আবারও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ মামলায় পরী মনিকে তৃতীয় দফায় একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। সেদিন পরী মনি আইনজীবীদের বলেন, আমি এখানে থাকতে পারছি না। আমি খুবই অসুস্থ। হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে। জেলে থাকলে আমার অবস্থা আরও সংকটাপূর্ণ হতে পারে। দয়া করে আমার জন্য কিছু করুন। পরী মনির আইনজীবী মজিবুর রহমান এ কথা বলার বিষয়টি জানান।

গত ৪ আগস্ট বনানীর বাসা থেকে পরী মনিসহ ৩ জনকে দেশি বিদেশি মদের বোতল ও এলএসডি মাদকসহ আটক করে র‌্যাব। পরে বনানী থানায় র‍্যাব বাদী হয়ে পরী মনি ও তার সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপুকে বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে।

এ মামলায় প্রথম দফায় ৫ আগস্ট চারদিন এবং ১০ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর ১৩ আগস্ট পরী মনিকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর ১৬ আগস্ট তাকে ফের ৫ দিনের রিমান্ড চেয়েছিল সিআইডি। পরে ১৯ আগস্ট তাকে একদিনের রিমান্ড দেওয়া হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জামিন হচ্ছে না, আমি পাগল হয়ে যাব: আদালতে পরী মনি

প্রকাশিত সময় : ০৪:১১:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ অগাস্ট ২০২১

রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় তৃতীয় দফায় একদিনের রিমান্ড শেষে চিত্রনায়িকা পরী মনিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শনিবার (২১ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমামের আদালত এ আদেশ দেন।

শুনানি শেষে পরী মনি এজলাসে দাঁড়িয়ে আইনজীবীদের বলেন, আপনারা জামিন দিতে পারছেন না, বুঝতে পারছেন আমি পাগল হয়ে যাব।

পরী মনির এ কথার প্রেক্ষিতে তার আইনজীবী নিলাঞ্জনা রিফাত সুরভি বলেন, পরী মনিকে বার বার রিমান্ড নেওয়া হচ্ছে। সে খুব অসুস্থ। জামিন হচ্ছে না বলে সে একথা বলেছে।

এর আগে বেলা ১১টা ৫১ মিনিটে রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতে হাজির করে অপরাধ তদন্ত সংস্থা সিআইডি। হাজির করার পর তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।

এরপর আসামির উপস্থিতিতে শুনানি করার জন্য আদালতে একটি পিটিশন দাখিল করেন পরী মনির আইনজীবী। আদালত এটি মঞ্জুর করেন। শুনানি শুরু হলে মাদক মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চিত্রনায়িকা পরী মনিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক কাজী গোলাম মোস্তফা।

তবে এর বিরোধিতা করে আইনজীবী বলেন, কোর্টে পরী মনির সঙ্গে আইনি বিষয়ে কথা বলার জন্য আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। এটি সেন্সিটিভ মামলা। এটি ছাড়া আর অন্য মামলায় আমরা আসামিদের সঙ্গে কথা বলতে পারি। এটা কেন নয়। মামলার বিষয়ে জানতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিন। কোনো আইনজীবী তার সঙ্গে কোনো কথা বলতে পারছে না। তবে আদালত কথা বলার বিষয়টি নামঞ্জুর করে তাকে আবারও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ মামলায় পরী মনিকে তৃতীয় দফায় একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। সেদিন পরী মনি আইনজীবীদের বলেন, আমি এখানে থাকতে পারছি না। আমি খুবই অসুস্থ। হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে। জেলে থাকলে আমার অবস্থা আরও সংকটাপূর্ণ হতে পারে। দয়া করে আমার জন্য কিছু করুন। পরী মনির আইনজীবী মজিবুর রহমান এ কথা বলার বিষয়টি জানান।

গত ৪ আগস্ট বনানীর বাসা থেকে পরী মনিসহ ৩ জনকে দেশি বিদেশি মদের বোতল ও এলএসডি মাদকসহ আটক করে র‌্যাব। পরে বনানী থানায় র‍্যাব বাদী হয়ে পরী মনি ও তার সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপুকে বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে।

এ মামলায় প্রথম দফায় ৫ আগস্ট চারদিন এবং ১০ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর ১৩ আগস্ট পরী মনিকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর ১৬ আগস্ট তাকে ফের ৫ দিনের রিমান্ড চেয়েছিল সিআইডি। পরে ১৯ আগস্ট তাকে একদিনের রিমান্ড দেওয়া হয়।