শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রেমে বাধা দেওয়ায় নৌকার মাঝিকে কুপিয়ে হত্যা, যুবক গ্রেপ্তার

প্রেমে বাধা দেওয়ার ঘটনায় আরজু (২৭) নামের এক নৌকার মাঝিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হওয়া বাইজিদ বোস্তামী (১৮) ওই হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বাকি দুইজনকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। এ নিয়ে সোমবার (৩০ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গুরুদাসপুর থানা পুলিশ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত আরজু মাঝি সিংড়া উপজেলার চামারি ইউনিয়নের আনন্দনগর গ্রামের কদম আলীর ছেলে। অভিযুক্ত বাইজিদ গুরুদাসপুর উপজেলার বিলহরিবাড়ি গ্রামের নাছির বোস্তামীর ছেলে।

পুলিশ জানিয়েছে, আরজু মাঝির প্রতিবেশি এক স্কুলছাত্রীর সঙ্গে বাইজিদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সেই সূত্র ধরে বাইজিদ ওই গ্রামে ঘন ঘন যাতায়াত শুরু করে। সম্প্রতি মেয়ে ঘটিত ওই বিষয় নিয়ে আনন্দনগর গ্রামে বাইজিদ ও তার তিন বন্ধুর সঙ্গে আরজু মাঝির বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।

স্বীকারোক্তিতে অভিযুক্ত বাইজিদ জানিয়েছে, মূলত প্রেমে বাধা দিয়ে তাদের লাঞ্চিত করার প্রতিশোধ হিসেবেই আরজু মাঝিকে তিন বন্ধু মিলে কুপিয়ে হত্যা করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলনবিল ভ্রমণের জন্য কৌশলে ৭শ টাকায় আরজু মাঝির নৌকা ভাড়ায় নেয় অভিযুক্ত বাইজিদ ও তার বন্ধুরা। সন্ধার পর আরজু মাঝি তার নৌকায় বাইজিদদের নিয়ে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ঘটনার রাতে নৌকাটি গুরুদাসপুর উপজেলার হরদমা বিলে পৌঁছালে নৌকা থামিয়ে বাইজিদ ও তার বন্ধুরা মিলে গাঁজা সেবন করে।

একপর্যায়ে বাইজিদের দুই বন্ধুর একজন আরজু মাঝির পা ও গলা ধরে রশি দিয়ে নৌকার সঙ্গে বেঁধে ফেলে। এ সময় বাইজিদ আরজু মাঝিকে প্রেমে বাধা দেওয়ার কথা বলে। প্রতিশোধ হিসেবে আরজু মাঝিকে খুন করার কথা জানায়। এ সময় আরজু মাফ চেয়ে বাঁচার আকুতি জানান। তাতেও মন গলেনি অভিযুক্তদের। এ সময় ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে তারা। টাকা আসতে দেরি হওয়ায় বাইজিদের একবন্ধু চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আরজু মাঝির মাথার পিছনে উপর্যপুরি কোপাতে থাকে। এতে আরজু নিস্তেজ হয়ে পড়লে বাঁধন খুলে বিলের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।

এর আগে, শনিবার গুরুদাসপুর উপজেলার বিলশা বিল থেকে সকাল ৯টার দিকে পুলিশ আরজু মাঝির ভাসমান লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তিনজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। সবশেষ রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে অভিযুক্ত বাইজিদকে গুরুদাসপুর উপজেলার বেড়গঙ্গারামপুর গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার অপর দুই বন্ধু পলাতক রয়েছে।

গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, নিহত আরজু মাঝির হত্যাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বাইজিদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রেমে বাধা দেওয়ায় নৌকার মাঝিকে কুপিয়ে হত্যা, যুবক গ্রেপ্তার

প্রকাশিত সময় : ০৮:০৮:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ অগাস্ট ২০২১

প্রেমে বাধা দেওয়ার ঘটনায় আরজু (২৭) নামের এক নৌকার মাঝিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হওয়া বাইজিদ বোস্তামী (১৮) ওই হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বাকি দুইজনকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। এ নিয়ে সোমবার (৩০ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গুরুদাসপুর থানা পুলিশ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত আরজু মাঝি সিংড়া উপজেলার চামারি ইউনিয়নের আনন্দনগর গ্রামের কদম আলীর ছেলে। অভিযুক্ত বাইজিদ গুরুদাসপুর উপজেলার বিলহরিবাড়ি গ্রামের নাছির বোস্তামীর ছেলে।

পুলিশ জানিয়েছে, আরজু মাঝির প্রতিবেশি এক স্কুলছাত্রীর সঙ্গে বাইজিদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সেই সূত্র ধরে বাইজিদ ওই গ্রামে ঘন ঘন যাতায়াত শুরু করে। সম্প্রতি মেয়ে ঘটিত ওই বিষয় নিয়ে আনন্দনগর গ্রামে বাইজিদ ও তার তিন বন্ধুর সঙ্গে আরজু মাঝির বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।

স্বীকারোক্তিতে অভিযুক্ত বাইজিদ জানিয়েছে, মূলত প্রেমে বাধা দিয়ে তাদের লাঞ্চিত করার প্রতিশোধ হিসেবেই আরজু মাঝিকে তিন বন্ধু মিলে কুপিয়ে হত্যা করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলনবিল ভ্রমণের জন্য কৌশলে ৭শ টাকায় আরজু মাঝির নৌকা ভাড়ায় নেয় অভিযুক্ত বাইজিদ ও তার বন্ধুরা। সন্ধার পর আরজু মাঝি তার নৌকায় বাইজিদদের নিয়ে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ঘটনার রাতে নৌকাটি গুরুদাসপুর উপজেলার হরদমা বিলে পৌঁছালে নৌকা থামিয়ে বাইজিদ ও তার বন্ধুরা মিলে গাঁজা সেবন করে।

একপর্যায়ে বাইজিদের দুই বন্ধুর একজন আরজু মাঝির পা ও গলা ধরে রশি দিয়ে নৌকার সঙ্গে বেঁধে ফেলে। এ সময় বাইজিদ আরজু মাঝিকে প্রেমে বাধা দেওয়ার কথা বলে। প্রতিশোধ হিসেবে আরজু মাঝিকে খুন করার কথা জানায়। এ সময় আরজু মাফ চেয়ে বাঁচার আকুতি জানান। তাতেও মন গলেনি অভিযুক্তদের। এ সময় ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে তারা। টাকা আসতে দেরি হওয়ায় বাইজিদের একবন্ধু চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আরজু মাঝির মাথার পিছনে উপর্যপুরি কোপাতে থাকে। এতে আরজু নিস্তেজ হয়ে পড়লে বাঁধন খুলে বিলের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।

এর আগে, শনিবার গুরুদাসপুর উপজেলার বিলশা বিল থেকে সকাল ৯টার দিকে পুলিশ আরজু মাঝির ভাসমান লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তিনজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। সবশেষ রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে অভিযুক্ত বাইজিদকে গুরুদাসপুর উপজেলার বেড়গঙ্গারামপুর গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার অপর দুই বন্ধু পলাতক রয়েছে।

গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, নিহত আরজু মাঝির হত্যাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বাইজিদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।