সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঐতিহাসিক সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। এবারই প্রথম ব্ল্যাক ক্যাপদের টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে প্রথমবারের মতো সিরিজে হারিয়ে নবতুন ইতিহাস গড়ল টাইগাররা। পাঁচ ম্যাচ সিরিজে এখন তারা এগিয়ে ৩-১ ব্যবধানে। সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি শুক্রবার।

লক্ষ্য ছিল মাত্র ৯৪। কিন্তু তা করতেও শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করতে হল বাংলাদেশকে। নিয়মিত উইকেট হারানোর সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চাপেই পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তারপরও অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে শেষ হাসি হেসে সিরিজ নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। এই নিয়ে টানা তিন সিরিজ জিতল বাংলাদেশ।

এদিন সিরিজ নিশ্চিতের ম্যাচেও সুযোগ লুফে নিতে ব্যর্থ লিটন দাস। স্কোরবোর্ডে ৮ রান তুলতেই ব্যক্তিগত ৬ রানে কোল ম্যাকনকির বলে ফিন অ্যালেনকে ক্যাচ দিয়ে বসেন লিটন। এরপর ক্রিজে নেমে নাঈমের সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন সাকিব। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগে এজাজ প্যাটেলকে সামনে এগিয়ে মারতে গিয়ে স্টাম্পিং হন সাকিব।

৮ বলে করেন ৮ রান। এর ৩ বল পরই এই স্পিনারকে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন মুশফিক। ০ রানে বিদায় নেন অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার। ৩ উইকেট হারালেও না ওপেনার নাইম শেখকে সঙ্গে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন মাহমুদউল্লাহ।

নিউজিল্যান্ডের স্পিনারদের দেখে শুনে ভালোই সামাল দেন দুজন। তবে ১৫তম ওভারে ৩৫ বলে ২৯ রানে ফেরেন তিনি। এরপর আফিফ নামলেও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে স্বাগতিকদের চাপে ফেলে দেয় নিউজিল্যান্ড। শেষ ১৮ বলে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন হয় ১৮ রানের।

সেই ওভারে আসে গুরুত্বপূর্ণ ৭ রান। কিন্তু ১৯তম ওভারের প্রথম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে নিয়ে নেয় বাংলাদেশ। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকায়নি টাইগাররা। ১৯তম ওভারের প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৬ উইকেটে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন আফিফ।

সিরিজ জিততে মাঠে নামা বাংলাদেশের পক্ষে যায়নি টস ভাগ্য। গত ম্যাচের মতো এদিনও টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিতে সময় নেননি টম লাথাম। তবে কিউই অধিনায়কের এই সিদ্ধান্তের প্রতিদান নিতে পারেননি তার দলের ব্যাটাররা। নাসুম আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানের বোলিংয়ের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করে ১৯.৩ ওভারে মাত্র ৯৩ রানেই গুঁটিয়ে গেছে সফরকারীরা।

নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং ইনিংসের প্রথম ওভারের ৪ বল ডট যাওয়ার পয় পঞ্চম বলে নাসুম আহমেদকে সুইপ করতে গিয়ে মিড উইকেটে সাইফউদ্দিনের হাতে ধরা পড়েন তিনি। তার বিদায়ে ক্রিজে আসেন লাথাম। উইকেট হারালেও অপরপ্রান্তে থাকা ফিন অ্যালেন আক্রমণাত্মক মনোভাবে খেলে স্কোরবোর্ডে রান যোগ করতে থাকেন।

রিভার্স সুইপে ছক্কা হাঁকিয়ে সাকিবের ওভারে নেন ১০ রান। কিন্তু পরের ওভারে একই শট খেলতে গিয়ে সাইফউদ্দিনের হাতে ধরা পড়েন এই ওপেনারও। এরপর উইল ইয়াং এবং ল্যাথামের ব্যাটে পাওয়ার প্লে শেষে কিউইদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ২২ রান।

পাওয়ার প্লে শেষেও নিয়ন্ত্রিত বোলিং চালিয়ে যায় বাংলাদেশ। ফলে ১০ ওভার পর্যন্ত ৫’র ওপর রান রেটে উঠেনি নিউজিল্যান্ডের। এরপর ১১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে শেখ মেহেদীর ফ্লাইটেড ডিলেভারিকে এগিয়ে এসে সিঙ্গেল নিতে গিয়ে স্টাম্পিং হন লাথাম। ২৬ বলে ২১ রান করে ফেরেন তিনি।

পরের ওভারে নাসুমের দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড হন নিকোলস। এরপরের বলেই গ্র্যান্ডহোমকেও প্যাভিলিয়নের পথ দেখান বাঁহাতি এই স্পিনার। তবে হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি করা নাসুম শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেও ব্লান্ডেলকে ফেরাতে পারেননি।  ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে মাত্র ১০ রানে ৪টি উইকেট নিয়েছেন এই স্পিনার। এই ৪ ওভারের মধ্যে দুটিই নিয়েছেন উইকেট মেইডেন। ইনিংসের প্রথম ওভারে মেইডেনের পর ১২তম ওভারে এসেও রান খরচ করেননি নাসুম। তাতেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এক ম্যাচে দুটি মেইডেন ওভার করা দ্বিতীয় বাংলাদেশি বোলার হওয়ার কীর্তি গড়েছেন বাঁহাতি এই স্পিনার। বিশ্বের ৩৩তম বোলার হিসেবে এই রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন নাসুম।

নাসুমের আগে কোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দুটি মেইডেন দেয়া একমাত্র বাংলাদেশি ছিলেন নাজমুল ইসলাম অপু। তিনিও বাঁহাতি স্পিনার। ২০১৮ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে নাজমুল অপুর বোলিং ফিগার ছিল ৪-২-১৪-০।

উইল ইয়াংয়ের বুলেট গতির স্ট্রেইট ড্রাইভ ঠেকাতে হাত বাড়িয়ে দিলেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। তবে ঠিক মতো পারলেন না এই অলরাউন্ডার। উল্টো আঙুলে চোট পেয়ে ফিজিওর সঙ্গে মাঠ ছাড়লেন তিনি। ইনিংসের শেষ পর্যায়ে এসে ডেথের স্পেশালিস্ট বোলারকে হারায় বাংলাদেশ। পরে অবশ্য সাইফউদ্দিন মাঠে ফেরেন।

আগের ম্যাচে ষষ্ঠ উইকেটে হেনরি নিকোলসের সঙ্গে চমৎকার এক জুটিতে নিউ জিল্যান্ডকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিয়েছিলেন টম ব্লান্ডেল। নিকোলস ফিরে গেছেন আগেই। এবার ব্লান্ডেলকে দ্রুত বিদায় করেন মুস্তাফিজ। বাঁহাতি পেসারের মাথার ওপর দিয়ে তুলে মেরেছিলেন ব্লান্ডেল। মারে খুব একটা জোর ছিল না। কিছুটা সরে গিয়ে গিয়ে মিড অনের ফিল্ডার নাঈম ঝাঁপিয়ে মুঠোয় জমান অসাধারণ এক ক্যাচ।

একের পর এক কাটারে কোল ম্যাকনকিকে ভোগাচ্ছিলেন মুস্তাফিজ। ব্যাটসম্যান বুঝতে পারছিলেন না কীভাবে খেলবেন। শেষ পর্যন্ত আগেভাগেই শট খেলে দিলেন ক্যাচ, ফলো থ্রুয়ে ঝাঁপিয়ে চমৎকার ক্যাচ নিলেন মুস্তাফিজ। ১৬ ওভারে নিউজিল্যান্ডের স্কোর হয়ে যায় ৭ উইকেটে ৭৪।

১৯তম ওভারে বোলিংয়ে এসে দারুণ এক ইয়র্কারে এজাজ প্যাটেলকে ফেরান সাইফউদ্দিন। ১৯ ওভার শেষে কিউইদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ৯২ রান। শেষ ওভারে বোলিংয়ে এসে ৪৮ বলে ৪৬ রান করা ইয়াংকে ফেরান মুস্তাফিজ। এরপরের বলে টিকনারকেও বিদায় করেন তিনি। নিউজিল্যান্ড থামে ৯৩ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

নিউজিল্যান্ড: ৯৩ অল আউট (ইয়াং ৪৬) (নাসুম ১০/৪, মুস্তাফিজ ৪/১২)

বাংলাদেশ: ৯৪/৪(১৯.২ ওভার) (নাইম ২৯, মাহমুদউল্লাহ ৩৯*) (প্যাটেল ২/৯)

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ বারের মতো হাল্ট প্রাইজ’র গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত

ঐতিহাসিক সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

প্রকাশিত সময় : ০৯:০৯:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। এবারই প্রথম ব্ল্যাক ক্যাপদের টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে প্রথমবারের মতো সিরিজে হারিয়ে নবতুন ইতিহাস গড়ল টাইগাররা। পাঁচ ম্যাচ সিরিজে এখন তারা এগিয়ে ৩-১ ব্যবধানে। সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি শুক্রবার।

লক্ষ্য ছিল মাত্র ৯৪। কিন্তু তা করতেও শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করতে হল বাংলাদেশকে। নিয়মিত উইকেট হারানোর সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চাপেই পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তারপরও অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে শেষ হাসি হেসে সিরিজ নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। এই নিয়ে টানা তিন সিরিজ জিতল বাংলাদেশ।

এদিন সিরিজ নিশ্চিতের ম্যাচেও সুযোগ লুফে নিতে ব্যর্থ লিটন দাস। স্কোরবোর্ডে ৮ রান তুলতেই ব্যক্তিগত ৬ রানে কোল ম্যাকনকির বলে ফিন অ্যালেনকে ক্যাচ দিয়ে বসেন লিটন। এরপর ক্রিজে নেমে নাঈমের সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন সাকিব। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগে এজাজ প্যাটেলকে সামনে এগিয়ে মারতে গিয়ে স্টাম্পিং হন সাকিব।

৮ বলে করেন ৮ রান। এর ৩ বল পরই এই স্পিনারকে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন মুশফিক। ০ রানে বিদায় নেন অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার। ৩ উইকেট হারালেও না ওপেনার নাইম শেখকে সঙ্গে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন মাহমুদউল্লাহ।

নিউজিল্যান্ডের স্পিনারদের দেখে শুনে ভালোই সামাল দেন দুজন। তবে ১৫তম ওভারে ৩৫ বলে ২৯ রানে ফেরেন তিনি। এরপর আফিফ নামলেও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে স্বাগতিকদের চাপে ফেলে দেয় নিউজিল্যান্ড। শেষ ১৮ বলে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন হয় ১৮ রানের।

সেই ওভারে আসে গুরুত্বপূর্ণ ৭ রান। কিন্তু ১৯তম ওভারের প্রথম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে নিয়ে নেয় বাংলাদেশ। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকায়নি টাইগাররা। ১৯তম ওভারের প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৬ উইকেটে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন আফিফ।

সিরিজ জিততে মাঠে নামা বাংলাদেশের পক্ষে যায়নি টস ভাগ্য। গত ম্যাচের মতো এদিনও টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিতে সময় নেননি টম লাথাম। তবে কিউই অধিনায়কের এই সিদ্ধান্তের প্রতিদান নিতে পারেননি তার দলের ব্যাটাররা। নাসুম আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানের বোলিংয়ের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করে ১৯.৩ ওভারে মাত্র ৯৩ রানেই গুঁটিয়ে গেছে সফরকারীরা।

নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং ইনিংসের প্রথম ওভারের ৪ বল ডট যাওয়ার পয় পঞ্চম বলে নাসুম আহমেদকে সুইপ করতে গিয়ে মিড উইকেটে সাইফউদ্দিনের হাতে ধরা পড়েন তিনি। তার বিদায়ে ক্রিজে আসেন লাথাম। উইকেট হারালেও অপরপ্রান্তে থাকা ফিন অ্যালেন আক্রমণাত্মক মনোভাবে খেলে স্কোরবোর্ডে রান যোগ করতে থাকেন।

রিভার্স সুইপে ছক্কা হাঁকিয়ে সাকিবের ওভারে নেন ১০ রান। কিন্তু পরের ওভারে একই শট খেলতে গিয়ে সাইফউদ্দিনের হাতে ধরা পড়েন এই ওপেনারও। এরপর উইল ইয়াং এবং ল্যাথামের ব্যাটে পাওয়ার প্লে শেষে কিউইদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ২২ রান।

পাওয়ার প্লে শেষেও নিয়ন্ত্রিত বোলিং চালিয়ে যায় বাংলাদেশ। ফলে ১০ ওভার পর্যন্ত ৫’র ওপর রান রেটে উঠেনি নিউজিল্যান্ডের। এরপর ১১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে শেখ মেহেদীর ফ্লাইটেড ডিলেভারিকে এগিয়ে এসে সিঙ্গেল নিতে গিয়ে স্টাম্পিং হন লাথাম। ২৬ বলে ২১ রান করে ফেরেন তিনি।

পরের ওভারে নাসুমের দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড হন নিকোলস। এরপরের বলেই গ্র্যান্ডহোমকেও প্যাভিলিয়নের পথ দেখান বাঁহাতি এই স্পিনার। তবে হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি করা নাসুম শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেও ব্লান্ডেলকে ফেরাতে পারেননি।  ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে মাত্র ১০ রানে ৪টি উইকেট নিয়েছেন এই স্পিনার। এই ৪ ওভারের মধ্যে দুটিই নিয়েছেন উইকেট মেইডেন। ইনিংসের প্রথম ওভারে মেইডেনের পর ১২তম ওভারে এসেও রান খরচ করেননি নাসুম। তাতেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এক ম্যাচে দুটি মেইডেন ওভার করা দ্বিতীয় বাংলাদেশি বোলার হওয়ার কীর্তি গড়েছেন বাঁহাতি এই স্পিনার। বিশ্বের ৩৩তম বোলার হিসেবে এই রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন নাসুম।

নাসুমের আগে কোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দুটি মেইডেন দেয়া একমাত্র বাংলাদেশি ছিলেন নাজমুল ইসলাম অপু। তিনিও বাঁহাতি স্পিনার। ২০১৮ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে নাজমুল অপুর বোলিং ফিগার ছিল ৪-২-১৪-০।

উইল ইয়াংয়ের বুলেট গতির স্ট্রেইট ড্রাইভ ঠেকাতে হাত বাড়িয়ে দিলেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। তবে ঠিক মতো পারলেন না এই অলরাউন্ডার। উল্টো আঙুলে চোট পেয়ে ফিজিওর সঙ্গে মাঠ ছাড়লেন তিনি। ইনিংসের শেষ পর্যায়ে এসে ডেথের স্পেশালিস্ট বোলারকে হারায় বাংলাদেশ। পরে অবশ্য সাইফউদ্দিন মাঠে ফেরেন।

আগের ম্যাচে ষষ্ঠ উইকেটে হেনরি নিকোলসের সঙ্গে চমৎকার এক জুটিতে নিউ জিল্যান্ডকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিয়েছিলেন টম ব্লান্ডেল। নিকোলস ফিরে গেছেন আগেই। এবার ব্লান্ডেলকে দ্রুত বিদায় করেন মুস্তাফিজ। বাঁহাতি পেসারের মাথার ওপর দিয়ে তুলে মেরেছিলেন ব্লান্ডেল। মারে খুব একটা জোর ছিল না। কিছুটা সরে গিয়ে গিয়ে মিড অনের ফিল্ডার নাঈম ঝাঁপিয়ে মুঠোয় জমান অসাধারণ এক ক্যাচ।

একের পর এক কাটারে কোল ম্যাকনকিকে ভোগাচ্ছিলেন মুস্তাফিজ। ব্যাটসম্যান বুঝতে পারছিলেন না কীভাবে খেলবেন। শেষ পর্যন্ত আগেভাগেই শট খেলে দিলেন ক্যাচ, ফলো থ্রুয়ে ঝাঁপিয়ে চমৎকার ক্যাচ নিলেন মুস্তাফিজ। ১৬ ওভারে নিউজিল্যান্ডের স্কোর হয়ে যায় ৭ উইকেটে ৭৪।

১৯তম ওভারে বোলিংয়ে এসে দারুণ এক ইয়র্কারে এজাজ প্যাটেলকে ফেরান সাইফউদ্দিন। ১৯ ওভার শেষে কিউইদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ৯২ রান। শেষ ওভারে বোলিংয়ে এসে ৪৮ বলে ৪৬ রান করা ইয়াংকে ফেরান মুস্তাফিজ। এরপরের বলে টিকনারকেও বিদায় করেন তিনি। নিউজিল্যান্ড থামে ৯৩ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

নিউজিল্যান্ড: ৯৩ অল আউট (ইয়াং ৪৬) (নাসুম ১০/৪, মুস্তাফিজ ৪/১২)

বাংলাদেশ: ৯৪/৪(১৯.২ ওভার) (নাইম ২৯, মাহমুদউল্লাহ ৩৯*) (প্যাটেল ২/৯)