শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জুমআর দিন সবার আগে মসজিদে যাবেন কেন?

মুসলমানদের সাপ্তাহিক ইবাদতের মর্যাদা ও ফজিলতপূর্ণ দিন জুমআ। ইবাদতের বিশেষ এ দিনটিকে ইয়াহুদি-নাসারারা গ্রহণ করেনি। কিন্তু মুসলিম উম্মাহ এ দিনটিকে গ্রহণ করেছে। আর এ দিন ব্যবসা-বাণিজ্য ও ব্যস্ততা ফেলে দ্রুত নামাজে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা। কিন্তু দ্রুত আগে মসজিদে যাওয়ার বিশেষ মর্যাদা কী?

প্রথমত : আল্লাহর নির্দেশ
জুমআর আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত মসজিদে যাওয়া মহান আল্লাহর নির্দেশ। এ দিনটি আল্লাহর কে স্মরণ করার এবং মসজিদে উপস্থিত হওয়ার বিশেষ দিন। কোরআনুল কারিমে স্বয়ং আল্লাহ দ্রুত মসজিদে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন-

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِذَا نُوۡدِیَ لِلصَّلٰوۃِ مِنۡ یَّوۡمِ الۡجُمُعَۃِ فَاسۡعَوۡا اِلٰی ذِکۡرِ اللّٰهِ وَ ذَرُوا الۡبَیۡعَ ؕ ذٰلِکُمۡ خَیۡرٌ لَّکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ

‘হে মুমিনগণ! যখন জুমআর দিনে নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুত ধাবিত হও। আর বেচা-কেনা বর্জন কর। এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম, যদি তোমরা জানতে।’ (সুরা জুমআ : আয়াত ৯)

দ্বিতীয়ত : কোরবানির সাওয়াব নেওয়া
মসজিদে আগে উপস্থিত হওয়ার বিশেষ ফজিলত ঘোষণা করেছেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। একাধিক হাদিসে তিনি জামআর নামাজের আজান দেওয়ার আগেই গোসল করে, উত্তম জামা-কাপড় পরে, তেল-সুগন্ধি মেখে নামাজের প্রস্তুতি নিয়ে মসজিদে যাওয়ার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আগে আগে মসজিদে উপস্থিত হওয়ায় কোরবানির মর্যাদা পাওয়ার বিশেষ ঘোষণা দিয়েছেন। হাদিসে পাকে এসেছে-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমআর দিন জানাবাতের (নাপাকি থেকে পবিত্রতার) গোসলের ন্যায় গোসল করে এবং নামাজের জন্য (সবার আগে মসজিদে) আসে; সে যেন একটি উট কোরবানি করলো। আর যে ব্যক্তি দ্বিতীয় পর্যায়ে আসে; সে যেন একটি গাভী কোরবানি করলো। আর যে তৃতীয় পর্যায়ে আসে; সে যেন একটি শিং বিশিষ্ট দুম্বা কোরবানি করলো। আর যে চতুর্থ পর্যায়ে আসে; সে যেন একটি মুরগী কোরবানি করলো। আর যে পঞ্চম পর্যায়ে আসে; সে যেন একটি ডিম কোরবানি করলো। তারপর ইমাম যখন খুতবাহ দেওয়ার জন্য (মিম্বারের উদ্দেশ্যে) বের হন; তখন ফেরেশতারা জিকর (উপদেশ) শোনার জন্য (খুতবায়) উপস্থিত হয়ে থাকে।’ (বুখারি, মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, প্রত্যেক জুমআয় কোরবানির মর্যাদা পাওয়ার চেষ্টা করা। জুমআর দিন দেরি না করে আগে আগে মসজিদে উপস্থিত হয়ে হাদিসে ঘোষিত ফজিলত ও মর্যাদা অংশীদার হওয়া।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জুমআর দিন আগে আগে মসজিদে যাওয়ার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ঘোষিত কোরবানির মর্যাদা ও ফজিলত অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জুমআর দিন সবার আগে মসজিদে যাবেন কেন?

প্রকাশিত সময় : ০৯:০৭:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১

মুসলমানদের সাপ্তাহিক ইবাদতের মর্যাদা ও ফজিলতপূর্ণ দিন জুমআ। ইবাদতের বিশেষ এ দিনটিকে ইয়াহুদি-নাসারারা গ্রহণ করেনি। কিন্তু মুসলিম উম্মাহ এ দিনটিকে গ্রহণ করেছে। আর এ দিন ব্যবসা-বাণিজ্য ও ব্যস্ততা ফেলে দ্রুত নামাজে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা। কিন্তু দ্রুত আগে মসজিদে যাওয়ার বিশেষ মর্যাদা কী?

প্রথমত : আল্লাহর নির্দেশ
জুমআর আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত মসজিদে যাওয়া মহান আল্লাহর নির্দেশ। এ দিনটি আল্লাহর কে স্মরণ করার এবং মসজিদে উপস্থিত হওয়ার বিশেষ দিন। কোরআনুল কারিমে স্বয়ং আল্লাহ দ্রুত মসজিদে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন-

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِذَا نُوۡدِیَ لِلصَّلٰوۃِ مِنۡ یَّوۡمِ الۡجُمُعَۃِ فَاسۡعَوۡا اِلٰی ذِکۡرِ اللّٰهِ وَ ذَرُوا الۡبَیۡعَ ؕ ذٰلِکُمۡ خَیۡرٌ لَّکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ

‘হে মুমিনগণ! যখন জুমআর দিনে নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুত ধাবিত হও। আর বেচা-কেনা বর্জন কর। এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম, যদি তোমরা জানতে।’ (সুরা জুমআ : আয়াত ৯)

দ্বিতীয়ত : কোরবানির সাওয়াব নেওয়া
মসজিদে আগে উপস্থিত হওয়ার বিশেষ ফজিলত ঘোষণা করেছেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। একাধিক হাদিসে তিনি জামআর নামাজের আজান দেওয়ার আগেই গোসল করে, উত্তম জামা-কাপড় পরে, তেল-সুগন্ধি মেখে নামাজের প্রস্তুতি নিয়ে মসজিদে যাওয়ার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আগে আগে মসজিদে উপস্থিত হওয়ায় কোরবানির মর্যাদা পাওয়ার বিশেষ ঘোষণা দিয়েছেন। হাদিসে পাকে এসেছে-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমআর দিন জানাবাতের (নাপাকি থেকে পবিত্রতার) গোসলের ন্যায় গোসল করে এবং নামাজের জন্য (সবার আগে মসজিদে) আসে; সে যেন একটি উট কোরবানি করলো। আর যে ব্যক্তি দ্বিতীয় পর্যায়ে আসে; সে যেন একটি গাভী কোরবানি করলো। আর যে তৃতীয় পর্যায়ে আসে; সে যেন একটি শিং বিশিষ্ট দুম্বা কোরবানি করলো। আর যে চতুর্থ পর্যায়ে আসে; সে যেন একটি মুরগী কোরবানি করলো। আর যে পঞ্চম পর্যায়ে আসে; সে যেন একটি ডিম কোরবানি করলো। তারপর ইমাম যখন খুতবাহ দেওয়ার জন্য (মিম্বারের উদ্দেশ্যে) বের হন; তখন ফেরেশতারা জিকর (উপদেশ) শোনার জন্য (খুতবায়) উপস্থিত হয়ে থাকে।’ (বুখারি, মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, প্রত্যেক জুমআয় কোরবানির মর্যাদা পাওয়ার চেষ্টা করা। জুমআর দিন দেরি না করে আগে আগে মসজিদে উপস্থিত হয়ে হাদিসে ঘোষিত ফজিলত ও মর্যাদা অংশীদার হওয়া।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জুমআর দিন আগে আগে মসজিদে যাওয়ার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ঘোষিত কোরবানির মর্যাদা ও ফজিলত অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।