শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মোবাইলে ‘তালাক’, ছেলেকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যাচেষ্টা

লক্ষ্মীপুরে মোবাইল ফোনে বাকবিতণ্ডার পর প্রবাসী স্বামীর দেওয়া তালাক সহ্য করতে না পেরে ছেলে আয়ান রহমানকে (৪) গলা কেটে হত্যার পর ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন গৃহবধূ সাবিনা ইয়াসমিন।
এ ঘটনায় রোববার রাত ২টার দিকে ওই গৃহবধূকে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়ে যায় পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য শিশুটির লাশ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে রাত ১২টার দিকে সদর উপজেলার লাহারকান্দি গ্রামে পারিবারিক কলহের জের ধরে ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
সাবিনা সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ গ্রামের সৌদি প্রবাসী আজগর রহমানের স্ত্রী। শিশু আয়ানসহ যৌথ পরিবার নিয়ে তিনি লাহারকান্দি গ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
মোবাইলে ‘তালাক’, ছেলেকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যাচেষ্টা
মোবাইলে ‘তালাক’, ছেলেকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যাচেষ্টা
স্বজনরা জানান, সম্প্রতি তাদের সংসারে আর্থিক সংকট দেখা দেয়। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ শুরু হয়। সবশেষ রোববার সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে সাবিনা ও তার স্বামীর ঝগড়া হয়।
পরে প্রতিদিনের মতো আয়ানকে নিয়ে তিনি নিজকক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। কিছুক্ষণ পরই ওই কক্ষ থেকে বিকট শব্দ আসে। এর পর চিৎকার করে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত দরজা ভেঙে ভেতরে গিয়ে দেখে সিলিংফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে সাবিনা আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন। শরীরে রক্ত মাখা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
তাৎক্ষণিক খাটের ওপর আয়ানের লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশেই রক্তমাখা অবস্থায় ধারালো বঁটি পড়ে ছিল।
সাবিনার শ্বশুর হুমায়ুন কবির ও দেবর আবির জানান, সাবিনার স্বামী আজগর সৌদিতে রয়েছেন। সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। ঝগড়ার কারণে সাবিনা অনেক বেশি রেগে ছিল। তারা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
পরে প্রতিদিনের মতো নিজকক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করে আয়ানকে হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মহব্বত আলী জানান, সাবিনাসহ পরিবারের সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছি। বাকবিতণ্ডায় আজগর তাকে ‘তালাক’ দিয়েছেন বলে তিনি (সাবিনা) জানিয়েছেন। বিষয়টি সহ্য করতে না পেরে ছেলেকে হত্যার পর তিনি নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার (ওসি) জসীম উদ্দিন বলেন, হত্যার ঘটনায় গৃহবধূকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শিশুর দাদাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছি।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মোবাইলে ‘তালাক’, ছেলেকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যাচেষ্টা

প্রকাশিত সময় : ০৪:৫৫:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
লক্ষ্মীপুরে মোবাইল ফোনে বাকবিতণ্ডার পর প্রবাসী স্বামীর দেওয়া তালাক সহ্য করতে না পেরে ছেলে আয়ান রহমানকে (৪) গলা কেটে হত্যার পর ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন গৃহবধূ সাবিনা ইয়াসমিন।
এ ঘটনায় রোববার রাত ২টার দিকে ওই গৃহবধূকে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়ে যায় পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য শিশুটির লাশ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে রাত ১২টার দিকে সদর উপজেলার লাহারকান্দি গ্রামে পারিবারিক কলহের জের ধরে ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
সাবিনা সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ গ্রামের সৌদি প্রবাসী আজগর রহমানের স্ত্রী। শিশু আয়ানসহ যৌথ পরিবার নিয়ে তিনি লাহারকান্দি গ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
মোবাইলে ‘তালাক’, ছেলেকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যাচেষ্টা
মোবাইলে ‘তালাক’, ছেলেকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যাচেষ্টা
স্বজনরা জানান, সম্প্রতি তাদের সংসারে আর্থিক সংকট দেখা দেয়। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ শুরু হয়। সবশেষ রোববার সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে সাবিনা ও তার স্বামীর ঝগড়া হয়।
পরে প্রতিদিনের মতো আয়ানকে নিয়ে তিনি নিজকক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। কিছুক্ষণ পরই ওই কক্ষ থেকে বিকট শব্দ আসে। এর পর চিৎকার করে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত দরজা ভেঙে ভেতরে গিয়ে দেখে সিলিংফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে সাবিনা আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন। শরীরে রক্ত মাখা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
তাৎক্ষণিক খাটের ওপর আয়ানের লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশেই রক্তমাখা অবস্থায় ধারালো বঁটি পড়ে ছিল।
সাবিনার শ্বশুর হুমায়ুন কবির ও দেবর আবির জানান, সাবিনার স্বামী আজগর সৌদিতে রয়েছেন। সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। ঝগড়ার কারণে সাবিনা অনেক বেশি রেগে ছিল। তারা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
পরে প্রতিদিনের মতো নিজকক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করে আয়ানকে হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মহব্বত আলী জানান, সাবিনাসহ পরিবারের সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছি। বাকবিতণ্ডায় আজগর তাকে ‘তালাক’ দিয়েছেন বলে তিনি (সাবিনা) জানিয়েছেন। বিষয়টি সহ্য করতে না পেরে ছেলেকে হত্যার পর তিনি নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার (ওসি) জসীম উদ্দিন বলেন, হত্যার ঘটনায় গৃহবধূকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শিশুর দাদাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছি।