শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজনৈতিক দলের মতৈক্যে ইসি নিয়োগ হওয়া উচিত: সিইসি

সব রাজনৈতিক দলের মতৈক্যের ভিত্তিতে নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠিত হওয়া উচিত বলে মনে করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা।

আজ বুধবার নির্বাচন ভবনে কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সিইসি বলেন, পরবর্তী কমিশন গঠন রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। অবশ্যই এটা হওয়া উচিত। আমি এটাকে সমর্থন করি। যেন নতুন কমিশন সবার সমর্থনযোগ্য হয়, সে রকম একটি কমিশন হওয়া উচিত।
নতুন কমিশন গঠনে ইসির কোনো মতামত আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাব তিনি বলেন, নতুন কমিশন কী হবে, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কোনো মতামত থাকে না। কমিশনের কাছে সাধারণত মতামত চাওয়া হয় না। যদি চাওয়া হয়, তাহলে আমরা কমিশন বসে দেখব, আমাদের কোনো মতামত আছে কি না।
রাজনৈতিক ঐকমত্য কীভাবে হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, এটা রাষ্ট্রপতি করতে পারেন। গতবার যেমন তিনি সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তবে এটা রাষ্ট্রপতির বিষয়। ঐকমত্যের বিষয়ে ইসির কোনো ভূমিকা থাকে না।
আইন হলেই আস্থার সংকট দূর হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা কী ধরনের আইন হবে, তার ওপর নির্ভর করবে। এ বিষয়ে আগে বলা যাবে না।
‘আস্থার সঙ্কট নেই’
এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল হুদা বলেন, ইসি মোটেই অনাস্থার জায়গা নয়। জনগণের আস্থা নেই- একথা বলা যাবে না, জনগণ তো বলেনি যে আস্থা নেই।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের লোকেরা যেটা বলেন, অনেক সময় তারা নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করে তারা বলে জনগণের আস্থা নেই। যদি আস্থা না থাকে যেসব নির্বাচন হচ্ছে তাতে উপচেপড়া ভোটার থাকে কীভাবে? লাইন থাকে, ৬০-৮০ শতাংশ লোক ভোট দেয়। এটা আস্থার জায়গা।

সিইসি বলেন, জনগণের আস্থা অবশ্যই আছে, জনগণ ঠিকই ভোট দিতে যায়।

রাশিয়ার মতো ভোট এ মুহুর্তে সম্ভব নয়’

রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নূরুল হুদা বলেন, সে দেশের ডিজিটাল সিস্টেম অত্যন্ত উঁচুমানের বলে তেমন ভোট বাংলাদেশে আপাতত সম্ভবপর নয়।
সিইসি বলেন, রাশিয়ার নির্বাচন ব্যবস্থা ভালো। নির্বাচন কেন্দ্রের বাইরে এখানে প্রার্থী বা তার সমর্থকরা প্রচারণা চালান, রাশিয়ায় সেই সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণা মূলত অনলাইনভিত্তিক বেশি হয়। ডিজিটাল সিস্টেম অত্যন্ত উঁচুমানের। আমাদের দেশে কর্মীরা যেমন ঘরে ঘরে ভোটারদের কাছে যায়, অথবা লিফলেট দেয়- এই জাতীয় কালচার সেখানে দেখিনি।
নূরুল হুদা বলেন, রাশিয়া ভোটকেন্দ্রগুলো সবই সিসিটিভির আওতায়। ফলে তারা কেন্দ্রীয়ভাবে সব দেখতে পারে … প্রতি মিনিটে তা মনিটর করতে পারে।
রাশিয়ায় ইভিএম ব্যবহার হয় না জানিয়ে সিইসি বলেন, আমাদের মতো রাশিয়ায় ইভিএম পদ্ধতি নেই। অন্য প্রযুক্তিতে ভোট করে। পাসপোর্ট দেখে ভোটারকে শনাক্ত করে। পরে একটা ব্যালট পেপার দেয়, সেটা বাক্সে রাখে। ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সেটা ভেতরে ঢুকে যায়। অ্যাপ ব্যবহার করে তারা যে কোনো জায়গায় বসে ভোট দিতে পারেন।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাজনৈতিক দলের মতৈক্যে ইসি নিয়োগ হওয়া উচিত: সিইসি

প্রকাশিত সময় : ১০:২৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১

সব রাজনৈতিক দলের মতৈক্যের ভিত্তিতে নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠিত হওয়া উচিত বলে মনে করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা।

আজ বুধবার নির্বাচন ভবনে কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সিইসি বলেন, পরবর্তী কমিশন গঠন রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। অবশ্যই এটা হওয়া উচিত। আমি এটাকে সমর্থন করি। যেন নতুন কমিশন সবার সমর্থনযোগ্য হয়, সে রকম একটি কমিশন হওয়া উচিত।
নতুন কমিশন গঠনে ইসির কোনো মতামত আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাব তিনি বলেন, নতুন কমিশন কী হবে, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কোনো মতামত থাকে না। কমিশনের কাছে সাধারণত মতামত চাওয়া হয় না। যদি চাওয়া হয়, তাহলে আমরা কমিশন বসে দেখব, আমাদের কোনো মতামত আছে কি না।
রাজনৈতিক ঐকমত্য কীভাবে হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, এটা রাষ্ট্রপতি করতে পারেন। গতবার যেমন তিনি সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তবে এটা রাষ্ট্রপতির বিষয়। ঐকমত্যের বিষয়ে ইসির কোনো ভূমিকা থাকে না।
আইন হলেই আস্থার সংকট দূর হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা কী ধরনের আইন হবে, তার ওপর নির্ভর করবে। এ বিষয়ে আগে বলা যাবে না।
‘আস্থার সঙ্কট নেই’
এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল হুদা বলেন, ইসি মোটেই অনাস্থার জায়গা নয়। জনগণের আস্থা নেই- একথা বলা যাবে না, জনগণ তো বলেনি যে আস্থা নেই।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের লোকেরা যেটা বলেন, অনেক সময় তারা নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করে তারা বলে জনগণের আস্থা নেই। যদি আস্থা না থাকে যেসব নির্বাচন হচ্ছে তাতে উপচেপড়া ভোটার থাকে কীভাবে? লাইন থাকে, ৬০-৮০ শতাংশ লোক ভোট দেয়। এটা আস্থার জায়গা।

সিইসি বলেন, জনগণের আস্থা অবশ্যই আছে, জনগণ ঠিকই ভোট দিতে যায়।

রাশিয়ার মতো ভোট এ মুহুর্তে সম্ভব নয়’

রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নূরুল হুদা বলেন, সে দেশের ডিজিটাল সিস্টেম অত্যন্ত উঁচুমানের বলে তেমন ভোট বাংলাদেশে আপাতত সম্ভবপর নয়।
সিইসি বলেন, রাশিয়ার নির্বাচন ব্যবস্থা ভালো। নির্বাচন কেন্দ্রের বাইরে এখানে প্রার্থী বা তার সমর্থকরা প্রচারণা চালান, রাশিয়ায় সেই সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণা মূলত অনলাইনভিত্তিক বেশি হয়। ডিজিটাল সিস্টেম অত্যন্ত উঁচুমানের। আমাদের দেশে কর্মীরা যেমন ঘরে ঘরে ভোটারদের কাছে যায়, অথবা লিফলেট দেয়- এই জাতীয় কালচার সেখানে দেখিনি।
নূরুল হুদা বলেন, রাশিয়া ভোটকেন্দ্রগুলো সবই সিসিটিভির আওতায়। ফলে তারা কেন্দ্রীয়ভাবে সব দেখতে পারে … প্রতি মিনিটে তা মনিটর করতে পারে।
রাশিয়ায় ইভিএম ব্যবহার হয় না জানিয়ে সিইসি বলেন, আমাদের মতো রাশিয়ায় ইভিএম পদ্ধতি নেই। অন্য প্রযুক্তিতে ভোট করে। পাসপোর্ট দেখে ভোটারকে শনাক্ত করে। পরে একটা ব্যালট পেপার দেয়, সেটা বাক্সে রাখে। ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সেটা ভেতরে ঢুকে যায়। অ্যাপ ব্যবহার করে তারা যে কোনো জায়গায় বসে ভোট দিতে পারেন।