বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শরবত বিক্রির ফাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাদেকুল

শরবতের দোকানে বই। যখন ক্রেতার ভিড় কমে আসে, তখন দোকানি বইটি মেলে বসেন। সড়কবাতির আলোতে পড়াশোনা করেন। এভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
এই শরবত বিক্রেতার নাম মো. সাদেকুল ইসলাম (১৯)। তাঁর বাবার নাম মো. জার্জিস আলী। তাঁর বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পশ্চিম বামনাইল গ্রামে। ১১ ভাইবোনের মধ্যে সাদেকুল সবচেয়ে ছোট। অন্য ভাইবোনেরা যে যার মতো থাকেন। ছোটবেলায় সাদেকুলকে হাফেজিয়া পড়ার জন্য রাজশাহী নগরের একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করে দেওয়া হয়। পরে তিনি নগরের উপর ভদ্রা এলাকার মদিনাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসা থেকে ২০১৮ সালে বিজ্ঞান বিভাগে দাখিল পাস করেন। বিজ্ঞান বিভাগের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করতে না পারায় উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে এসে বিজ্ঞান ছেড়ে মানবিক বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা করেন। ২০২০ সালে তিনি আলিম পাস করেন। এসএসসি ও এইচএসসি সমমানের দুই পরীক্ষায় তাঁর জিপিএ-৫ আছে। তাই ভর্তির সুযোগ পাওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।
পাঁচ বছর ধরে গরমের মৌসুমে শরবতের ভ্রাম্যমাণ ভ্যান নিয়ে সাদেকুলকে রাজশাহী রেলস্টেশনের পাশে দেখা যায়। এই বেচাবিক্রি থেকে যে আয় হয়, তা দিয়েই তাঁর পড়াশোনার খরচ জোগাড় করেন।
মদিনাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসার বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এ কে এম সালাহ উদ্দিন  বলেন, সাদেকুল ইসলাম খুবই পরিশ্রমী, ভালো ছেলে ও মেধাবী। সে এ শহরে থেকে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করে।
গত সোমবার সন্ধ্যায় কথা হয় সাদেকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, হাফেজিয়া শেষ করার পর থেকে তিনি বসে থাকেননি। কাজ খুঁজেছেন। টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ জোগাড় করেছেন।
সঙ্গে অন্যান্য কাজ করার চেষ্টা করেছেন। তিনি নগরের বালিয়াপুকুর এলাকায় থাকেন। এ এলাকায় নওগাঁর কয়েক ছেলে ভ্যানগাড়িতে করে শরবতের ব্যবসা করতেন।
তাঁদের কাছ থেকে শরবতের ব্যবসার ধারণা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। প্রতিদিন সকালে রাজশাহী রেলগেট এলাকায় এবং সন্ধ্যার পর রেলস্টেশনের প্রবেশমুখে তাঁর গাড়ি থাকে।শুভকামনা রইলো ভাই আপনার জন্যে।জীবন মানেই যুদ্ধ আর সেই যুদ্ধেই এগিয়ে যেতে হবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক

শরবত বিক্রির ফাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাদেকুল

প্রকাশিত সময় : ১০:১৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১
শরবতের দোকানে বই। যখন ক্রেতার ভিড় কমে আসে, তখন দোকানি বইটি মেলে বসেন। সড়কবাতির আলোতে পড়াশোনা করেন। এভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
এই শরবত বিক্রেতার নাম মো. সাদেকুল ইসলাম (১৯)। তাঁর বাবার নাম মো. জার্জিস আলী। তাঁর বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পশ্চিম বামনাইল গ্রামে। ১১ ভাইবোনের মধ্যে সাদেকুল সবচেয়ে ছোট। অন্য ভাইবোনেরা যে যার মতো থাকেন। ছোটবেলায় সাদেকুলকে হাফেজিয়া পড়ার জন্য রাজশাহী নগরের একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করে দেওয়া হয়। পরে তিনি নগরের উপর ভদ্রা এলাকার মদিনাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসা থেকে ২০১৮ সালে বিজ্ঞান বিভাগে দাখিল পাস করেন। বিজ্ঞান বিভাগের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করতে না পারায় উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে এসে বিজ্ঞান ছেড়ে মানবিক বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা করেন। ২০২০ সালে তিনি আলিম পাস করেন। এসএসসি ও এইচএসসি সমমানের দুই পরীক্ষায় তাঁর জিপিএ-৫ আছে। তাই ভর্তির সুযোগ পাওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।
পাঁচ বছর ধরে গরমের মৌসুমে শরবতের ভ্রাম্যমাণ ভ্যান নিয়ে সাদেকুলকে রাজশাহী রেলস্টেশনের পাশে দেখা যায়। এই বেচাবিক্রি থেকে যে আয় হয়, তা দিয়েই তাঁর পড়াশোনার খরচ জোগাড় করেন।
মদিনাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসার বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এ কে এম সালাহ উদ্দিন  বলেন, সাদেকুল ইসলাম খুবই পরিশ্রমী, ভালো ছেলে ও মেধাবী। সে এ শহরে থেকে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করে।
গত সোমবার সন্ধ্যায় কথা হয় সাদেকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, হাফেজিয়া শেষ করার পর থেকে তিনি বসে থাকেননি। কাজ খুঁজেছেন। টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ জোগাড় করেছেন।
সঙ্গে অন্যান্য কাজ করার চেষ্টা করেছেন। তিনি নগরের বালিয়াপুকুর এলাকায় থাকেন। এ এলাকায় নওগাঁর কয়েক ছেলে ভ্যানগাড়িতে করে শরবতের ব্যবসা করতেন।
তাঁদের কাছ থেকে শরবতের ব্যবসার ধারণা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। প্রতিদিন সকালে রাজশাহী রেলগেট এলাকায় এবং সন্ধ্যার পর রেলস্টেশনের প্রবেশমুখে তাঁর গাড়ি থাকে।শুভকামনা রইলো ভাই আপনার জন্যে।জীবন মানেই যুদ্ধ আর সেই যুদ্ধেই এগিয়ে যেতে হবে।