বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধের শপথ সম্প্রীতির সংস্কৃতিতে আঘাত করলে আ’লীগ দাঁতভাঙা জবাব দিবে : সিটি মেয়র

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র, যা আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ত্রিশ লক্ষ শহীদ ও দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অর্জন করেছি। এদেশে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ভাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ। আমরা একে অপরের উৎসবে সামিল হয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করি, এটিই আমাদের সংস্কৃতি। আর এই সংস্কৃতিকে যারা আঘাত করতে চায়, তাদের আওয়ামী লীগ দাঁত ভাঙা জবাব দিবে।
কুমিল্লায় কোরআন অবমাননার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে নগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।

মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) বেলা ৪ টায় কুমারপাড়াস্থ দলীয় কার্যালয় একটি সম্প্রীতি ও শান্তির শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিন শেষে সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে এসে শেষ হয়। মিছিল শেষে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজশাহী মহানগরের সভাপতি ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। সভা সঞ্চালনা করেন, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার। বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবী শাহীন আকতার রেনী, যুগ্ম সম্পাদক আহ্সানুল হক পিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আসলাম সরকার, নগর যুবলীগ সভাপতি রমজান আলী, নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আব্দুল মোমিন, নগর ছাত্রলীগ সভাপতি নূর মোহাম্মদ সিয়াম।

সিটি মেয়র লিটন আরও বলেন, দেশ যখন উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে, দেশের মাথাপিছু আয় যখন ঈর্ষনীয়, উন্নত বিশ্বে বাংলাদেশ যখন উন্নয়নের রোল মডেল ঠিক তখন ৭১এর পরাজিত উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি সারাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্টের জন্য সনাতন ধর্মবালম্বীদের প্রধান উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবে বিভিন্ন জায়গায় সংখ্যালঘুদের মন্দির ভাঙচুর, বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে দেশের ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায়। কিন্তু তাদের এই হীন ষড়যন্ত্র বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে কখনই সফল হবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র নির্দেশে প্রতিটি এলাকায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে যাতে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি কোন রকমের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে। ষড়যন্ত্র বা বিশৃঙ্খলার আভাস পেলেই প্রশাসন ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে অবহিত করবেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে ৭১এর পরাজিত শক্তি ও তাদের দোসর ধর্মান্ধ উগ্র মৌলবাদের সমূলে উৎপাতন করবোই করবো। তিনি দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে সম্মান নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলতে চায় এদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি।

নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, আমাদের প্রিয় নেত্রী, বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা জনগণের ভালোবাসা নিয়ে পরপর তিনবার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কাজ করেন নি, তিনি সমগ্র দেশ ও জাতির ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। বিশ্বের দশ জন ক্ষমতাধর ও সৎ রাষ্ট্র প্রধানদের মধ্যে তিন নম্বর অবস্থানে আমাদের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর এই সফলতা ও উন্নয়ন কর্মকান্ডে একটি মহল ঈর্ষানীত হয়ে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের পথ বেছে নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করে দেশের যে শান্তির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যখন তার নাম নোবেল পুরষ্কারের জন্য অন্তর্ভূক্ত হয়েছে ঠিক তখনই ৭১ এর পরাজিত শক্তি ষড়যন্ত্রে পথ বেছে নিয়েছে। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এমন পদেক্ষপ নিবেন যে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে কেউ কোনদিন সাম্প্রদায়িক রাজনীতির চিন্তাও করবে না। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় জড়িতদের অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে বলে আশ্বস্ত করেন।

নগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহীন আকতার রেনী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সনাতন ধর্মবালম্বীদের প্রধান উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবে বিভিন্ন জায়গায় সংখ্যালঘুদের মন্দির ভাংচুর, বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এরই প্রতিবাদে আমরা সকলে একত্রিত হয়েছি এই জঘন্য কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও প্রতিবাদ জানাতে। আমরা দেখেছি ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার করার পর একের পর এক হত্যাকান্ডগুলো ঘটেছে, সেগুলোর বিচার আমরা পাই নি। বরং সেই বিচারের পথ রুদ্ধ করার জন্য ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিলো। কিন্তু তারা সেটা পারে নি। ১৯৯৬ সালে আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর আমরা সেই সকল হত্যকান্ডের বিচার করেছি। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, মাননীয় নেত্রী আপনার ভয় নাই, আপনার পাশে আমরা আছি, আপনার সাথে আমরা আছি। আপনি যেভাবে নির্দেশনা দিবেন সেই নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য মহানগর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো সদা প্রস্তুত আছে। আপনাকে আমরা কথা দিচ্ছি, এই ৭১এর পরাজিত শক্তি ধর্মান্ধ উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর বারবার আঘাত আমরা আর সহ্য করবো না, এর সমুচিত জবাব আমরা দিবো।

সভায় উপস্থিত ছিলেন, নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নওশের আলী, রেজাউল ইসলাম বাবুল, বদরুজ্জামান খায়ের, যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাক হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম বুলবুল, প্রচার সম্পাদক দিলীপ কুমার ঘোষ, কৃষি সম্পাদক মীর তৌফিক আলী ভাদু, আইন সম্পাদক অ্যাড. মুসাব্বিরুল ইসলাম, ধর্ম সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, বন ও পরিবেশ সম্পাদক রবিউল আলম রবি, মহিলা সম্পাদিকা ইয়াসমিন রেজা ফেন্সি, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মকিদুজ্জামান জুরাত, উপ-দপ্তর সম্পাদক পংকজ দেসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

রাজশাহীতে ওয়ার্কার্স পার্টির বিক্ষোভ মিছিল

সারা দেশে হিন্দুদের বাড়ি, মন্দির ও মন্ডপে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও প্রতিমা ভাঙচুরসহ সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে রাজশাহীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী মহানগর কমিটি।

‘সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রুখে দাঁড়াও, ৭২-এর সংবিধান ফিরিয়ে দাও’ স্লোগান দিয়ে মঙ্গলবার বিকালে তারা এই বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলটি শহরের সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট এলাকা থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশ করেন ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী মহানগরের সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রামানিক দেবু। তিনি বলেন, দেশে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আমরা এ ধরনের অমানবিক কর্মকান্ডের ধিক্কার ও নিন্দা জানাই। যারা এই কর্মকান্ডে জড়িত তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আশরাফুল হক তোতা, মহানগর সম্পাদকম-লীর সদস্য অ্যাড. এন্তাজুল হক বাবু, সাদরুল ইসলাম, আব্দুল মতিন, নাজমুল করিম অপু, মহানগর সদস্য সীতানাথ বণিক, আব্দুল খালেক বকুল, জেলা কমিটির সদস্য কামরুল হাসান সুমন, কাশিয়াডাঙ্গা থানার সভাপতি শামীম ইমতিয়াজ, চন্দ্রিমা থানার সভাপতি শাহীদ হোসেন শিশির, মতিহার থানার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলম প্রমুখ।

রাজশাহী মহানগর যুবলীগ
‘সারাবাংলা এক হও, সাম্প্রদায়িকতা রুখে দাও’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয়

কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী মহানগর যুবলীগের সভাপতি রমজান আলী এবং সাধারণ সম্পাদক হোসেন বাচ্চু’র নির্দেশনায় নগর যুবলীগের সকল নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে শহীদ এ এইচ এম কামরুজ্জামান চত্বর (রেল গেট) থেকে ‘শান্তি ও সম্প্রীতি র‌্যালি’ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত র‌্যালিটি সাহেববাজার প্রদক্ষিণ করে নগরে আওয়ামী লীগের কুমারপাড়া কার্যালয় উপস্থিত হয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সাথে আবারো তাদের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে আরইউজে’র মানববন্ধন
সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে)। মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে ঘণ্টাব্যাপি রাজশাহী মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

আরইউজে সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হকের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাঙালির ইতিহাস সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির। এই সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা চলছে। একটি চক্র জ¦ালাও-পোড়াওয়ের মাধ্যমে দেশটিকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান বানাতে চাই। আর এ কারণেই পরিকল্পিতভাবে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির গভীর ষড়যন্ত্র চলছে।

বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রের কোনো ধর্ম থাকতে পারে না। রাষ্ট্রের নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকা উচিত। ইসলাম শান্তির ধর্ম। এই ধর্মে কোথাও অন্য ধর্মের মানুষকে আক্রমণ করার কথা উল্লেখ নেই। তারপরেও একটি গোষ্ঠী ধর্মকে ব্যবহার করে নিজেদের ফায়দা হাসিল করার অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে দেশের সচেতন মানুষ মাঠে নেমেছেন। প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। আমরা অবিলম্বে ঘড়যন্ত্রকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন- আরইউজে’র সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈয়বুর রহমান, কার্যরির্বাহী কমিটির সদস্য আনিসুজ্জামান, আরইউজে সদস্য রাশেদ রিপন, আজিজুল ইসলাম, বদরুল হাসান লিটন, সৌরভ হাবিব, আসাদুজ্জামান আসাদ, সেলিম জাহাঙ্গীর, রাজশাহী টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেহেদি হাসান শ্যামল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (রাবিসাস) সভাপতি শাহীন আলম প্রমুখ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক

রাজশাহীতে সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধের শপথ সম্প্রীতির সংস্কৃতিতে আঘাত করলে আ’লীগ দাঁতভাঙা জবাব দিবে : সিটি মেয়র

প্রকাশিত সময় : ১১:০৯:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র, যা আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ত্রিশ লক্ষ শহীদ ও দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অর্জন করেছি। এদেশে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ভাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ। আমরা একে অপরের উৎসবে সামিল হয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করি, এটিই আমাদের সংস্কৃতি। আর এই সংস্কৃতিকে যারা আঘাত করতে চায়, তাদের আওয়ামী লীগ দাঁত ভাঙা জবাব দিবে।
কুমিল্লায় কোরআন অবমাননার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে নগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।

মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) বেলা ৪ টায় কুমারপাড়াস্থ দলীয় কার্যালয় একটি সম্প্রীতি ও শান্তির শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিন শেষে সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে এসে শেষ হয়। মিছিল শেষে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজশাহী মহানগরের সভাপতি ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। সভা সঞ্চালনা করেন, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার। বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবী শাহীন আকতার রেনী, যুগ্ম সম্পাদক আহ্সানুল হক পিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আসলাম সরকার, নগর যুবলীগ সভাপতি রমজান আলী, নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আব্দুল মোমিন, নগর ছাত্রলীগ সভাপতি নূর মোহাম্মদ সিয়াম।

সিটি মেয়র লিটন আরও বলেন, দেশ যখন উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে, দেশের মাথাপিছু আয় যখন ঈর্ষনীয়, উন্নত বিশ্বে বাংলাদেশ যখন উন্নয়নের রোল মডেল ঠিক তখন ৭১এর পরাজিত উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি সারাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্টের জন্য সনাতন ধর্মবালম্বীদের প্রধান উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবে বিভিন্ন জায়গায় সংখ্যালঘুদের মন্দির ভাঙচুর, বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে দেশের ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায়। কিন্তু তাদের এই হীন ষড়যন্ত্র বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে কখনই সফল হবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র নির্দেশে প্রতিটি এলাকায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে যাতে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি কোন রকমের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে। ষড়যন্ত্র বা বিশৃঙ্খলার আভাস পেলেই প্রশাসন ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে অবহিত করবেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে ৭১এর পরাজিত শক্তি ও তাদের দোসর ধর্মান্ধ উগ্র মৌলবাদের সমূলে উৎপাতন করবোই করবো। তিনি দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে সম্মান নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলতে চায় এদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি।

নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, আমাদের প্রিয় নেত্রী, বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা জনগণের ভালোবাসা নিয়ে পরপর তিনবার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কাজ করেন নি, তিনি সমগ্র দেশ ও জাতির ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। বিশ্বের দশ জন ক্ষমতাধর ও সৎ রাষ্ট্র প্রধানদের মধ্যে তিন নম্বর অবস্থানে আমাদের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর এই সফলতা ও উন্নয়ন কর্মকান্ডে একটি মহল ঈর্ষানীত হয়ে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের পথ বেছে নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করে দেশের যে শান্তির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যখন তার নাম নোবেল পুরষ্কারের জন্য অন্তর্ভূক্ত হয়েছে ঠিক তখনই ৭১ এর পরাজিত শক্তি ষড়যন্ত্রে পথ বেছে নিয়েছে। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এমন পদেক্ষপ নিবেন যে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে কেউ কোনদিন সাম্প্রদায়িক রাজনীতির চিন্তাও করবে না। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় জড়িতদের অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে বলে আশ্বস্ত করেন।

নগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহীন আকতার রেনী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সনাতন ধর্মবালম্বীদের প্রধান উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবে বিভিন্ন জায়গায় সংখ্যালঘুদের মন্দির ভাংচুর, বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এরই প্রতিবাদে আমরা সকলে একত্রিত হয়েছি এই জঘন্য কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও প্রতিবাদ জানাতে। আমরা দেখেছি ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার করার পর একের পর এক হত্যাকান্ডগুলো ঘটেছে, সেগুলোর বিচার আমরা পাই নি। বরং সেই বিচারের পথ রুদ্ধ করার জন্য ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিলো। কিন্তু তারা সেটা পারে নি। ১৯৯৬ সালে আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর আমরা সেই সকল হত্যকান্ডের বিচার করেছি। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, মাননীয় নেত্রী আপনার ভয় নাই, আপনার পাশে আমরা আছি, আপনার সাথে আমরা আছি। আপনি যেভাবে নির্দেশনা দিবেন সেই নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য মহানগর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো সদা প্রস্তুত আছে। আপনাকে আমরা কথা দিচ্ছি, এই ৭১এর পরাজিত শক্তি ধর্মান্ধ উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর বারবার আঘাত আমরা আর সহ্য করবো না, এর সমুচিত জবাব আমরা দিবো।

সভায় উপস্থিত ছিলেন, নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নওশের আলী, রেজাউল ইসলাম বাবুল, বদরুজ্জামান খায়ের, যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাক হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম বুলবুল, প্রচার সম্পাদক দিলীপ কুমার ঘোষ, কৃষি সম্পাদক মীর তৌফিক আলী ভাদু, আইন সম্পাদক অ্যাড. মুসাব্বিরুল ইসলাম, ধর্ম সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, বন ও পরিবেশ সম্পাদক রবিউল আলম রবি, মহিলা সম্পাদিকা ইয়াসমিন রেজা ফেন্সি, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মকিদুজ্জামান জুরাত, উপ-দপ্তর সম্পাদক পংকজ দেসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

রাজশাহীতে ওয়ার্কার্স পার্টির বিক্ষোভ মিছিল

সারা দেশে হিন্দুদের বাড়ি, মন্দির ও মন্ডপে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও প্রতিমা ভাঙচুরসহ সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে রাজশাহীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী মহানগর কমিটি।

‘সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রুখে দাঁড়াও, ৭২-এর সংবিধান ফিরিয়ে দাও’ স্লোগান দিয়ে মঙ্গলবার বিকালে তারা এই বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলটি শহরের সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট এলাকা থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশ করেন ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী মহানগরের সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রামানিক দেবু। তিনি বলেন, দেশে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আমরা এ ধরনের অমানবিক কর্মকান্ডের ধিক্কার ও নিন্দা জানাই। যারা এই কর্মকান্ডে জড়িত তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আশরাফুল হক তোতা, মহানগর সম্পাদকম-লীর সদস্য অ্যাড. এন্তাজুল হক বাবু, সাদরুল ইসলাম, আব্দুল মতিন, নাজমুল করিম অপু, মহানগর সদস্য সীতানাথ বণিক, আব্দুল খালেক বকুল, জেলা কমিটির সদস্য কামরুল হাসান সুমন, কাশিয়াডাঙ্গা থানার সভাপতি শামীম ইমতিয়াজ, চন্দ্রিমা থানার সভাপতি শাহীদ হোসেন শিশির, মতিহার থানার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলম প্রমুখ।

রাজশাহী মহানগর যুবলীগ
‘সারাবাংলা এক হও, সাম্প্রদায়িকতা রুখে দাও’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয়

কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী মহানগর যুবলীগের সভাপতি রমজান আলী এবং সাধারণ সম্পাদক হোসেন বাচ্চু’র নির্দেশনায় নগর যুবলীগের সকল নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে শহীদ এ এইচ এম কামরুজ্জামান চত্বর (রেল গেট) থেকে ‘শান্তি ও সম্প্রীতি র‌্যালি’ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত র‌্যালিটি সাহেববাজার প্রদক্ষিণ করে নগরে আওয়ামী লীগের কুমারপাড়া কার্যালয় উপস্থিত হয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সাথে আবারো তাদের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে আরইউজে’র মানববন্ধন
সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে)। মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে ঘণ্টাব্যাপি রাজশাহী মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

আরইউজে সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হকের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাঙালির ইতিহাস সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির। এই সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা চলছে। একটি চক্র জ¦ালাও-পোড়াওয়ের মাধ্যমে দেশটিকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান বানাতে চাই। আর এ কারণেই পরিকল্পিতভাবে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির গভীর ষড়যন্ত্র চলছে।

বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রের কোনো ধর্ম থাকতে পারে না। রাষ্ট্রের নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকা উচিত। ইসলাম শান্তির ধর্ম। এই ধর্মে কোথাও অন্য ধর্মের মানুষকে আক্রমণ করার কথা উল্লেখ নেই। তারপরেও একটি গোষ্ঠী ধর্মকে ব্যবহার করে নিজেদের ফায়দা হাসিল করার অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে দেশের সচেতন মানুষ মাঠে নেমেছেন। প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। আমরা অবিলম্বে ঘড়যন্ত্রকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন- আরইউজে’র সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈয়বুর রহমান, কার্যরির্বাহী কমিটির সদস্য আনিসুজ্জামান, আরইউজে সদস্য রাশেদ রিপন, আজিজুল ইসলাম, বদরুল হাসান লিটন, সৌরভ হাবিব, আসাদুজ্জামান আসাদ, সেলিম জাহাঙ্গীর, রাজশাহী টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেহেদি হাসান শ্যামল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (রাবিসাস) সভাপতি শাহীন আলম প্রমুখ।