রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাসপাতালে গৃহবধূর লাশ রেখে পালালেন স্বামী ও শাশুড়ি!

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে হাসপাতালে কোহিনুর বেগম (৩২) নামের এক গৃহবধূর লাশ রেখে স্বামীসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে পালানোর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে সোমবার (২২ নভেম্বর) বিকালে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।

এদিন দুপুরে কোহিনুরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। তিনি উপজেলার হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের বলিয়া গ্রামের সর্দার বাড়ির নজরুল ইসলামের (৪২) স্ত্রী ও একই উপজেলার বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের নোয়াদ্দা গ্রামের আলমগীর হোসেনের মেয়ে।

নিহতের স্বামীর পরিবার থেকে আত্মহত্যা করার কথা বলা হলেও গৃহবধূর বাবার পরিবার দাবি করেছেন, কোহিনুরকে হত্যা করে হাসপাতালে লাশ রেখে পালিয়েছেন স্বামী ও তার শাশুড়িসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন। তবে ওই এলাকার লোকজন নিহতের বিষয়টি রহস্যজনক বলে জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনার দিন কোহিনুরকে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী নজরুল ইসলাম ও তার শাশুড়িসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন। এরপর প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে হাসপাতাল থেকে স্বামী ও শাশুড়ি হাসপাতাল খেকে সটকে পড়েন।

গৃহবধূর বাবা আলমগীর হোসেন জানান, আমরা হাসপাতাল থেকে খবর পেয়ে এসে দেখি, পুলিশ লাশ নিয়ে থানায় চলে গেছে। তিনিসহ তার পরিবারের লোকজন কোহিনুরকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে স্বামী-শাশুড়িসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজনের শাস্তি চান।।

ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে নিশ্চিত করে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ বলেন, এটি হত্যা না আত্মহত্যা, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এলে জানা যাবে। পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

হাসপাতালে গৃহবধূর লাশ রেখে পালালেন স্বামী ও শাশুড়ি!

প্রকাশিত সময় : ১০:৫৮:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ নভেম্বর ২০২১

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে হাসপাতালে কোহিনুর বেগম (৩২) নামের এক গৃহবধূর লাশ রেখে স্বামীসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে পালানোর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে সোমবার (২২ নভেম্বর) বিকালে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।

এদিন দুপুরে কোহিনুরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। তিনি উপজেলার হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের বলিয়া গ্রামের সর্দার বাড়ির নজরুল ইসলামের (৪২) স্ত্রী ও একই উপজেলার বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের নোয়াদ্দা গ্রামের আলমগীর হোসেনের মেয়ে।

নিহতের স্বামীর পরিবার থেকে আত্মহত্যা করার কথা বলা হলেও গৃহবধূর বাবার পরিবার দাবি করেছেন, কোহিনুরকে হত্যা করে হাসপাতালে লাশ রেখে পালিয়েছেন স্বামী ও তার শাশুড়িসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন। তবে ওই এলাকার লোকজন নিহতের বিষয়টি রহস্যজনক বলে জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনার দিন কোহিনুরকে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী নজরুল ইসলাম ও তার শাশুড়িসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন। এরপর প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে হাসপাতাল থেকে স্বামী ও শাশুড়ি হাসপাতাল খেকে সটকে পড়েন।

গৃহবধূর বাবা আলমগীর হোসেন জানান, আমরা হাসপাতাল থেকে খবর পেয়ে এসে দেখি, পুলিশ লাশ নিয়ে থানায় চলে গেছে। তিনিসহ তার পরিবারের লোকজন কোহিনুরকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে স্বামী-শাশুড়িসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজনের শাস্তি চান।।

ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে নিশ্চিত করে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ বলেন, এটি হত্যা না আত্মহত্যা, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এলে জানা যাবে। পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে।