রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় ভোট গণনার সময় হামলা, বিজিবির গুলিতে নিহত ৪

বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট গণনা চলাকালে হামলার ঘটনায় বিজিবির গুলিতে চারজন নিহত হয়েছেন। বুধবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার বালিয়াদীঘি ইউনিয়নের কালাইহাটা উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এ হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- বালিয়াদীঘি ইউনিয়নের কালাইহাটা এলাকার মো. খোকনের স্ত্রী কুলসুম আক্তার (৩৫), খোরশেদ আলী (৭০), আবদুর রশিদ (৪৮) ও আলমগীর (৪০)। এদের মধ্যে কুলসুম আক্তার একজন প্রার্থীর এজেন্ট ছিলেন।

গাবতলী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়া লতিফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় চারজন মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা বিজিবির গুলিতে মারা গেছেন।
এদিকে গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রওনক জাহান জানান, কালাইহাটা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হলেও নৌকার প্রার্থীর সমর্থকরা ভোট গণনায় বাধা দেন। অন্য কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে তারা ভোটের ফলাফল ঘোষণা করতে বলেন।
এতে আপত্তি জানালে নৌকার প্রার্থী ইউনুছ আলী ফকিরের সমর্থকরা ভোটকেন্দ্রে হামলা চালান। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নৌকার কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষ বাধে। নৌকার কর্মী-সমর্থকেরা ইউএনওর গাড়ি ছাড়াও পুলিশ ও বিজিবির মোট চারটি গাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেন। হামলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বে থাকা শাজাহানপুরের ইউএনও আসিফ আহমেদ ছাড়াও বিজিবি-পুলিশের চার সদস্য আহত হন।
এর আগে দুপুরে গাবতলীর রামেশ্বরপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চলাকালে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে জাকির হোসেন (৪০) নামে এক যুবক নিহত হন। রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের জাইগুলি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের পাশে এ ঘটনা ঘটে। গাবতলীতে ভোটের সহিংসতায় বুধবার পাঁচজনের মৃত্যু হলো।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বগুড়ায় ভোট গণনার সময় হামলা, বিজিবির গুলিতে নিহত ৪

প্রকাশিত সময় : ০৩:১৫:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ জানুয়ারী ২০২২
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট গণনা চলাকালে হামলার ঘটনায় বিজিবির গুলিতে চারজন নিহত হয়েছেন। বুধবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার বালিয়াদীঘি ইউনিয়নের কালাইহাটা উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এ হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- বালিয়াদীঘি ইউনিয়নের কালাইহাটা এলাকার মো. খোকনের স্ত্রী কুলসুম আক্তার (৩৫), খোরশেদ আলী (৭০), আবদুর রশিদ (৪৮) ও আলমগীর (৪০)। এদের মধ্যে কুলসুম আক্তার একজন প্রার্থীর এজেন্ট ছিলেন।

গাবতলী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়া লতিফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় চারজন মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা বিজিবির গুলিতে মারা গেছেন।
এদিকে গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রওনক জাহান জানান, কালাইহাটা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হলেও নৌকার প্রার্থীর সমর্থকরা ভোট গণনায় বাধা দেন। অন্য কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে তারা ভোটের ফলাফল ঘোষণা করতে বলেন।
এতে আপত্তি জানালে নৌকার প্রার্থী ইউনুছ আলী ফকিরের সমর্থকরা ভোটকেন্দ্রে হামলা চালান। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নৌকার কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষ বাধে। নৌকার কর্মী-সমর্থকেরা ইউএনওর গাড়ি ছাড়াও পুলিশ ও বিজিবির মোট চারটি গাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেন। হামলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বে থাকা শাজাহানপুরের ইউএনও আসিফ আহমেদ ছাড়াও বিজিবি-পুলিশের চার সদস্য আহত হন।
এর আগে দুপুরে গাবতলীর রামেশ্বরপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চলাকালে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে জাকির হোসেন (৪০) নামে এক যুবক নিহত হন। রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের জাইগুলি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের পাশে এ ঘটনা ঘটে। গাবতলীতে ভোটের সহিংসতায় বুধবার পাঁচজনের মৃত্যু হলো।