আজ বুধবার পঞ্চম ধাপে রাজশাহী বাগমারা উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে । আজ নির্বাচন কমিশন সুত্র মতে ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে ৪ স্তরে নিরাপত্তা বেস্টনির মাধ্যমে এই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
বাগমারার ১৬ ইউনিয়নে ভোট কেন্দ্র ১৫৩টি। এর মধ্যে ৭২টি ঝুকিপুর্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ১৬ ইউপিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৫৪ জন। এছাড়াও সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য পদে ১৬৩ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ৫২৮ জন প্রার্থী রয়েছেন।
জানাগেছে গত ২,৩ ও ৪ তারিখ ১৬টি ইউনিয়ন সরজমিনে ঘুরে জানাযায় ৪জন আওয়ামীলীগ প্রার্থী এগিয়ে, প্রার্থীরা হলেন শ্রীপুর ইউনিয়নের মকবুল হোসেন মৃধা, গোয়ালকান্দী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন সরকার, দ¦ীপপুর ইউনিয়নের ৩৪ বছরের সফল সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ আব্দুল হামিদ, সোনাডাঙ্গা ইউনিয়নের অধ্যক্ষ মোঃ আজাহারুল হক নৌকা প্রতিক নিয়ে এগিয়ে আছেন । এ জনমত জরিপ সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে কথা বলে অনুমান করা হয়েছে। সোনাডাঙ্গা ইউনিয়নের সতন্ত্র প্রার্থী এ্যাডঃ মোঃ মোজাফ্ফর হোসেন চশমা মার্কা এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, তারসহ তার সমর্থকদেরকে নৌকার প্রাথীর সমর্থকেরা ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এব্যাপারে হাটগাঙ্গপাড়ার তদন্ত্রকেন্দ্রে একটি মৌখিক অভিযোগ দায়ের করেন। উক্ত অভিযোগের ব্যাপারে অধ্যক্ষ মোঃ আজাহারুল হকের সাথে মোবাইলে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কল না ধরায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। উক্ত অভিযোগের ব্যাপারে হাটগাঙ্গপাড়ার তদন্ত্রকেন্দ্রের ইনচার্জ ওসি তদন্ত মিজানুর রহমানের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তারা নিজেরা নিজেরা ঘটনা ঘটিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টা করছে। হামিরকুৎসা ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, ত্রিমূখী লড়াই হবে বলে এলাকাবাসীর সূত্রে জানাযায়, প্রর্থীরা হলেন বর্তমান চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আনারস মার্কা, সাংবাদিক ও সতন্ত্র প্রার্থী জননেতা রাশেদুল হক ফিরজ চশমা মার্কা ও সতন্ত্র প্রার্থী সাফিনুর নাহার ঘোড়া মার্কা তাদের সকলের সাথে কথা বলে জানাযায় সুষ্ঠ নির্বাচন হলে তারা স-স ভাবে তিন জন জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী । মাড়িয়া ইউনিয়নে ত্রিমূখী লড়াই হবে বলে এলাকাবাসীর সূত্রে জানাযায়, প্রর্থীরা হলেন বর্তমান চেয়ারম্যান আসকান আলী আসকান, এমপি এনামুল হকের বড় ভাই রেজাউল করিম মটোরসাইকেল মার্কা নিয়ে প্রতিদন্দীতা করছে, এছাড়া সাবেক চেয়ারম্যান আকবর আলী ।
এ ছাড়া নরদাশ ইউনিয়নে নৌকা প্রার্থী অধ্যক্ষ গোলাম সারওয়ার আবুল, সতন্ত্র প্রার্থী আনারস মার্কা মাষ্টার মোঃ মোশাররফ হোসেন ও মটোরসইকেল মার্কা মাষ্টার মোঃ আঃ রশিদ এর মধ্যে ত্রীমূখী হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই চলছে বলে এলাকার মানুষের সাথে কথা বলে জানাগেছে। ইতিমধ্যে ঝিকড়া ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ জানান, ঝিকড়া ইউনিয়নের প্রচার প্রচারণায় আঃ হামিদ ফৌজদার নৌকা মার্কা নিয়ে এগিয়ে থাকলেও শক্ত অবস্থানে আছে মোঃ রফিকুল ইসলাম ও জামাত সমর্থীত প্রার্থী ইব্রাহিম হোসেন। বড় বিহানলী ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী রেজাউল করিম রেজা প্রচার প্রচারণায় এগিয়ে থাকলেও শক্ত অবস্থানে আছে সতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া মার্কা মাহমুদুর রহমান মিলন। এদিকে যোগীপাড়া ইউনিয়ন ঘুরে জানাগেছে, প্রচার প্রচারণায় জাহাঙ্গীর আলম বাদশা নৌকা মার্কা নিয়ে এগিয়ে থাকলেও এমপি এনামুল হকের আত্মীয় এম এফ মাজেদুল ইসলাম সোহাগ চশমা মার্কা বিপুল ভোটে এগিয়ে আছেন বলে এলাকাবাসী জানান এছাড়া বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তফা কামাল ঘোড়া মার্কা নিয়ে ৩য় অবস্থানে আছেন। এছাড়াও গণিপুর ইউনিয়নে প্রচার প্রচারণায় এনামুল নৌকা মার্কা নিয়ে এগিয়ে থাকলেও বর্তমান চেয়ারম্যান প্রার্থী এ্যাডঃ মনিরুজ্জামান চশমা মার্কা নিয়ে শক্ত অবস্থানে আছেন বলে এলাকাবাসী জানান। বাসুপাড়া ইউনিয়নে প্রচার প্রচারণায় লুৎফর নৌকা মার্কা নিয়ে এগিয়ে থাকলেও সতন্ত্র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আঃ জব্বার মন্ডল আনারস মার্কা নিয়ে শক্ত অবস্থানে আছেন বলে এলাকাবাসী জানান। কাচারীকোয়ালীপাড়া ইউনিয়নে প্রচার প্রচারণায় আয়েন উদ্দিন নৌকা মার্কা নিয়ে এগিয়ে থাকলেও সতন্ত্র প্রার্থী মোজাম্মেল হক আনারস মার্কা নিয়ে শক্ত অবস্থানে আছেন বলে এলাকাবাসী জানান। আউচপাড়া ইউনিয়নে প্রচার প্রচারণায় সরদার জান মোহাম্মাদ নৌকা মার্কা নিয়ে এগিয়ে থাকলেও সতন্ত্র প্রার্থী আঃ রহিম আনারস মার্কা নিয়ে শক্ত অবস্থানে আছেন এবং এখানে দ্বিমুখী লড়াই হবে বলে এলাকাবাসী জানান। সুভোডাঙ্গা ইউনিয়নে প্রচার প্রচারণায় আঃ হাকিম নৌকা মার্কা নিয়ে এগিয়ে থাকলেও সতন্ত্র প্রার্থী মোশারফ মটোরসাইকেল মার্কা মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে এলাকাবাসী জানান । গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নে প্রচার প্রচারণায় আল মামুন নৌকা মার্কা নিয়ে এগিয়ে থাকলেও কমিনিষ্ট পার্টির প্রার্থী বিজন সরকার আনারস মার্কা নিয়ে শক্ত অবস্থানে আছেন বলে এলাকাবাসী জানান । রাজশাহী জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপুর্ন করতে সব ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ঝুকিপূর্ন কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম বলেন, রাজশাহী জেলার ১৯ ইউনিয়নের মধ্যে জেলা পুলিশের আওতায় রয়েছে ১৮টি ইউনিয়ন। একটি ইউনিয়ন মহানগর পুলিশের অধিনে। ১৮ ইউনিয়নে ভোট শান্তিপূর্ন করতে ১১৮০ জন পুলিশ সদস্য থাকবে। এছাড়াও বিজিবি ও র্যাবের টহল ছাড়াও প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবে আনসার সদস্যরা।
মঙ্গলবার দুপুরের পর উপজেলার সদর থেকে নির্বাচনী সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সন্ধ্যার মধ্যে নির্বাচন সামগ্রী নিয়ে কেন্দ্রে কেন্দ্র পৌঁছে যান প্রিজাইডিং অফিসাররা। তবে ব্যালোট পেপার কেন্দ্র পাঠানো হবে সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে। বুধবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ২,৬৪,১৩৭ জন ভোটর ভোট প্রয়োগ করবে এর মধ্যে পুরুষ ১,৩২,৭২৪ জন এবং মহিলা ১,৩১,৪১৩ জন বলে জানিয়েছেন জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম।

আশরাফুল ইসলাম 






















