রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হজের কাপড়কেই ‘কাফন’ হিসেবে রেখে যান রিয়াজের শ্বশুর

ফেসবুকে এখন ঢুঁ মারলেই মিলছে চিত্রনায়ক রিয়াজের শ্বশুর আবু মহসিন খানের কিছু স্মৃতি। ভাসছে দরজার সেই লেখা আর কাফনের কাপড়ের ছবি। আত্মহত্যার আগে এ মানুষটি নিজের জীবনের সব কষ্টের কথা বলে যান ফেসবুকে লাইভে। মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ীও করেননি। সোজা মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে লাইসেন্স করা গুলিতে প্রাণ দেন। তবে মৃত্যুর আগেই হজে ব্যবহার করা সেই কাপড়কে কাফন হিসেবে রেখে যান আবু মহসিন খান।

বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে নিজ বাসায় ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যা করেন মহসিন। আত্মহত্যার আগে একটি সুইসাইড নোট রেখে গেছেন তিনি। সেখানে লিখেছেন ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।’ এছাড়া আত্মহত্যার আগে তিনি কাফনের কাপড় রেখে গেছেন। কম্পিউটারে টাইপ করা কাপড়ের প্যাকেটের ওপর নোটও রেখে যান তিনি।

পুলিশ জানায়, বুধবার রাতে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে আসেন নায়ক রিয়াজের শ্বশুর আবু মহসিন খান। লাইভে নিজের শারীরিক অবস্থা, পরিবার, স্বজন, ব্যবসাসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন। লাইভের ১৫ মিনিটের মাথায় প্রথমে একটি ফাঁকা গুলি। পরে নিজের মাথার ডান পাশে গুলি করেন মহসিন খান। এরপর নিস্তেজ হয়ে পড়েন তিনি।

ফেসবুকে লাইভের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, কালেমা পড়তে পড়তে নিজের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করেন মহসিন। মোট ১ ঘণ্টা ১৩ মিনিট ৬ সেকেন্ডের লাইভে নিজের মাথায় গুলি করেন ১৬ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের সময়। ভিডিওতে দেখা যায় গুলির পরে ১৬ মিনিট ২১ সেকেন্ডের সময় নিজের হাত থেকে পিস্তলটি পড়ে যায়। এরপর ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়েন।

লাইভে তিনি বার্ধক্যের নিঃসঙ্গতা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি ক্যানসার আক্রান্ত। আমার ব্যবসা এখন বন্ধ। আমার এক ছেলে থাকে অস্ট্রেলিয়ায়। আমি বাসায় একাই থাকি। আমার ভয় করে যে, আমি বাসায় মরে পড়ে থাকলে, লাশ পচে গেলেও কেউ হয়তো খবর পাবে না।

এ বিষয়ে পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ধানমণ্ডি এলাকার ৭ নম্বর সড়কের ২৫ নম্বর বাড়ির ওই ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন আবু মহসিন খান। তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নন বলে সুইসাইড নোটে লিখে গেছেন তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

হজের কাপড়কেই ‘কাফন’ হিসেবে রেখে যান রিয়াজের শ্বশুর

প্রকাশিত সময় : ০২:১৬:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২২

ফেসবুকে এখন ঢুঁ মারলেই মিলছে চিত্রনায়ক রিয়াজের শ্বশুর আবু মহসিন খানের কিছু স্মৃতি। ভাসছে দরজার সেই লেখা আর কাফনের কাপড়ের ছবি। আত্মহত্যার আগে এ মানুষটি নিজের জীবনের সব কষ্টের কথা বলে যান ফেসবুকে লাইভে। মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ীও করেননি। সোজা মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে লাইসেন্স করা গুলিতে প্রাণ দেন। তবে মৃত্যুর আগেই হজে ব্যবহার করা সেই কাপড়কে কাফন হিসেবে রেখে যান আবু মহসিন খান।

বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে নিজ বাসায় ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যা করেন মহসিন। আত্মহত্যার আগে একটি সুইসাইড নোট রেখে গেছেন তিনি। সেখানে লিখেছেন ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।’ এছাড়া আত্মহত্যার আগে তিনি কাফনের কাপড় রেখে গেছেন। কম্পিউটারে টাইপ করা কাপড়ের প্যাকেটের ওপর নোটও রেখে যান তিনি।

পুলিশ জানায়, বুধবার রাতে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে আসেন নায়ক রিয়াজের শ্বশুর আবু মহসিন খান। লাইভে নিজের শারীরিক অবস্থা, পরিবার, স্বজন, ব্যবসাসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন। লাইভের ১৫ মিনিটের মাথায় প্রথমে একটি ফাঁকা গুলি। পরে নিজের মাথার ডান পাশে গুলি করেন মহসিন খান। এরপর নিস্তেজ হয়ে পড়েন তিনি।

ফেসবুকে লাইভের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, কালেমা পড়তে পড়তে নিজের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করেন মহসিন। মোট ১ ঘণ্টা ১৩ মিনিট ৬ সেকেন্ডের লাইভে নিজের মাথায় গুলি করেন ১৬ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের সময়। ভিডিওতে দেখা যায় গুলির পরে ১৬ মিনিট ২১ সেকেন্ডের সময় নিজের হাত থেকে পিস্তলটি পড়ে যায়। এরপর ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়েন।

লাইভে তিনি বার্ধক্যের নিঃসঙ্গতা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি ক্যানসার আক্রান্ত। আমার ব্যবসা এখন বন্ধ। আমার এক ছেলে থাকে অস্ট্রেলিয়ায়। আমি বাসায় একাই থাকি। আমার ভয় করে যে, আমি বাসায় মরে পড়ে থাকলে, লাশ পচে গেলেও কেউ হয়তো খবর পাবে না।

এ বিষয়ে পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ধানমণ্ডি এলাকার ৭ নম্বর সড়কের ২৫ নম্বর বাড়ির ওই ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন আবু মহসিন খান। তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নন বলে সুইসাইড নোটে লিখে গেছেন তিনি।