রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

১৯১ ভরি স্বর্ণসহ পাচারকারি আটক

কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্ত এলাকা থেকে ১৯১ ভরি স্বর্ণালংকারসহ এক পাচারকারিকে আটক করেছে র‍্যাব। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের মূল্য প্রায় এক কোটি ২৬ লাখ টাকা।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন, বুধবার সকালে উখিয়া উপজেলার পালংখালী সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে স্বর্ণের বড় একটি চালান পাচারের খবর পায় র‍্যাব। এ খবরে পালংখালী এলাকায় বিশেষ কৌশলে অস্থায়ী তল্লাশী চৌকি স্থাপন করে অভিযান শুরু করা হয়। এক পর্যায়ে তল্লাশী চৌকির সামনে আসা এক ব্যক্তির গতিবিধি ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে থামতে নির্দেশ দেয় র‌্যাব সদস্যরা। এসময় লোকটি পালানো চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে তাকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তির কাছে পালানোর কারণ জানতে চাইলে অসংলগ্নতা কথাবার্তায় সন্দেহ হলে তার দেহ তল্লাশী করা হয়। এসময় তার শরীরে বিশেষ কৌশলে বহন করা অবস্থায় ৬টি স্বর্ণের বার, ৪টি নেকলেস, ৩৩টি গলার চেইন, ১৭টি চুড়ি, ৩৫ জোড়া কানের দুল, ১৫টি লকেট, ১২টি নাকফুল ও ১৬টি আংটিসহ ১৯১ ভরি ৬ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার পাওয়া যায়। এসব স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ২৬ লাখ ৯ হাজার ৪৫৯ টাকা, জানান খাইরুল ইসলাম।

এছাড়া আটক ব্যক্তির কাছ থেকে মিয়ানমারের মোবাইল অপারেটর কোম্পানীর ২টি এবং বাংলাদেশী ২টি সীম কার্ড জব্দ করা হয়েছে। এসব সীম কার্ড পাচারকাজে ব্যবহার করা হত।

আটক করম আলী ওরফে করিম (৩৭) টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মনিয়াঘোনা এলাকার ঠাণ্ডা মিয়ার ছেলে।

র‍্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, সীমান্তে সংঘবদ্ধ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণ চোরাচালানের সাথে জড়িত। আটক ব্যক্তি উদ্ধার করা স্বর্ণের চালানটি উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়ে যাচ্ছিল। স্বর্ণ চোরাচালানের সাথে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয় একটি চক্রও জড়িত।’

আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে উখিয়া থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান লে. কর্নেল খাইরুল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

১৯১ ভরি স্বর্ণসহ পাচারকারি আটক

প্রকাশিত সময় : ০৪:৩৪:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২২

কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্ত এলাকা থেকে ১৯১ ভরি স্বর্ণালংকারসহ এক পাচারকারিকে আটক করেছে র‍্যাব। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের মূল্য প্রায় এক কোটি ২৬ লাখ টাকা।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন, বুধবার সকালে উখিয়া উপজেলার পালংখালী সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে স্বর্ণের বড় একটি চালান পাচারের খবর পায় র‍্যাব। এ খবরে পালংখালী এলাকায় বিশেষ কৌশলে অস্থায়ী তল্লাশী চৌকি স্থাপন করে অভিযান শুরু করা হয়। এক পর্যায়ে তল্লাশী চৌকির সামনে আসা এক ব্যক্তির গতিবিধি ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে থামতে নির্দেশ দেয় র‌্যাব সদস্যরা। এসময় লোকটি পালানো চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে তাকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তির কাছে পালানোর কারণ জানতে চাইলে অসংলগ্নতা কথাবার্তায় সন্দেহ হলে তার দেহ তল্লাশী করা হয়। এসময় তার শরীরে বিশেষ কৌশলে বহন করা অবস্থায় ৬টি স্বর্ণের বার, ৪টি নেকলেস, ৩৩টি গলার চেইন, ১৭টি চুড়ি, ৩৫ জোড়া কানের দুল, ১৫টি লকেট, ১২টি নাকফুল ও ১৬টি আংটিসহ ১৯১ ভরি ৬ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার পাওয়া যায়। এসব স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ২৬ লাখ ৯ হাজার ৪৫৯ টাকা, জানান খাইরুল ইসলাম।

এছাড়া আটক ব্যক্তির কাছ থেকে মিয়ানমারের মোবাইল অপারেটর কোম্পানীর ২টি এবং বাংলাদেশী ২টি সীম কার্ড জব্দ করা হয়েছে। এসব সীম কার্ড পাচারকাজে ব্যবহার করা হত।

আটক করম আলী ওরফে করিম (৩৭) টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মনিয়াঘোনা এলাকার ঠাণ্ডা মিয়ার ছেলে।

র‍্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, সীমান্তে সংঘবদ্ধ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণ চোরাচালানের সাথে জড়িত। আটক ব্যক্তি উদ্ধার করা স্বর্ণের চালানটি উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়ে যাচ্ছিল। স্বর্ণ চোরাচালানের সাথে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয় একটি চক্রও জড়িত।’

আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে উখিয়া থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান লে. কর্নেল খাইরুল।