রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্যাট হাতে একাই লড়ছেন তামিম, গড়লেন রেকর্ড

কদিন আগেও টাইগার ওপেনার তামিম ইকবালের ব্যাটিং নিয়ে ক্রিকেট পারায় নানা গুঞ্জন শোনা যায়। কেউ বলেছে, ব্যাটিং ভুলে গেছে তামিম। আবার কেউ বলেছে, তার ব্যাটে ধার কমে গেছে। অবশেষে চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিন্দুকদের মোক্ষম জবাব দিলেন তামিম। ব্যাট হাতে লঙ্কানদের বিপক্ষে মঙ্গলবার (১৭মে) একাই লড়াই করছেন তামিম। সেই সঙ্গে তিনি টেস্ট ক্যারিয়ারে ৫ হাজার রানের মাইলফল স্পশ করেন। এই রেকর্ড গড়তে তামিমের প্রয়োজন ছিল ১১৭ রান। তৃতীয় দিন বেশ ঠান্ডা মাথায় ব্যাট চালিয়ে তিনি টেস্ট ক্যারিয়ারে ৫ হাজার রান পূর্ণ করেন। এছাড়া মঙ্গলবার ৪৮৪৮ রানে চট্টগ্রাম টেস্ট শুরু করেন তামিম। এদিন প্রথম ইনিংসে ৮৫ রান করতেই মুশফিককে পেছনে ফেলেন বাঁহাতি ওপেনার। তামিম এখন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ টেস্ট রান সংগ্রাহক। ৬৬ ম্যাচে তামিমের রান ৪৯৩৭। আর মুশফিকের সংগ্রহ ৮১ ম্যাচে ৪৯৩২ রান।

এছাড়া রেকর্ডবুকে নিজের নাম লেখানো যে কোনো ক্রিকেটারের জন্য বিশেষ এক মুহূর্ত। তা যদি নিজের ঘরের মাঠে হয় তাহলে সেই আনন্দ অধিকতর স্মরণীয় হয়ে থাকে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এমনই এক স্মরণীয় মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করছিল তামিমসহ পুরো চট্টগ্রামবাসী। তিনি ভক্তদের হতাশ করেনি। তামিম সেই সঙ্গে প্রমাণ করেছেন তার ব্যাটে ধার কমেনি। এমনকি টেস্ট ক্যারিয়ারে ১০তম সেঞ্চুরিও করেছে টাইগাররা এই ওপেনার। তিনি ১৬২ বলে সেঞ্চুরি করেন। আর চট্টগ্রাম টেস্টে এটি তামিমের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি।

এদিকে তৃতীয় দিন দেখে শুনে ব্যাট চালিয়ে জয় টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। যা দেশের মাটিতে প্রথম। ১১০ বল মোকাবেলা করে ৮টি চারের সাহায্যে ফিফটি করেন তরুণ এইব্যাটসম্যান। তিনি এর আগে প্রথম হাফসেসঞ্চুরি করেন নিউজিল্যান্ডের মাটিতে। এরপর প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ পান দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে। ৫ টেস্টের ক্যারিয়ারে ২ হাফসেঞ্চুরি ও ১ সেঞ্চুরি করেছে জয়। তবে চট্টগ্রাম টেস্টে তারাহুরো করে রান তুলতে গিয়ে ব্যাক্তিগত ৫৮ রানে আউট হন জয়। এরপর ক্রিজে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু তিনি সাদা পোশাকে নিজের জাত চেনাতে ব্যর্থ হন। বিশ্ব ফার্নান্দোর বদলি হিসেবে মঙ্গলবার মাঠে নামেন কাসুন রাজিথা। তিনি বল হাতে প্রথম ওভারেই উইকেট শিকার করেন। রাজিথা দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে শান্তকে সাঝঘরে ফেরান। ২২ বলে ১ রান করেন শান্ত। এরপর তামিমকে বেশিক্ষন সঙ্গ দিতে পারেননি অধিনায়ক মুমিনুল হক। তিনি রাজিথার দ্বিতীয় শিকার হয়ে সাঝঘরে ফিরেন। মুমিনুল ১৯ বলে ২ রান করেন।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে বেশ ফুরফুরে মেজাজে ব্যাট চালিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে ৩২তম হাফসেঞ্চুরিও তুলে নিয়েছে তামিম। তামিম ৭৮ বলে ৮টি চার হাঁকিয়ে ৫৬ রান তুলে।

এর আগে সোমবার (১৬মে) লঙ্কান বোলারদের মনোবল ভেঙে দিতে তামিম-জয় ব্যাট হাতে দুদান্ত খেলে। তারা দুজন হাঁকিয়েছেন ৯টি বাউন্ডারি। যেখানে চারটি ৪ মেরেছেন তামিম। ৪ চারের সাহায্যে ৬৭.৩১ স্ট্রাইক রেটে ৫২ বলে ৩৫ রান নিয়ে প্রথমদিন শেষ করেন তিনি। মঙ্গলবার তৃতীয় দিন শুরু থেকে সতর্কতা অবলম্বন করেই ব্যাট চালায় তামিম-জয়। হাফসেঞ্চুরির পরই জীবন পেয়েছিলেন জয়। তার সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেন এম্বুলদেনিয়া। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেন না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ব্যাট হাতে একাই লড়ছেন তামিম, গড়লেন রেকর্ড

প্রকাশিত সময় : ০৩:১০:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২

কদিন আগেও টাইগার ওপেনার তামিম ইকবালের ব্যাটিং নিয়ে ক্রিকেট পারায় নানা গুঞ্জন শোনা যায়। কেউ বলেছে, ব্যাটিং ভুলে গেছে তামিম। আবার কেউ বলেছে, তার ব্যাটে ধার কমে গেছে। অবশেষে চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিন্দুকদের মোক্ষম জবাব দিলেন তামিম। ব্যাট হাতে লঙ্কানদের বিপক্ষে মঙ্গলবার (১৭মে) একাই লড়াই করছেন তামিম। সেই সঙ্গে তিনি টেস্ট ক্যারিয়ারে ৫ হাজার রানের মাইলফল স্পশ করেন। এই রেকর্ড গড়তে তামিমের প্রয়োজন ছিল ১১৭ রান। তৃতীয় দিন বেশ ঠান্ডা মাথায় ব্যাট চালিয়ে তিনি টেস্ট ক্যারিয়ারে ৫ হাজার রান পূর্ণ করেন। এছাড়া মঙ্গলবার ৪৮৪৮ রানে চট্টগ্রাম টেস্ট শুরু করেন তামিম। এদিন প্রথম ইনিংসে ৮৫ রান করতেই মুশফিককে পেছনে ফেলেন বাঁহাতি ওপেনার। তামিম এখন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ টেস্ট রান সংগ্রাহক। ৬৬ ম্যাচে তামিমের রান ৪৯৩৭। আর মুশফিকের সংগ্রহ ৮১ ম্যাচে ৪৯৩২ রান।

এছাড়া রেকর্ডবুকে নিজের নাম লেখানো যে কোনো ক্রিকেটারের জন্য বিশেষ এক মুহূর্ত। তা যদি নিজের ঘরের মাঠে হয় তাহলে সেই আনন্দ অধিকতর স্মরণীয় হয়ে থাকে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এমনই এক স্মরণীয় মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করছিল তামিমসহ পুরো চট্টগ্রামবাসী। তিনি ভক্তদের হতাশ করেনি। তামিম সেই সঙ্গে প্রমাণ করেছেন তার ব্যাটে ধার কমেনি। এমনকি টেস্ট ক্যারিয়ারে ১০তম সেঞ্চুরিও করেছে টাইগাররা এই ওপেনার। তিনি ১৬২ বলে সেঞ্চুরি করেন। আর চট্টগ্রাম টেস্টে এটি তামিমের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি।

এদিকে তৃতীয় দিন দেখে শুনে ব্যাট চালিয়ে জয় টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। যা দেশের মাটিতে প্রথম। ১১০ বল মোকাবেলা করে ৮টি চারের সাহায্যে ফিফটি করেন তরুণ এইব্যাটসম্যান। তিনি এর আগে প্রথম হাফসেসঞ্চুরি করেন নিউজিল্যান্ডের মাটিতে। এরপর প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ পান দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে। ৫ টেস্টের ক্যারিয়ারে ২ হাফসেঞ্চুরি ও ১ সেঞ্চুরি করেছে জয়। তবে চট্টগ্রাম টেস্টে তারাহুরো করে রান তুলতে গিয়ে ব্যাক্তিগত ৫৮ রানে আউট হন জয়। এরপর ক্রিজে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু তিনি সাদা পোশাকে নিজের জাত চেনাতে ব্যর্থ হন। বিশ্ব ফার্নান্দোর বদলি হিসেবে মঙ্গলবার মাঠে নামেন কাসুন রাজিথা। তিনি বল হাতে প্রথম ওভারেই উইকেট শিকার করেন। রাজিথা দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে শান্তকে সাঝঘরে ফেরান। ২২ বলে ১ রান করেন শান্ত। এরপর তামিমকে বেশিক্ষন সঙ্গ দিতে পারেননি অধিনায়ক মুমিনুল হক। তিনি রাজিথার দ্বিতীয় শিকার হয়ে সাঝঘরে ফিরেন। মুমিনুল ১৯ বলে ২ রান করেন।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে বেশ ফুরফুরে মেজাজে ব্যাট চালিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে ৩২তম হাফসেঞ্চুরিও তুলে নিয়েছে তামিম। তামিম ৭৮ বলে ৮টি চার হাঁকিয়ে ৫৬ রান তুলে।

এর আগে সোমবার (১৬মে) লঙ্কান বোলারদের মনোবল ভেঙে দিতে তামিম-জয় ব্যাট হাতে দুদান্ত খেলে। তারা দুজন হাঁকিয়েছেন ৯টি বাউন্ডারি। যেখানে চারটি ৪ মেরেছেন তামিম। ৪ চারের সাহায্যে ৬৭.৩১ স্ট্রাইক রেটে ৫২ বলে ৩৫ রান নিয়ে প্রথমদিন শেষ করেন তিনি। মঙ্গলবার তৃতীয় দিন শুরু থেকে সতর্কতা অবলম্বন করেই ব্যাট চালায় তামিম-জয়। হাফসেঞ্চুরির পরই জীবন পেয়েছিলেন জয়। তার সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেন এম্বুলদেনিয়া। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেন না।