1. news@dailydeshnews.com : Admin2021News :
  2. : deleted-txS0YVEn :
শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২, ০২:০৫ অপরাহ্ন

সিলেটে বাঁধ ভেঙে বন্যার অবনতি, পানিবন্দি ১৫ লাখ মানুষ

দৈনিক দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২১ মে, ২০২২
  • ৩০ পঠিত

সিলেটে প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি কমতে শুরু করলেও বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি হয়নি। বরং জকিগঞ্জের অমলশিদে ত্রিমোহনার বাঁধ ভেঙে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে বেশ কয়েকটি এলাকা। সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। সুনামগঞ্জের ছাতকে গ্রামাঞ্চলের ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অল্প হারে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। তবে চরম দুর্ভোগে পড়েছে ঘরবাড়ি-রাস্তাঘাট ভেঙে যাওয়া মানুষজন। আমাদের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম (সিলেট), ছায়াদ মিয়া (শান্তিগঞ্জ-সুনামগঞ্জ) এবং শংকর দত্ত (ছাতক-সুনামগঞ্জ) এসব তথ্য জানিয়েছেন।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, গতকাল শুক্রবার বিকাল তিনটা পর্যন্ত সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৯৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা গত বৃহস্পতিবারের চেয়ে ৩১ সেন্টিমিটার কম। এছাড়া সিলেট পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার কমে বর্তমানে বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে কুশিয়ারা নদী অমলশিদ পয়েন্টে বিপদসীমার ১৬৭ সেন্টিমিটার, ফেঞ্চুগঞ্জে ২৭ সেন্টিমিটার এবং শ্যাওলা পয়েন্টে ৫৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তবে একই সময়ে বিপদসীমার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে সারি, লোভা ও ধলাই নদীর পানি।

নদীতে পানি কমতে থাকলেও এখনও পানিবন্দি রয়েছে ১০ উপজেলার অন্তত ১৫ লাখ মানুষ। কানাইঘাট উপজেলার উঁচু এলাকাগুলো থেকে পানি নামতে শুরু করলেও এখনো নিম্নাঞ্চল জলমগ্নই রয়েছে। এছাড়া কানাইঘাটে তিনজনের ভাসমান লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে নৌকাডুবিতে দুইজন মারা যাওয়ার খবর নিশ্চিত করলেও তৃতীয় জনের মৃত্যুর কারণ জানাতে পারেনি কানাইঘাট থানা পুলিশ। ইতোমধ্যেই বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য হাফিজ আহমদ মজুমদার। পরিদর্শনকালে তিনি বন্যার্তদের মধ্যে সরকারি ত্রাণ পৌঁছে দেন।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার অমলশিদ এলাকায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর উৎসস্থলের নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে প্রবলস্রোতে পানি ঢুকে প্লাবিত হয়েছে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। তাৎক্ষণিকভাবে অন্তত ছয়টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার ফলে উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্র ¯্রােতে বরাক-সুরমা-কুশিয়ারার মোহনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদীরক্ষা বাঁধটি কমপক্ষে ৬০ ফুট এলাকা নিয়ে ভেঙে যায়। মুহূর্তেই জকিগঞ্জের ফিল্লাকান্দি, অমলশিদ, বারঠাকুরী, খাসিরচক, খাইরচক, বারোঘাট্টা, সোনাসারসহ বেশ কিছু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। একই সঙ্গে উপজেলা সদরের সঙ্গে অমলশিদের যাতায়াতের প্রধান সড়কটিও পানিতে তলিয়ে গেছে।

এছাড়া গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানিগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ ও সিলেট সদর উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে এসব এলাকায় এখনো বিশাল অংশ পানির নিচেই রয়েছে। যার কারণে বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে এখনো বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়নি।

এদিকে সিলেট মহানগরীর বেশ কিছু এলাকার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে এখনো কোনো এলাকা থেকেই পানি পুরোপুরি নেমে যায়নি। পানি কমতে থাকায় বেশ কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, সিটি করপোরেশন এলাকা বন্যার্তদের জন্য ইতোমধ্যেই একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এছাড়া বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগ পর্যন্ত সিসিকের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে সবাইকে বন্যাদুর্গত ওয়ার্ডগুলোর অবস্থা সার্বক্ষণিক মনিটর করার নির্দেশনাও রয়েছে।

পানিতে ভাসছে শান্তিগঞ্জের গ্রামের পর গ্রাম : উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শান্তিগঞ্জ উপজেলায় দ্রুতগতিতে বাড়ছে পানি। বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। একের পর এক দুর্যোগে দিশাহারা হাওরপাড়ের বাসিন্দারা। বসতবাড়িতে পানি উঠে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। পানিবন্দি মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে।

পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে সমান তালে ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পানি হু হু করে বাড়ছে। ফলে নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যেই প্লাবিত হয়েছে। গতকাল বিকাল পর্যন্ত বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়ে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। বিচ্ছিন্ন হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থাও। নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় ছুটছেন বানভাসিরা। তবে ধান, গবাদি পশু যেন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে বন্যার্তদের।

উপজেলার বাসিন্দারা জানান, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুতগতিতে ঢুকছে। এতে উপজেলার সবকটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি একাধিক ব্যক্তি জানান, বসতঘরে পানি উঠে গেছে। জরুরি কাজ থাকা সত্ত্বেও কোথাও বের হওয়া যাচ্ছে না। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় নৌকা দিয়ে পার হতে হচ্ছে। পরিস্থিতি খুব খারাপ। বন্যাদুর্গত মিজানুর রহমান বলেন, শান্তিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। বন্যায় পুকুরের মাছ ঘরবাড়ি সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। এই দুর্যোগ মুহূর্তে সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি যে কোনো প্রয়োজনে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রভাষক নূর হোসেন।

এদিকে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বন ও সতর্ক অবস্থানে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার-উজ জামান। তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার ও ত্রাণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রত্যেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে বন্যার তথ্য দিতে বলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত আছে, যাদের বাড়িঘর পানিতে ডুবেছে তাদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বলা হয়েছে।

ছাতকে কমছে বন্যার পানি : ছাতকে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সুরমা, চেলা ও পিয়াইন নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও গ্রামাঞ্চলের ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অল্প হারে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। তবে চরম দুর্ভোগে পড়েছে ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট ভেঙে যাওয়া মানুষজন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এখনও ৫ শতাধিক পরিবার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র ও পার্শ্ববর্তী প্রাইমারি স্কুলে অবস্থান নিয়েছেন। প্রায় অর্ধশত পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র ত্যাগ করে বাড়িঘরে ফিরেছে। ত্রাণ সহায়তাও অপ্রতুল। সেই সঙ্গে খাবার পানির সংকট তীব্র রয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের সংকট। নদীভাঙন নতুন সংকট তৈরি করছে।

টানা বৃৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ও নোয়ারাই ইউনিয়নসহ ১৩ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভার অধিকাংশ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় ছিলেন। গ্রামীণ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থাও ছিল বিচ্ছিন্ন।

এদিকে গ্রামীণ কাঁচা রাস্তাঘাট পানির নিচ থেকে ভেসে উঠলেও কাদা মাটিতে পরিণত হওয়ায় এসব রাস্তা দিয়ে পায়ে হেঁটে চলাচল করা যাচ্ছে না। ঘরবাড়ি পানির নিচ থেকে ভেসে উঠলেও বসবাস করতে গিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বন্যার পানি নামলেও শিক্ষা কার্যক্রম এখন স্বাভাবিক হয়নি।

গোবিন্দগঞ্জের বাসিন্দা মাছ ব্যবসায়ী আব্দুল মতিন জানান, বন্যায় ঘর ডুবে গিয়েছিল শিশু-কিশোর ও পরিবারের সদস্যদের প্রাইমারি স্কুলের দোতলায় আশ্রয় নিয়েছি। পানি অল্প কমছে তবুও ঘরে ফিরতে পারছি না। কারণ মাটির ঘর। এখন ঘরে ঢুকলে ঘর ভেঙে যেতে পারে।

ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুনুর রহমান জানান, আমরা বন্যার্তদের মধ্যে শুক্রবার ২০ মে, ছাতকের বিভিন্ন ইউনিয়নে ২৫ টন ত্রাণ বিতরণ করেছি এবং ত্রাণ বিতরণ অব্যহত থাকবে বলে জানান।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের উপনির্বাহী প্রকৌশলী তুফিউল ইসলাম তুহিন জানান, ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি শুক্রবার ২.৫ সেন্টিমিটার পানি হ্রাস পেয়েছে।ভোরের কাগজ

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর
© All Rights Reserved © DAILY DESH NEWS.COM 2020-2022
Theme Customized BY Sky Host BD