শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ১৫

গত শুক্রবার (২৭ মে) সকাল ৮ টা হতে আজ শনিবার (২৮ মে) সকাল ৮ টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এমন তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও নিয়ন্ত্রণকক্ষ। এ বছর বৃষ্টির মৌসুম আসার আগেই রাজধানীতে বেড়েছে ডেঙ্গুর প্রভাব।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার গণমাধ্যমকে বলেন, ডেঙ্গুর মৌসুম সাধারণত জুন থেকে শুরু হয়, আর শেষ হয় অক্টোবরে। দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব এখন আস্তে আস্তে বাড়তে থাকবে। কারণ, দেশে বৃষ্টিপাত হচ্ছে, এতে বিভিন্ন স্থানে পানি জমছে। এই জমা পানিতে এডিস মশার জন্ম হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কোনো পাত্রে বা স্থানে সাত দিনের পানি যাতে জমে না থাকে, সে বিষয়ে ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে। ফুলের টব, গাছ কিংবা যেকোনো পাত্রে যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। উন্মুক্ত স্থানে সাত দিনের বেশি পানি জমে থাকলেও সেখান থেকে এডিস মশার জন্ম হতে পারে। এ জন্য রাস্তাঘাটেও যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে ঢাকার সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্টদের নজর দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে রোগী ভর্তি হয়েছেন ১৫ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন ৪৩ জন। এদের মধ্যে ৪২ জনই রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ শনিবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩১০ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২৬৭ জন। এ ছাড়া, চলতি বছরের জানুয়ারিতে রোগী ভর্তি ছিল ১২৬ জন, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ২০ জন করে, এপ্রিলে ২৩ জন এবং মে মাসের ২৮ দিনে ১২১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বিশেজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন ডেঙ্গু প্রকোপের এ সময়ে বাসাবাড়িতে অব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্রে পানি জমতে না দেওয়াসহ দিনে ও রাতে মশারি টানাতে হবে। বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, একটি নিরাপদ এবং কার্যকর ডেঙ্গু ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা চলছে। তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা মেনে চলা এবং প্রতিরোধমূলক প্রোটোকল মেনে চলা সর্বোত্তম উপায়। এটি মনে রাখা উচিত যে ডেঙ্গু একটি সংক্রমণ হিসেবে রয়ে গেছে, যা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্মূল করা যায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ১৫

প্রকাশিত সময় : ১০:০০:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মে ২০২২

গত শুক্রবার (২৭ মে) সকাল ৮ টা হতে আজ শনিবার (২৮ মে) সকাল ৮ টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এমন তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও নিয়ন্ত্রণকক্ষ। এ বছর বৃষ্টির মৌসুম আসার আগেই রাজধানীতে বেড়েছে ডেঙ্গুর প্রভাব।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার গণমাধ্যমকে বলেন, ডেঙ্গুর মৌসুম সাধারণত জুন থেকে শুরু হয়, আর শেষ হয় অক্টোবরে। দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব এখন আস্তে আস্তে বাড়তে থাকবে। কারণ, দেশে বৃষ্টিপাত হচ্ছে, এতে বিভিন্ন স্থানে পানি জমছে। এই জমা পানিতে এডিস মশার জন্ম হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কোনো পাত্রে বা স্থানে সাত দিনের পানি যাতে জমে না থাকে, সে বিষয়ে ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে। ফুলের টব, গাছ কিংবা যেকোনো পাত্রে যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। উন্মুক্ত স্থানে সাত দিনের বেশি পানি জমে থাকলেও সেখান থেকে এডিস মশার জন্ম হতে পারে। এ জন্য রাস্তাঘাটেও যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে ঢাকার সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্টদের নজর দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে রোগী ভর্তি হয়েছেন ১৫ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন ৪৩ জন। এদের মধ্যে ৪২ জনই রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ শনিবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩১০ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২৬৭ জন। এ ছাড়া, চলতি বছরের জানুয়ারিতে রোগী ভর্তি ছিল ১২৬ জন, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ২০ জন করে, এপ্রিলে ২৩ জন এবং মে মাসের ২৮ দিনে ১২১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বিশেজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন ডেঙ্গু প্রকোপের এ সময়ে বাসাবাড়িতে অব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্রে পানি জমতে না দেওয়াসহ দিনে ও রাতে মশারি টানাতে হবে। বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, একটি নিরাপদ এবং কার্যকর ডেঙ্গু ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা চলছে। তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা মেনে চলা এবং প্রতিরোধমূলক প্রোটোকল মেনে চলা সর্বোত্তম উপায়। এটি মনে রাখা উচিত যে ডেঙ্গু একটি সংক্রমণ হিসেবে রয়ে গেছে, যা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্মূল করা যায়।