বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় প্রায় ৪০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যা কবলিত মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে কাজ করছে সেনাবাহিনী। খোলা হয়েছে শতাধিক আশ্রয়কেন্দ্র।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুল হাসান বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছি। বন্যায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী মানুষদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী সদস্যদের নামানো হয়েছে। আমরা প্রতিটি মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।’ সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বন্যায় অন্তত ৪০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে এ অঞ্চলের একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে এবং এসএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলা সুনামগঞ্জ। সব রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জেলাটি দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শুক্রবার (১৭ জুন) সকাল থেকে এই জেলার প্রায় ২০ লাখের বেশি মানুষ অন্ধকারের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।’
সিলেটের উপ-বিভাগীয় কমিশনার দেবজিৎ সিংহ বলেন, ‘সুনামগঞ্জের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। জেলার দুটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্ন ঘটছে। ২০ থেকে ২২ বছরের মধ্যে এই অঞ্চলে বন্যার এমন পরিস্থিতি কখনো সৃষ্টি হয়নি।’
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রধান আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, ‘জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমাদের দেশে বর্ষা মৌসুম থাকে। এসময় নদ-নদীগুলো পানিতে পূর্ণ থাকে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়া চলতি বছর ভারতের উজানে অনেক বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। ওই খানে বৃষ্টি না কমলে পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’
এদিকে ভারতের আসাম এবং মেঘালয়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। রাজ্য দুটির ভেতর দিয়ে প্রবাহিত প্রতিটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। খবর মিলেছে ভূমিধসেরও। গত দুই দিনে বন্যায় আসামে ১২ এবং মেঘালয়ে ১৯ জন মারা গেছেন।

দৈনিক দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 






















