1. news@dailydeshnews.com : Admin2021News :
  2. : deleted-txS0YVEn :
শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২, ০১:২১ অপরাহ্ন

ভূমিকম্পে আফগানিস্তানে ভয়াবহ পরিস্থিতি, হাজার হাজার মৃত্যুর শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক /দৈনিক দেশ নিউজ ডটকম
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২২ জুন, ২০২২
  • ১৯ পঠিত

মঙ্গলবার মধ্য রাতের পর আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় দুই প্রদেশ পাকতিকা ও খোস্ত প্রদেশে আঘাত হানা ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আর আহতের সংখ্যাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০০ জনে। হতাহতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে। ভূমিকম্পের পর থেকে শত শত পরিবার এখনও নিখোঁজ রয়েছে।

জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, প্রতি ঘণ্টায় আফগানিস্তানের পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।

সংস্থাটির কমিউনিকেশন, অ্যাডভোকেসি ও সিভিক এনগেজমেন্টের প্রধান সামান্থা মর্ট বলেন, প্রত্যন্ত প্রদেশগুলোতে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ সেখানে সম্প্রতি ভারি বৃষ্টির ফলে ভূমি ধসের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু ইউনিসেফের কিছু দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধার জন্য এই মুহূর্তে মরিয়া প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এরপর তাদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। আহতদের জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার (২২ জুন) মধ্যরাতের পর মানুষজন ঘুমিয়ে থাকার সময় আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে আঘাত হানে প্রবল এই ভূমিকম্প। পাকিস্তান আবহাওয়া অধিদপ্তরের ন্যাশনাল সিসমিক মনিটরিং সেন্টার এবং ইউরোপীয় ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (ইএমএসসি) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ১। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) অবশ্য ভূমিকম্পের মাত্রা ৫ দশমিক ৯ রেকর্ড করেছে।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল আফগানিস্তানের খোস্ত শহরে এবং কেন্দ্র ভূপৃষ্ঠ থেকে ৪৪ কিলোমিটার গভীরে।

ইএমএসসি জানিয়েছে, প্রায় ৫০০ কিলোমিটার জায়গাজুড়ে এই ভূমিকম্পের প্রভাব অনুভূত হয়েছে। এতে আফগানিস্তানের পাশাপাশি কেঁপে ওঠে প্রতিবেশী পাকিস্তান এবং ভারতও।

মধ্যরাতের পর (রাত ১টা ৩০ মিনিটে) ভূমিকম্পটি আঘাত হানায় সেসময় ওই অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষই ঘুমিয়ে ছিলেন। ফলে কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধসে পড়া বাড়িঘরের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারান অনেকে।

এর আগে, ২০১৫ সালে দেশটির উত্তরপূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী এক ভূমিকম্পে পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানে ২০০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ২০০২ সালে ৬ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে প্রাণ যায় প্রায় ১ হাজার মানুষের। এছাড়া ১৯৯৮ সালে একই মাত্রার ভূমিকম্পে দেশটির উত্তরপূর্বাঞ্চলে কমপক্ষে সাড়ে ৪ হাজার মানুষ নিহত হন।

একের পর এক কবর খোঁড়া হচ্ছে

নিহতদের সমাধিস্থ করতে এই দুই প্রদেশে একের পর এক কবর খোঁড়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে দুই প্রদেশের প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ।

আফগানে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের পাকতিয়া শাখার প্রধান মোহাম্মদ আমিন হুজায়ফা এএফপিকে বলেন, ‘ভূমিকম্পে এই পাকতিয়া প্রদেশেই অন্তত ১ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। তাদের সমাধিস্থ করতে এখানে একের পর এক কবর খুঁড়তে হচ্ছে।’

পাকতিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। এখানকার প্রায় সব বাড়িঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ধ্বংসস্তুপের ভেতর এখনও লোকজন আটকা পড়ে আছে। বৃষ্টির জন্য উদ্ধার কাজে গতি আনা যাচ্ছে না।’

পাকতিয়া প্রদেশের দুর্গম পার্বত্য অনেক অঞ্চলের হতাহতের খবর এখনও এসে পৌঁছায়নি। সেসব অঞ্চলের সংবাদ এলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন এএফপিকে জানিয়েছেন হুজায়ফা।

পাকতিয়ার এক উপজাতি নেতা ইয়াকুব মানজুর জানিয়েছেন, সরকারি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনও ব্যাপকভাবে অংশ নিচ্ছেন উদ্ধার তৎপরতায়।

এএফপিকে ইয়াকুব বলেন, ‘স্থানীয় বাজার,দোকান-পাট সব বন্ধ আছে। দলে দলে মানুষ উপদ্রুত এলাকায় ছুটে যাচ্ছেন।’

আফগানিস্তানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির বিভিন্ন স্থিরচিত্র ও ভিডিও ঘুরে বেড়াচ্ছে।

তবে পাকতিয়া ও খোস্টে বিপর্যয় ও ক্ষয়ক্ষতির যে ব্যাপকতা, সেই তুলনায় উদ্ধার তৎপরতার গতি বেশ কম। হতাহতদের সরিয়ে আনতে হাতে গোনা কয়েকটি উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।

ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারও তা স্বীকার করেছে। তালেবান মুখপাত্র আনাস হাক্কানি এ সম্পর্কে এক টুইটবার্তায় বলেন, ‘সরকার তার সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করছে। আমরা আশা করছি, এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বিশ্ব ও সহায়তা সংস্থা আমাদের জনগণের পাশে দাঁড়াবে।’

এদিকে, টুইটারে এই বার্তা টুইট করার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে সাড়া দিয়েছে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। পাল্টা এক টুইটবার্তায় জাতিসংঘের আফগানিস্তান শাখা কার্যালয় জানিয়েছে, বেশ কিছু উপদ্রুত এলাকায় ইতোমধ্যে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে জাতিসংঘের আফগানিস্তান শাখার একাধিক দল।

পৃথক এক টুইটবার্তায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের আফগানিস্তান বিষয়ক বিশেষ দূত টমাস নিকলেসন বলেন, ‘আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি মনোযোগ সহকারে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতির শিকার লোকজনকে যে কোনো প্রকার সহায়তা দিতে প্রস্তুত ইইউ।’

গত আগস্টে বিদেশি সৈন্যদের বিদায়ের পর সশস্ত্র এই গোষ্ঠী ক্ষমতায় আসায় আফগানিস্তানের সঙ্গে বেশির ভাগ দাতব্য সংস্থার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন রয়েছে। যে কারণে প্রাকৃতিক এই দুযোর্গ মোকাবিলা তালেবান সরকারের জন্য বড় ধরনের পরীক্ষা হতে পারে। তালেবানরা ক্ষমতা নেওয়ার পর আফগানিস্তান যখন তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে ধুকছে, তখনই প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ আঘাত হেনেছে।

আফগানিস্তানের অনেক অঞ্চলে সম্প্রতি বন্যা দেখা দেওয়ায় আকস্মিক এই ভূমিকম্প কর্তৃপক্ষের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। দেশটির দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বলেছে, গত কয়েকদিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বন্যায় ১১ জন নিহত এবং ৫০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া অনেক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

তালেবানের ক্ষমতাগ্রহণের প্রতিক্রিয়ায় অনেক দেশ আফগানিস্তানের ব্যাংক খাতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এছাড়া অনেক দেশ ও সংস্থা আফগানিস্তানে কোটি কোটি ডলারের উন্নয়ন সহায়তা স্থগিত করেছে। তবে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক কিছু সংস্থা এখনও দেশটিতে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রেখেছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর
© All Rights Reserved © DAILY DESH NEWS.COM 2020-2022
Theme Customized BY Sky Host BD