সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাবার প্রথমে ১০০০ রান লিটনের

সাদা পোশাকে ছন্দে ছিলেন লিটন দাস। সেই সময়টা চলতি বছর পেছনে ফেলেছেন অবশেষে। চলতি বছর যখনই ব্যাট হাতে নেমেছেন, লিটনেই ভরসা পেয়েছে বাংলাদেশ দল; সেটা টেস্ট হোক, কিংবা ওয়ানডে টি-টোয়েন্টি।  উইন্ডিজ বোলারদের তোপে বাংলাদেশ যখন ২০০’র নিচে অলআউটের শঙ্কায়, তখনই বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। ফিফটিও করলেন। ছুঁয়ে ফেললেন আরও একটা কীর্তিও। টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টির দারুণ ফর্মের সুবাদে ২০২২ সালের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ছুঁয়ে ফেললেন সব ফরম্যাট মিলিয়ে ১০০০ রান ছোঁয়ার মাইলফলক।

এই মাইলফলক ছুঁতে অবশ্য খুব একটা বেগ পেতে হয়নি তাকে। ৯৯৬ রান নিয়ে শুরু করেছিলেন সেন্ট লুসিয়া টেস্ট। এনামুল হক বিজয়ের বিদায়ে এসেছিলেন ক্রিজে। পরের ওভারে দেখলেন সঙ্গী নাজমুল হোসেন শান্তকে ফিরে যেতে। 

তবে লিটন তাতে বিচলিত হলেন না একটুও। অ্যান্ডারসন ফিলিপসের করা পরের ওভারেই রানের খাতা খুললেন দর্শনীয় এক চারে। ফিলিপসের ব্যাক অফ দ্য লেন্থের বলটা ব্যাটের ফেস খুলে পয়েন্ট অঞ্চল দিয়ে পাঠিয়ে দেন সীমানার বাইরে। মাইলফলকটা ছুঁয়ে ফেলেন তাতেই।

অবশ্য সেখানেই থামেনি লিটনের ব্যাট। ওপাশ থেকে সাকিব আল হাসান, নুরুল হাসান, মেহেদি হাসান মিরাজদের যাওয়া আসাও দেখেছেন এপ্রান্তে দাড়িয়ে। তাতে ইনিংস গড়ার দায়িত্বটা এসে পড়ে তার কাঁধেই। সে দায়িত্বের পুরোটা পালন করা হয়নি অবশ্য। ৭০ বলে খেলেছেন ৫৩ রানের ইনিংস। তাতে বাংলাদেশ পেয়েছে ২০০ পেরোনোর দিশা।

এই ইনিংসের পর লিটনের রানসংখ্যা দাঁড়াল ১০৪৯। ২০ ইনিংস লেগেছে এই মাইলফলক ছুঁতে। ৪৯.৯৫ গড়ে করেছেন এই রান। গত রাতের এই ইনিংস শেষে লিটনের ফিফটি দাঁড়াল ৬টি, পাশাপাশি সেঞ্চুরিও আছে ৩টি। গেল সিরিজে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেছেন ১৪১ রানের ইনিংস, এখন পর্যন্ত সেটাই হয়ে আছে তার সর্বোচ্চ।

চলতি বছর লিটনের হাজার রানের ৩৩৬ রান এসেছে ওয়ানডে আর ৭৩ রান এসেছে টি-টোয়েন্টি থেকে। ৬ ওয়ানডেতে খেলেছেন, ৫৬ গড়ে একটি সেঞ্চুরি ও দুইটি ফিফটি তুলে নিয়েছেন তিনি। আর টি-টোয়েন্টিতে ২ ইনিংস খেলেছেন তিনি। এখানেও ফিফটি আছে একটি।

বাকি ৬৪০ রান এসেছে টেস্টে। যার ফলে এই বছর টেস্টে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় তিনি আছেন চতুর্থ অবস্থানে। তার ওপর আছেন উসমান খাজা (৭৫১ রান), জনি বেয়ারেস্টো (৬৭১ রান) এবং জো রুট (৬৬৮ রান)।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাবার প্রথমে ১০০০ রান লিটনের

প্রকাশিত সময় : ১১:১২:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুন ২০২২

সাদা পোশাকে ছন্দে ছিলেন লিটন দাস। সেই সময়টা চলতি বছর পেছনে ফেলেছেন অবশেষে। চলতি বছর যখনই ব্যাট হাতে নেমেছেন, লিটনেই ভরসা পেয়েছে বাংলাদেশ দল; সেটা টেস্ট হোক, কিংবা ওয়ানডে টি-টোয়েন্টি।  উইন্ডিজ বোলারদের তোপে বাংলাদেশ যখন ২০০’র নিচে অলআউটের শঙ্কায়, তখনই বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। ফিফটিও করলেন। ছুঁয়ে ফেললেন আরও একটা কীর্তিও। টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টির দারুণ ফর্মের সুবাদে ২০২২ সালের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ছুঁয়ে ফেললেন সব ফরম্যাট মিলিয়ে ১০০০ রান ছোঁয়ার মাইলফলক।

এই মাইলফলক ছুঁতে অবশ্য খুব একটা বেগ পেতে হয়নি তাকে। ৯৯৬ রান নিয়ে শুরু করেছিলেন সেন্ট লুসিয়া টেস্ট। এনামুল হক বিজয়ের বিদায়ে এসেছিলেন ক্রিজে। পরের ওভারে দেখলেন সঙ্গী নাজমুল হোসেন শান্তকে ফিরে যেতে। 

তবে লিটন তাতে বিচলিত হলেন না একটুও। অ্যান্ডারসন ফিলিপসের করা পরের ওভারেই রানের খাতা খুললেন দর্শনীয় এক চারে। ফিলিপসের ব্যাক অফ দ্য লেন্থের বলটা ব্যাটের ফেস খুলে পয়েন্ট অঞ্চল দিয়ে পাঠিয়ে দেন সীমানার বাইরে। মাইলফলকটা ছুঁয়ে ফেলেন তাতেই।

অবশ্য সেখানেই থামেনি লিটনের ব্যাট। ওপাশ থেকে সাকিব আল হাসান, নুরুল হাসান, মেহেদি হাসান মিরাজদের যাওয়া আসাও দেখেছেন এপ্রান্তে দাড়িয়ে। তাতে ইনিংস গড়ার দায়িত্বটা এসে পড়ে তার কাঁধেই। সে দায়িত্বের পুরোটা পালন করা হয়নি অবশ্য। ৭০ বলে খেলেছেন ৫৩ রানের ইনিংস। তাতে বাংলাদেশ পেয়েছে ২০০ পেরোনোর দিশা।

এই ইনিংসের পর লিটনের রানসংখ্যা দাঁড়াল ১০৪৯। ২০ ইনিংস লেগেছে এই মাইলফলক ছুঁতে। ৪৯.৯৫ গড়ে করেছেন এই রান। গত রাতের এই ইনিংস শেষে লিটনের ফিফটি দাঁড়াল ৬টি, পাশাপাশি সেঞ্চুরিও আছে ৩টি। গেল সিরিজে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেছেন ১৪১ রানের ইনিংস, এখন পর্যন্ত সেটাই হয়ে আছে তার সর্বোচ্চ।

চলতি বছর লিটনের হাজার রানের ৩৩৬ রান এসেছে ওয়ানডে আর ৭৩ রান এসেছে টি-টোয়েন্টি থেকে। ৬ ওয়ানডেতে খেলেছেন, ৫৬ গড়ে একটি সেঞ্চুরি ও দুইটি ফিফটি তুলে নিয়েছেন তিনি। আর টি-টোয়েন্টিতে ২ ইনিংস খেলেছেন তিনি। এখানেও ফিফটি আছে একটি।

বাকি ৬৪০ রান এসেছে টেস্টে। যার ফলে এই বছর টেস্টে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় তিনি আছেন চতুর্থ অবস্থানে। তার ওপর আছেন উসমান খাজা (৭৫১ রান), জনি বেয়ারেস্টো (৬৭১ রান) এবং জো রুট (৬৬৮ রান)।