মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হুমায়ূন আহমেদের দশম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

চলে যাওয়ার এক দশক পেরিয়ে গেলেও এখনো অগণিত মানুষের হৃদয়ে অমলিন হয়ে আছেন নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের দশম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এ উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করা হবে। টিভি চ্যানেলগুলোতেও থাকছে তার নাটক, চলচ্চিত্র, গান ও সাহিত্য নিয়ে দিনভর বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। এছাড়া নুহাশপল্লীতে কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং দরিদ্রদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করা হবে।

২০১২ সালের ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হুমায়ূন আহমেদ। গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে তাকে সমাহিত করা হয়।

নুহাশপল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে নুহাশপল্লীর আশপাশের কয়েকটি মাদ্রাসা ও এতিমখানার ছাত্ররা স্বাস্থ্যবিধি মেনে নুহাশপল্লীতে কোরআন তেলাওয়াত করবেন। পরে তারা কবর জিয়ারত ও দোয়ায় অংশ নেবেন। উপস্থিত থাকবেন হুমায়ূন আহমেদের দুই সন্তান নিষাদ ও নিনিতসহ স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। এছাড়া হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের লোকজন, ভক্ত, বন্ধুরা কবর জিয়ারত ও মিলাদে যোগ দেবেন। দুপুরে মিলাদ মাহফিল শেষে এতিম শিশু ও শিক্ষার্থীদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হবে।

প্রতি বছরের মতো এবারও প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের কবর জিয়ারত ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী নুহাশপল্লীতে আসবেন। বিশেষ করে হুমায়ূনভক্ত তরুণ প্রজন্মের অনেক শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও আসবেন নুহাশপল্লীতে।

ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল আরও বলেন, মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এতিম শিশু ছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত অতিথি, এলাকার লোকজন ও হুমায়ূন স্যারের পরিবারের লোকজন থাকবেন। দিনটি ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে পালন করা হবে।

হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজের প্রথম সন্তান তিনি। বাবার চাকরির সুবাদে তার স্কুলজীবন কেটেছে দেশের নানান জেলায়। ১৯৬৭ সালে বগুড়া জিলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা (রাজশাহী বিভাগে মেধাতালিকায় দ্বিতীয়), ১৯৬৯ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ¯œাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৭২ সালে হুমায়ূন আহমেদের প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশ পায়। তখন তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় উপন্যাস ‘শঙ্খনীল কারাগার’। এ দুটি বই প্রকাশের পর হুমায়ূন আহমেদ একজন শক্তিশালী কথাশিল্পী হিসেবে পাঠকমহলে সমাদৃত হন। সেই থেকে জীবিতকালে তার দুই শতাধিক বই প্রকাশিত হয়।

হুমায়ূনের ভিন্নধর্মী দুটি চরিত্র হিমু ও মিসির আলি বাংলা সাহিত্যে পেয়েছে স্থায়ী আসন। তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছেÑ নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার, ফেরা, প্রিয়তমেষু, আকাশ জোড়া মেঘ, সাজঘর, এইসব দিনরাত্রি, অয়োময়, বহুব্রীহি, নীল অপরাজিতা, আশাবরী, জলপদ্ম, কৃষ্ণপক্ষ, জনম জনম, মন্দ্রসপ্তক, তিথির নীল তোয়ালে, নবনী, যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ, শ্রাবণ মেঘের দিন, গৌরীপুর জংশন, পেন্সিলে আঁকা পরী, কবি, আমাদের শাদা বাড়ি, অপেক্ষা, মেঘ বলেছে যাব যাব, তেঁতুল বনে জোছনা, নীল মানুষ, মধ্যাহ্ন, অমানুষ, অন্যদিন, চাঁদের আলোয় কয়েকজন যুবক, আগুনের পরশমণি, জোছনা ও জননীর গল্প এবং দেয়াল।

হুমায়ূন আহমেদ শিক্ষকতায় ছিলেন দীর্ঘদিন। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। লেখালেখিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে শিক্ষকতা থেকে তিনি অবসর নেন। শিল্প-সংস্কৃতির প্রসারে হুমায়ূন আহমেদ গাজীপুরে প্রতিষ্ঠা করেন নুহাশপল্লী।

হুমায়ূন আহমেদ নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো পেয়েছে অসামান্য দর্শকপ্রিয়তা। তবে তার টেলিভিশন নাটকগুলো ছিল সর্বাধিক জনপ্রিয়। সংখ্যায় বেশি না হলেও তার রচিত গানগুলোও বিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করে।

সাহিত্যে অবদানের জন্য হুমায়ূন আহমেদ একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, লেখক শিবির পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন পদকসহ বহু পুরস্কার লাভ করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

হুমায়ূন আহমেদের দশম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত সময় : ১০:১৩:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই ২০২২

চলে যাওয়ার এক দশক পেরিয়ে গেলেও এখনো অগণিত মানুষের হৃদয়ে অমলিন হয়ে আছেন নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের দশম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এ উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করা হবে। টিভি চ্যানেলগুলোতেও থাকছে তার নাটক, চলচ্চিত্র, গান ও সাহিত্য নিয়ে দিনভর বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। এছাড়া নুহাশপল্লীতে কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং দরিদ্রদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করা হবে।

২০১২ সালের ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হুমায়ূন আহমেদ। গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে তাকে সমাহিত করা হয়।

নুহাশপল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে নুহাশপল্লীর আশপাশের কয়েকটি মাদ্রাসা ও এতিমখানার ছাত্ররা স্বাস্থ্যবিধি মেনে নুহাশপল্লীতে কোরআন তেলাওয়াত করবেন। পরে তারা কবর জিয়ারত ও দোয়ায় অংশ নেবেন। উপস্থিত থাকবেন হুমায়ূন আহমেদের দুই সন্তান নিষাদ ও নিনিতসহ স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। এছাড়া হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের লোকজন, ভক্ত, বন্ধুরা কবর জিয়ারত ও মিলাদে যোগ দেবেন। দুপুরে মিলাদ মাহফিল শেষে এতিম শিশু ও শিক্ষার্থীদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হবে।

প্রতি বছরের মতো এবারও প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের কবর জিয়ারত ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী নুহাশপল্লীতে আসবেন। বিশেষ করে হুমায়ূনভক্ত তরুণ প্রজন্মের অনেক শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও আসবেন নুহাশপল্লীতে।

ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল আরও বলেন, মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এতিম শিশু ছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত অতিথি, এলাকার লোকজন ও হুমায়ূন স্যারের পরিবারের লোকজন থাকবেন। দিনটি ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে পালন করা হবে।

হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজের প্রথম সন্তান তিনি। বাবার চাকরির সুবাদে তার স্কুলজীবন কেটেছে দেশের নানান জেলায়। ১৯৬৭ সালে বগুড়া জিলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা (রাজশাহী বিভাগে মেধাতালিকায় দ্বিতীয়), ১৯৬৯ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ¯œাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৭২ সালে হুমায়ূন আহমেদের প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশ পায়। তখন তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় উপন্যাস ‘শঙ্খনীল কারাগার’। এ দুটি বই প্রকাশের পর হুমায়ূন আহমেদ একজন শক্তিশালী কথাশিল্পী হিসেবে পাঠকমহলে সমাদৃত হন। সেই থেকে জীবিতকালে তার দুই শতাধিক বই প্রকাশিত হয়।

হুমায়ূনের ভিন্নধর্মী দুটি চরিত্র হিমু ও মিসির আলি বাংলা সাহিত্যে পেয়েছে স্থায়ী আসন। তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছেÑ নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার, ফেরা, প্রিয়তমেষু, আকাশ জোড়া মেঘ, সাজঘর, এইসব দিনরাত্রি, অয়োময়, বহুব্রীহি, নীল অপরাজিতা, আশাবরী, জলপদ্ম, কৃষ্ণপক্ষ, জনম জনম, মন্দ্রসপ্তক, তিথির নীল তোয়ালে, নবনী, যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ, শ্রাবণ মেঘের দিন, গৌরীপুর জংশন, পেন্সিলে আঁকা পরী, কবি, আমাদের শাদা বাড়ি, অপেক্ষা, মেঘ বলেছে যাব যাব, তেঁতুল বনে জোছনা, নীল মানুষ, মধ্যাহ্ন, অমানুষ, অন্যদিন, চাঁদের আলোয় কয়েকজন যুবক, আগুনের পরশমণি, জোছনা ও জননীর গল্প এবং দেয়াল।

হুমায়ূন আহমেদ শিক্ষকতায় ছিলেন দীর্ঘদিন। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। লেখালেখিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে শিক্ষকতা থেকে তিনি অবসর নেন। শিল্প-সংস্কৃতির প্রসারে হুমায়ূন আহমেদ গাজীপুরে প্রতিষ্ঠা করেন নুহাশপল্লী।

হুমায়ূন আহমেদ নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো পেয়েছে অসামান্য দর্শকপ্রিয়তা। তবে তার টেলিভিশন নাটকগুলো ছিল সর্বাধিক জনপ্রিয়। সংখ্যায় বেশি না হলেও তার রচিত গানগুলোও বিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করে।

সাহিত্যে অবদানের জন্য হুমায়ূন আহমেদ একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, লেখক শিবির পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন পদকসহ বহু পুরস্কার লাভ করেন।