মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা উপেক্ষা করে ভয়াবহ লোডশেডিং, নেসকো’র প্রতি ক্ষোভ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং এর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) লিমিটেড প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা উপেক্ষা করে রাজশাহীতে ভয়াবহ লোডশেডিং দিচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে রাজশাহীবাসী। ভয়াবহ এই লোডশেডিং দেয়ায় রাজশাহীজুড়ে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে-০ বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশজুড়ে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) থেকে শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে রাজশাহীজুড়েও চলছে লোডশেডিং। এ লোডশেডিং পৃথকভাবে এক ঘণ্টা করে চলবে বলে বিভিন্ন এলাকার জন্য শিডিউল প্রকাশ করে রাজশাহী শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান নেসকো লিমিটেড। কিন্তু মানা হচ্ছে না সেই শিডিউল। ফলে প্রখর রোদ ও ভ্যাপসা গরমের সঙ্গে অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে রাজশাহীর সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। নাকাল হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

জানা গেছে, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো রাজশাহীতেও এলাকাভিত্তিক সম্ভাব্য লোডশেডিংয়ের তালিকা ওয়েবসাইটে আপলোড করেছে নেসকো। কিন্তু সেই তালিকা অনুযায়ী রাজশাহীর সব এলাকায় সমহারে লোডশেডিংয়ের সরকারি নির্দেশনা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে তীব্র গরমে রাজশাহীবাসীকে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। এছাড়া রাজশাহীজুড়ে চলা তাপপ্রবাহে গরমের তীব্রতায় অসুস্থ হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সরকারের নির্দেশনা অমান্য করায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও অনেকে অভিযোগ করেন।

রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানার ছোট বনগ্রাম পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের প্রয়োজনে এক থেকে দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না বলে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা তাঁর সরকারি এই নির্দেশনা স্বাচ্ছন্দ্যেই মেনে নিয়েছি। তাই সকাল ৯টার দিকে বিদ্যুৎ গিয়ে ১০টার মধ্যে চলে আসায় খুশিই হয়েছিলাম। কিন্তু দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে আবার দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। পরে এসে ২০ মিনিট থেকেই আবার ২টা ৪৫ মিনিটে বিদ্যুৎ গিয়ে এসেছে ৪টা ৪০ মিনিটে। ফলে সরকারি সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে চার ঘণ্টার ওপরে বিদ্যুৎহীন রাখা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। কেননা, দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে ঘরে থাকা যাচ্ছে না, আবার বাইরে বের হলে প্রচণ্ড রোদে শরীর ঝলসে যাচ্ছে।

নগরীর বিনোদপুর এলাকার ফরহাদ মোল্লা বলেন, সকাল ও দুপুর মিলিয়ে এরই মধ্যে চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। বিকেল ও রাতে কী হবে তাই ভেবেই আতঙ্কে আছি। এভাবে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধদের। কেননা তারা তীব্র গরমে জ্বর, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তাই এর দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত।

নগরীর উপশহর এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মাহবুব উল ইসলাম বিপুল বলেন, সকাল ১০টায় বিদ্যুৎ গিয়ে আধাঘণ্টার মধ্যেই চলে আসে। কিন্তু দুপুর দেড়টার দিকে বিদ্যুৎ গিয়ে বিকেল ৪টার পরে আসে। তীব্র গরমে দীর্ঘসময় এভাবে বিদ্যুৎ না থাকায় পরিবার নিয়ে ভোগান্তিতে পরেছি। একইসঙ্গে ব্যবসাতেও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। তাই দ্রুত এর সমাধান হওয়া জরুরি।

রাজশাহী কোর্ট এলাকার বাসিন্দা সোহরাব হোসেন সৌরভও একই সুরে কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এক থেকে দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না বলে মনস্তাত্বিকভাবে একটা প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পাঁচ থেকে ছয়বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করায় বিরক্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি।

সিডিউল না মেনে অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের সত্যতা স্বীকার করে নেসকো রাজশাহী বিতরণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশিদ বলেন, ডিজেল দ্বারা যে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় সেটাই শুধু লোডশেডিং হওয়ার কথা ছিল। সেই ভিত্তিতে নেসকোর ভাগে পড়েছিল ৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এর মধ্যে রাজশাহীর জন্য ৬০ মেগাওয়াট ও বাকি ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রংপুরের জন্য। তবে মঙ্গলবার সারাদেশে আড়াই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। এর ফলে রাজশাহীতেও সিডিউল অনুযায়ী লোডশেডিং রাখা সম্ভব হয়নি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আজকের ঘটনা থেকে যা বুঝেছি তাতে অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের এই সমস্যা সহজে সমাধান হবে না। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ভোগান্তির সমাধানের পথ তার অনুকূলে নেই বলে দুঃখ প্রকাশ করেন নেসকোর এই কর্মকর্তা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা উপেক্ষা করে ভয়াবহ লোডশেডিং, নেসকো’র প্রতি ক্ষোভ

প্রকাশিত সময় : ০৯:৪৮:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ জুলাই ২০২২

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং এর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) লিমিটেড প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা উপেক্ষা করে রাজশাহীতে ভয়াবহ লোডশেডিং দিচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে রাজশাহীবাসী। ভয়াবহ এই লোডশেডিং দেয়ায় রাজশাহীজুড়ে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে-০ বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশজুড়ে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) থেকে শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে রাজশাহীজুড়েও চলছে লোডশেডিং। এ লোডশেডিং পৃথকভাবে এক ঘণ্টা করে চলবে বলে বিভিন্ন এলাকার জন্য শিডিউল প্রকাশ করে রাজশাহী শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান নেসকো লিমিটেড। কিন্তু মানা হচ্ছে না সেই শিডিউল। ফলে প্রখর রোদ ও ভ্যাপসা গরমের সঙ্গে অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে রাজশাহীর সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। নাকাল হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

জানা গেছে, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো রাজশাহীতেও এলাকাভিত্তিক সম্ভাব্য লোডশেডিংয়ের তালিকা ওয়েবসাইটে আপলোড করেছে নেসকো। কিন্তু সেই তালিকা অনুযায়ী রাজশাহীর সব এলাকায় সমহারে লোডশেডিংয়ের সরকারি নির্দেশনা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে তীব্র গরমে রাজশাহীবাসীকে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। এছাড়া রাজশাহীজুড়ে চলা তাপপ্রবাহে গরমের তীব্রতায় অসুস্থ হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সরকারের নির্দেশনা অমান্য করায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও অনেকে অভিযোগ করেন।

রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানার ছোট বনগ্রাম পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের প্রয়োজনে এক থেকে দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না বলে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা তাঁর সরকারি এই নির্দেশনা স্বাচ্ছন্দ্যেই মেনে নিয়েছি। তাই সকাল ৯টার দিকে বিদ্যুৎ গিয়ে ১০টার মধ্যে চলে আসায় খুশিই হয়েছিলাম। কিন্তু দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে আবার দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। পরে এসে ২০ মিনিট থেকেই আবার ২টা ৪৫ মিনিটে বিদ্যুৎ গিয়ে এসেছে ৪টা ৪০ মিনিটে। ফলে সরকারি সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে চার ঘণ্টার ওপরে বিদ্যুৎহীন রাখা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। কেননা, দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে ঘরে থাকা যাচ্ছে না, আবার বাইরে বের হলে প্রচণ্ড রোদে শরীর ঝলসে যাচ্ছে।

নগরীর বিনোদপুর এলাকার ফরহাদ মোল্লা বলেন, সকাল ও দুপুর মিলিয়ে এরই মধ্যে চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। বিকেল ও রাতে কী হবে তাই ভেবেই আতঙ্কে আছি। এভাবে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধদের। কেননা তারা তীব্র গরমে জ্বর, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তাই এর দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত।

নগরীর উপশহর এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মাহবুব উল ইসলাম বিপুল বলেন, সকাল ১০টায় বিদ্যুৎ গিয়ে আধাঘণ্টার মধ্যেই চলে আসে। কিন্তু দুপুর দেড়টার দিকে বিদ্যুৎ গিয়ে বিকেল ৪টার পরে আসে। তীব্র গরমে দীর্ঘসময় এভাবে বিদ্যুৎ না থাকায় পরিবার নিয়ে ভোগান্তিতে পরেছি। একইসঙ্গে ব্যবসাতেও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। তাই দ্রুত এর সমাধান হওয়া জরুরি।

রাজশাহী কোর্ট এলাকার বাসিন্দা সোহরাব হোসেন সৌরভও একই সুরে কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এক থেকে দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না বলে মনস্তাত্বিকভাবে একটা প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পাঁচ থেকে ছয়বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করায় বিরক্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি।

সিডিউল না মেনে অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের সত্যতা স্বীকার করে নেসকো রাজশাহী বিতরণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশিদ বলেন, ডিজেল দ্বারা যে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় সেটাই শুধু লোডশেডিং হওয়ার কথা ছিল। সেই ভিত্তিতে নেসকোর ভাগে পড়েছিল ৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এর মধ্যে রাজশাহীর জন্য ৬০ মেগাওয়াট ও বাকি ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রংপুরের জন্য। তবে মঙ্গলবার সারাদেশে আড়াই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। এর ফলে রাজশাহীতেও সিডিউল অনুযায়ী লোডশেডিং রাখা সম্ভব হয়নি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আজকের ঘটনা থেকে যা বুঝেছি তাতে অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের এই সমস্যা সহজে সমাধান হবে না। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ভোগান্তির সমাধানের পথ তার অনুকূলে নেই বলে দুঃখ প্রকাশ করেন নেসকোর এই কর্মকর্তা।