সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে এনামুল হক বিজয় ও আফিফ হোসেন ব্যাটে ভর করে জিম্বাবুয়কে ২৫৭ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। আজ বুধবার (১০ আগস্ট) টস হেরে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। শুরুর প্রথম ৫ ওভারে ২১ বলই ডট খেলেন তামিম-এনামুল ধীরগতির শুরুর কারণে বাংলাদেশ পিছিয়ে ছিল প্রথম দুই ম্যাচেই। তৃতীয় ম্যাচেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। পাওয়ার প্লের প্রথম ৫ ওভারে বাংলাদেশ করে ২৬ রান। বাউন্ডারি থেকে এসেছে ১৬ রান। ৩০ বলের মধ্যে ২১ বলই ছিল ডট। তামিম ১৮ ও এনামুল ৭ রানে ব্যাটিং করেন। ভালো শুরু পরেও হোচট খায় টিম টাইগার। এনামুলের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হয়ে ফিরলেন এই তামিম। ৩০ বলে ১৯ রান করেন তামিম। তার ইনিংসে চারের মার ছিল ৩টি।
এরপর ক্রিজে এসেই প্রথম বলে ফিরলেন শান্ত। ইভানসের শর্ট বলে কাট করতে চেয়েছিলেন তিনি, বল চলে যায় ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দাঁড়ানো মাধেভেরের হাতে। তামিমের পর শান্তর উইকেট হারিয়ে চাপে বাংলাদেশ। তামিম-শান্তর পর ফিরলেন মুশফিক। শর্ট বলে থার্ডম্যান অঞ্চলে আপার কাট করতে চেয়েছিলেন মুশফিক, কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি। দৌড়ে এসে দারুণ ক্যাচ ধরেন এনগ্রাভা। ৩ বল খেলে রানের খাতা খুলতে পারেননি মুশফিক। মেডেন দিয়ে ২ উইকেট নেন ইভান্স। তামিম-শান্তর পর ফিরলেন তিনিও। দুই ওভারে ৮ বলের ব্যবধানে বাংলাদেশ হারালো ৩ উইকেট। ক্রিজে এনামুলের সঙ্গী মাহমুদউল্লাহ। প্রথম পাওয়ার প্লে থেকে আসে ৩ উইকেটে ৪৭ রান।
এনামুলের হাফ সেঞ্চুরির পর বাংলাদেশের সেঞ্চুরি ২১তম ওভারে বাংলাদেশের স্কোর একশ ছাড়ালো। ব্র্যাড ইভান্সকে ছক্কা মেরে দলীয় সংগ্রহ তিন অঙ্কের ঘরে নেন এনামুল হক বিজয়। তার সঙ্গে ক্রিজে আছেন মাহমুদউল্লাহ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি করলেন এনামুল হক বিজয়। ৪৮ বলে চারটি চার ও তিনটি ছয়ে পঞ্চাশ ছোঁন বাংলাদেশের ওপেনার। প্রথম ম্যাচে ৭৩ রান করেছিলেন তিনি। ৬ রানে ৩ উইকেট হারানোর মাঝে তার এই ফিফটি আশাজাগানিয়া।
দারুণ খেলতে থাকা এনামুল ফিরলেন ৭৬ রানে। জংওয়ের বলে খোঁচা দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। তামিম-শান্তরা আউট হলেও একপ্রান্তে দারুণ ছিলেন বিজয়। সুযোগ পেলেও হাঁকাচ্ছিলেন বাউন্ডারি। বল থেকে রানের সংখ্যা ছিল বেশি। সিরিজে দ্বিতীয় ফিফটির পরও খেলছিলেন দুর্দান্ত। কিন্তু জংওয়ের আউটসাইড অফে পিচ করা বল খোঁচা দিয়ে বসেন। সমাপ্তি হয় দারুণ এক ইনিংসের। এর আগে প্রথম ম্যাচে ৭৩ রান করেছিলেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। তার আউটে ভেঙে যায় ৯০ বলে ৭৭ রানের জুটি। ক্রিজে মাহমুদউল্লাহর সঙ্গী আফিফ।
৬৯ বলে ৩৯ রানে বোল্ড মাহমুদউল্লাহ হলে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ধীরে চলো নীতিতে খেলতে থাকা মাহমুদউল্লাহ আউট হলেন এমন সময়ে যখন রান বাড়িয়ে নেওয়ার প্রয়োজন ছিল। ক্রিজে থিতু হয়্র ফিরলেন বিপদ বাড়িয়ে। এনগ্রাভার বেরিয়ে যাওয়া বল কাট করতে গিয়ে বোল্ড হলেন। তার ইনিংসে চারের মার ছিল মাত্র ৩টি। আফিফের সঙ্গে জুটিতে আসে ৫৭ বলে ৪৯ রান। যাতে মাহমুদউল্লাহর অবদান ছিল ২৬ বলে ২০। মাহমুদউল্লাহর ইনিংসে ডট ছিল ৩৯টি! ক্রিজে আফিফের সঙ্গী মিরাজ। এই জুটি এখন ভরসা।
স্কোর যখন ২০০ জআফিফের সঙ্গে জুটি বেঁধে খেলছিলে ধীরসুস্থে। কিন্তু রাজা বেশিদূর এগোতে দিলেন না মিরাজকে। এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন সাজঘরে। এক পা এগিয়ে খেলতে যেয়ে বল মিস করেন। জোরালো আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। মিরাজ অখুশি ছিলেন আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে। ২৪ বলে ১৪ রান করেন এই ডানহাতি। ক্রিজে আফিফের সঙ্গী তাইজুল। এর আগে ৪১ ওভারে বাংলাদেশ দুইশ পূর্ণ করে। রাজাকে স্কয়ার লেগে খেলে ডাবল নেন আফিফ। তাতে পৌঁছে যান ফিফটিতে। ৫৮ বলে ৩ চার ১ ছয়ে হাফ সেঞ্চুরির দেখা পান এই বাঁহাতি। এটি তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি। এর আগে মিরাজ আউট হন ১৪ রানে। উইকেটের মিছিলে এক প্রান্তে ছিলেন দুর্দান্ত আফিফ। রাজার নিচু হয়ে আসা বলে অনসাইডে খেলেন আফিফ। সিঙ্গেল নিলেন সহজেই। দুই রান নিতে গেলেই বাঁধে বিপত্তি। ডিপ মিডউইকেট থেকে দৌড়ে এসে থ্রো করেন মারুমানি। ১৩ বলে ৫ রানে ফেরেন তাইজুল। আফিফের সঙ্গী হাসান-মোস্তাফিজও ফেরেন দ্রুত। জিম্বাবুয়ের হয়ে ২ উইকেট করে নেন ইভান্স ও জংওয়ে।

দৈনিক দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 

























