বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম

জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। পিছিয়ে নেই ডিম-মুরগির দামও। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম প্রতি কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে। ডিমের হালিতে দাম ৬ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ টাকায়। বেড়েছে পেঁয়াজ ও রসুনের দামও।

শনিবার সকালে রাজশাহীর সাহেববাজার, নিউমার্কেট, মাস্টারপাড়া, শালবাগান সবজি বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে এমনটা জানা যায়। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৪০ টাকা। আর সোনালি মুরগি কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৭০ টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিল কেজি প্রতি ২৩০ টাকা।

এদিকে বাড়তে শুরু করে পেঁয়াজের দামও। ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া দেশি পেঁয়াজ ১০ টাকা বেড়ে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। রসুন কেজি প্রতি ৩০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১০ টাকায়। আদা কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা। তাল মিলিয়ে বেড়েছে সবজির দাম। ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজিতে, গত সপ্তাহের চেয়ে ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে করোলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, এ সপ্তাহে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ঢেঁড়স যা গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিতে ১০ টাকা বেশি, ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে এ সপ্তাহে মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকা কেজিতে। ৪০ টাকার লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। এছাড়া প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ৫-১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

একই সাথে বেড়েছে মাছের দামও। গত সপ্তাহের চেয়ে ৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে মৃরকা মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা, রুই মাছ ৭০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা, আগের দামের চেয়ে ৭০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বাটা মাছ এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা, ৩০০ টাকা কেজিতে বৃদ্ধি পেয়ে চিংড়ি মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৬০০ টাকা, গত সপ্তাহের চেয়ে ১৫০ টাকা বেড়ে পাবদা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা, ১০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে টেংরা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা এবং ২০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে গুচি মাছ বিক্রি হচ্ছে ১০০০ টাকা কেজিতে।

শালবাগান বাজার,সাহেববাজার নিউমার্কেট কাঁচা  বাজারের বিভিন্ন মুরগি দোকানদার বলেন, কয়েকদিন আগে ব্রয়লার মুরগি ১৪৫ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। এখন বেড়ে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা হয়েছে। সোনালি ২৫০ টাকা, কক মুরগি ২৫০ টাকা, হাঁস ৩৩০ টাকা, রাজহাঁস ৪৫০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। দাম আরও বাড়বে এমনটা প্রত্যাশা এই মুরগি ব্যবসায়ীর।

নিউর্মাকেট কাঁচা বাজারে  কথা হয় মোবাইল ব্যবসায়িক রাসেল সঙ্গে। তিনি বলেন, ডিম-মুরগি, রসুন-পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে আমাদের বেচে থাকায় অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আমাকে ব্যয় কমাতে হচ্ছে। যেমন আগে প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার আমাদের পরিবারে আমরা গরুর মাংস খেতাম। এখন চার সপ্তাহে একবার খাইনি।

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসেন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর এই কয়েকদিনে প্রতিটি নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম গড়ে শতকরা ৩০ ভাগ বেড়েছে। আর এটা সাধারণ মানুষকে চরম সংকটের মধ্যে ফেলেছে। জ্বালানি তেলের দাম যতটা বাড়ার কথা তার চেয়ে অনেক বেশি বাড়ছে। সব পর্যায়ের ব্যবসায়ীরাই সুযোগ নিচ্ছে, সবজি দোকানদার থেকে শুরু করে সবাই। চাল আমদানির সুযোগ দেয়ার পরও চালের বাজারে সংকট তৈরি করা হয়েছে চাল মজুদ করে। ভোজ্য তেলেও তাই করা হচ্ছে। বাজার মনিটরিং বলে কিছু আছে বলে মনে হয় না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম

প্রকাশিত সময় : ০৯:৪০:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২২

জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। পিছিয়ে নেই ডিম-মুরগির দামও। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম প্রতি কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে। ডিমের হালিতে দাম ৬ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ টাকায়। বেড়েছে পেঁয়াজ ও রসুনের দামও।

শনিবার সকালে রাজশাহীর সাহেববাজার, নিউমার্কেট, মাস্টারপাড়া, শালবাগান সবজি বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে এমনটা জানা যায়। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৪০ টাকা। আর সোনালি মুরগি কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৭০ টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিল কেজি প্রতি ২৩০ টাকা।

এদিকে বাড়তে শুরু করে পেঁয়াজের দামও। ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া দেশি পেঁয়াজ ১০ টাকা বেড়ে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। রসুন কেজি প্রতি ৩০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১০ টাকায়। আদা কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা। তাল মিলিয়ে বেড়েছে সবজির দাম। ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজিতে, গত সপ্তাহের চেয়ে ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে করোলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, এ সপ্তাহে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ঢেঁড়স যা গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিতে ১০ টাকা বেশি, ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে এ সপ্তাহে মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকা কেজিতে। ৪০ টাকার লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। এছাড়া প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ৫-১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

একই সাথে বেড়েছে মাছের দামও। গত সপ্তাহের চেয়ে ৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে মৃরকা মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা, রুই মাছ ৭০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা, আগের দামের চেয়ে ৭০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বাটা মাছ এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা, ৩০০ টাকা কেজিতে বৃদ্ধি পেয়ে চিংড়ি মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৬০০ টাকা, গত সপ্তাহের চেয়ে ১৫০ টাকা বেড়ে পাবদা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা, ১০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে টেংরা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা এবং ২০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে গুচি মাছ বিক্রি হচ্ছে ১০০০ টাকা কেজিতে।

শালবাগান বাজার,সাহেববাজার নিউমার্কেট কাঁচা  বাজারের বিভিন্ন মুরগি দোকানদার বলেন, কয়েকদিন আগে ব্রয়লার মুরগি ১৪৫ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। এখন বেড়ে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা হয়েছে। সোনালি ২৫০ টাকা, কক মুরগি ২৫০ টাকা, হাঁস ৩৩০ টাকা, রাজহাঁস ৪৫০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। দাম আরও বাড়বে এমনটা প্রত্যাশা এই মুরগি ব্যবসায়ীর।

নিউর্মাকেট কাঁচা বাজারে  কথা হয় মোবাইল ব্যবসায়িক রাসেল সঙ্গে। তিনি বলেন, ডিম-মুরগি, রসুন-পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে আমাদের বেচে থাকায় অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আমাকে ব্যয় কমাতে হচ্ছে। যেমন আগে প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার আমাদের পরিবারে আমরা গরুর মাংস খেতাম। এখন চার সপ্তাহে একবার খাইনি।

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসেন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর এই কয়েকদিনে প্রতিটি নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম গড়ে শতকরা ৩০ ভাগ বেড়েছে। আর এটা সাধারণ মানুষকে চরম সংকটের মধ্যে ফেলেছে। জ্বালানি তেলের দাম যতটা বাড়ার কথা তার চেয়ে অনেক বেশি বাড়ছে। সব পর্যায়ের ব্যবসায়ীরাই সুযোগ নিচ্ছে, সবজি দোকানদার থেকে শুরু করে সবাই। চাল আমদানির সুযোগ দেয়ার পরও চালের বাজারে সংকট তৈরি করা হয়েছে চাল মজুদ করে। ভোজ্য তেলেও তাই করা হচ্ছে। বাজার মনিটরিং বলে কিছু আছে বলে মনে হয় না।