মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শ্রীলঙ্কার বিক্ষুব্ধ রাজপথ এখন বিজয় উৎসবের

ইতিহাসের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মুখে শ্রীলঙ্কা। চার মাসেরও বেশি সময় ধরে চলে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ায় দুই কোটি ২০ লাখ মানুষের দ্বীপ রাষ্ট্রটিকে জ্বালানি, খাদ্য ও ওষুধ আমদানির ব্যয় মেটাতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এই কঠিন সময়ে লঙ্কানদের জন্য দারুণ মুহূর্ত এনে দিলো তাদের ক্রিকেট দল। কলম্বোর বিক্ষুব্ধ রাজপথে এখন চলছে বিজয় উৎসব।

গত রোববার দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ফাইনালে পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারিয়ে এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শ্রীলঙ্কা। প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে হেরে যাওয়া দলটি দারুণ প্রত্যাবর্তনের দৃষ্টান্ত তৈরি করে অর্জন করেছে এশিয়ান ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠত্ব।

ষষ্ঠ এশিয়া কাপ ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরেছেন দাসুন শানাকা ও তার দল। ছাদখোলা বাসে করে চ্যাম্পিয়ন দল কলম্বোর রাস্তায় বিজয় উৎসব করেন। সাদা পোশাকে ক্রিকেটাররা রঙিন এই উৎসবে মেতে ওঠেন ভক্তদের সঙ্গে।

শ্রীলঙ্কার সাবেক ওপেনার ও এমিয়া কাপ টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান চারিথ সেনানায়েকে বলেন, ক্রিকেট দলের এই অভিযাত্রায় অনুপ্রেরণা ছিল আরাগালায়া, সিংহলিজ এই শব্দের অর্থ সংগ্রাম। দ্য ন্যাশনালকে তিনি বলেন, ‘আরাগালায়ার আসল অর্থ হলো দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং জনগণের নিজেদের অধিকার আদায়ের লড়াই। পুরো দেশ এই সংগ্রামকে সমর্থন দিয়েছে এবং আমাদের ক্রিকেটাদের ওপরও এর ছাপ পড়েছিল। আমাদের ক্রিকেটাররা বুঝতে পেরেছিল শ্রীলঙ্কার জনগণ কিসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এটাই খেলোয়াড়দের মাঠে নেমে দুইশ ভাগ দিতে উজ্জীবিত করেছে। ২ কোটি ২০ লাখ শ্রীলঙ্কানদের মুখে হাসি এনে দিয়েছে তারা।’

ফাইনালের ম্যাচসেরা খেলোয়াড় ভানুকা রাজাপাকসা এই ট্রফি দেশবাসীকে উৎসর্গ করেন, ‘একটি জাতি হিসেবে যে সংকটের মধ্যে আমরা আছি, তার মধ্যে এমন জয় সত্যিই দারুণ বলে মনে করি আমি। শ্রীলঙ্কানদের জন্য কঠিন সময় যাচ্ছে এবং আমরা খুশি। আমরা বিশ্বাস করি, তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছি।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

শ্রীলঙ্কার বিক্ষুব্ধ রাজপথ এখন বিজয় উৎসবের

প্রকাশিত সময় : ১০:৩৯:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

ইতিহাসের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মুখে শ্রীলঙ্কা। চার মাসেরও বেশি সময় ধরে চলে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ায় দুই কোটি ২০ লাখ মানুষের দ্বীপ রাষ্ট্রটিকে জ্বালানি, খাদ্য ও ওষুধ আমদানির ব্যয় মেটাতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এই কঠিন সময়ে লঙ্কানদের জন্য দারুণ মুহূর্ত এনে দিলো তাদের ক্রিকেট দল। কলম্বোর বিক্ষুব্ধ রাজপথে এখন চলছে বিজয় উৎসব।

গত রোববার দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ফাইনালে পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারিয়ে এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শ্রীলঙ্কা। প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে হেরে যাওয়া দলটি দারুণ প্রত্যাবর্তনের দৃষ্টান্ত তৈরি করে অর্জন করেছে এশিয়ান ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠত্ব।

ষষ্ঠ এশিয়া কাপ ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরেছেন দাসুন শানাকা ও তার দল। ছাদখোলা বাসে করে চ্যাম্পিয়ন দল কলম্বোর রাস্তায় বিজয় উৎসব করেন। সাদা পোশাকে ক্রিকেটাররা রঙিন এই উৎসবে মেতে ওঠেন ভক্তদের সঙ্গে।

শ্রীলঙ্কার সাবেক ওপেনার ও এমিয়া কাপ টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান চারিথ সেনানায়েকে বলেন, ক্রিকেট দলের এই অভিযাত্রায় অনুপ্রেরণা ছিল আরাগালায়া, সিংহলিজ এই শব্দের অর্থ সংগ্রাম। দ্য ন্যাশনালকে তিনি বলেন, ‘আরাগালায়ার আসল অর্থ হলো দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং জনগণের নিজেদের অধিকার আদায়ের লড়াই। পুরো দেশ এই সংগ্রামকে সমর্থন দিয়েছে এবং আমাদের ক্রিকেটাদের ওপরও এর ছাপ পড়েছিল। আমাদের ক্রিকেটাররা বুঝতে পেরেছিল শ্রীলঙ্কার জনগণ কিসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এটাই খেলোয়াড়দের মাঠে নেমে দুইশ ভাগ দিতে উজ্জীবিত করেছে। ২ কোটি ২০ লাখ শ্রীলঙ্কানদের মুখে হাসি এনে দিয়েছে তারা।’

ফাইনালের ম্যাচসেরা খেলোয়াড় ভানুকা রাজাপাকসা এই ট্রফি দেশবাসীকে উৎসর্গ করেন, ‘একটি জাতি হিসেবে যে সংকটের মধ্যে আমরা আছি, তার মধ্যে এমন জয় সত্যিই দারুণ বলে মনে করি আমি। শ্রীলঙ্কানদের জন্য কঠিন সময় যাচ্ছে এবং আমরা খুশি। আমরা বিশ্বাস করি, তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছি।’