মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পুলিশ স্বামীর পরকীয়ায় অতিষ্ঠ স্ত্রী

গাইবান্ধায় যৌতুকের দাবি ও পরকীয়ার অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল স্বামীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্ত্রী।

রবিবার (২ অক্টোবর) দুপুরে প্রেসক্লাব গাইবান্ধায় সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন- আয়েশা সিদ্দিকা সেতু নামের ওই নারী। সেতু আক্তার গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম এলাকার পুলিশ সদস্য রাসেল আকন্দ তুষারের স্ত্রী।

লিখিত বক্তব্যে আয়েশা সিদ্দিকা সেতু বলেন, ভাতগ্রাম এলাকার দেলোয়ার আকন্দের ছেলে পুলিশ সদস্য রাসেল আকন্দ তুষার এর সাথে ২০১৮ সালের ৯ ফেব্রুয়ারিতে পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়। বিয়ের দেড় বছর পর সেতুর স্বামী রাসেল পরকীয়ার জড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই সেতুর উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চলত থাকে। এক পর্যায়ে সেতুর কাছে ২ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে তার স্বামী।

টাকা না পেয়ে ২০২০ সালের ৭ই অক্টোবর রংপুরের ভাড়া বাসায় সেতুকে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে, গুরুতর আহত করে বাসায় ফেলে রাখে। পরে বাসার পাশের ভাড়াটিয়ার মাধ্যমে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন সেতুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা করান। চিকিৎসা শেষে কয়েকদিন পর রংপুরের ভাড়া বাসায় তার স্বামীর কাছে রেখে আসে সেতুর পরিবার।

এর কিছুদিন পর পদোন্নতি জনিত কারণে স্বামী রাসেলের রংপুর থেকে পঞ্চগড়ে বদলি হলে সেতু শ্বশুর বাড়িতে থাকেন। পঞ্চগড়ে যাওয়ার পর থেকেই স্বামী রাসেল স্ত্রী সেতুর সাথে সবধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। কিছুদিন পর বাড়িতে এসে আবারো যৌতুকের ওই দুই লাখ টাকার জন্য মারধর করে সেতুকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।

এরপর দীর্ঘ চার মাস পর সেতু স্বামী ও তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে ব্যর্থ হলে রংপুর ডিআইজি অফিসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন সেতু। পরে ডিআইজি মহোদয় বিষয়টি পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপারকে অবহিত করে সেতুর নিকট নির্যাতনের বিষয়গুলো শোনা হলেও আজ অবধি পঞ্চগড়ের পুলিশ অফিস থেকে সেতুর সাথে আর কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করেন, তাদের সন্তান না হওয়ায় স্বামী-স্ত্রী উভয়েই রংপুরে ডাক্তারি পরীক্ষা করান। পরীক্ষার রিপোর্টে সেতুর গর্ভধারণে কোন সমস্যা না থাকলেও স্বামী রাসেলের সেক্সচ্যুয়াল ত্রুটি ধরা পড়ে। কিন্তু স্বামী রাসেল পরীক্ষার ওই রিপোর্টকে মিথ্যা দাবি করে স্ত্রীর উপর নির্যাতন চালায়।

স্বামীর এমন কর্মকাণ্ডের বিচার চেয়ে বরাবরই ব্যর্থ হয়েছেন সেতু। স্বামী রাসেলের সহকারী পুলিশ সুপার জ্যাটাতো ভাই সুমন অনেক ক্ষমতাধর ও রাসেলের পরিবার অনেক অর্থ বিত্তের মালিক হওয়ায় সব জায়গায় টাকা ব্যবহারের কারণে সেতু বারবার ন্যায় বিচার চেয়ে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন। এ সময় সেতু তার স্বামী পুলিশ সদস্যের সুষ্ঠু বিচারের দাবি করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পুলিশ স্বামীর পরকীয়ায় অতিষ্ঠ স্ত্রী

প্রকাশিত সময় : ১১:২৫:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অক্টোবর ২০২২

গাইবান্ধায় যৌতুকের দাবি ও পরকীয়ার অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল স্বামীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্ত্রী।

রবিবার (২ অক্টোবর) দুপুরে প্রেসক্লাব গাইবান্ধায় সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন- আয়েশা সিদ্দিকা সেতু নামের ওই নারী। সেতু আক্তার গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম এলাকার পুলিশ সদস্য রাসেল আকন্দ তুষারের স্ত্রী।

লিখিত বক্তব্যে আয়েশা সিদ্দিকা সেতু বলেন, ভাতগ্রাম এলাকার দেলোয়ার আকন্দের ছেলে পুলিশ সদস্য রাসেল আকন্দ তুষার এর সাথে ২০১৮ সালের ৯ ফেব্রুয়ারিতে পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়। বিয়ের দেড় বছর পর সেতুর স্বামী রাসেল পরকীয়ার জড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই সেতুর উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চলত থাকে। এক পর্যায়ে সেতুর কাছে ২ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে তার স্বামী।

টাকা না পেয়ে ২০২০ সালের ৭ই অক্টোবর রংপুরের ভাড়া বাসায় সেতুকে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে, গুরুতর আহত করে বাসায় ফেলে রাখে। পরে বাসার পাশের ভাড়াটিয়ার মাধ্যমে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন সেতুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা করান। চিকিৎসা শেষে কয়েকদিন পর রংপুরের ভাড়া বাসায় তার স্বামীর কাছে রেখে আসে সেতুর পরিবার।

এর কিছুদিন পর পদোন্নতি জনিত কারণে স্বামী রাসেলের রংপুর থেকে পঞ্চগড়ে বদলি হলে সেতু শ্বশুর বাড়িতে থাকেন। পঞ্চগড়ে যাওয়ার পর থেকেই স্বামী রাসেল স্ত্রী সেতুর সাথে সবধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। কিছুদিন পর বাড়িতে এসে আবারো যৌতুকের ওই দুই লাখ টাকার জন্য মারধর করে সেতুকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।

এরপর দীর্ঘ চার মাস পর সেতু স্বামী ও তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে ব্যর্থ হলে রংপুর ডিআইজি অফিসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন সেতু। পরে ডিআইজি মহোদয় বিষয়টি পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপারকে অবহিত করে সেতুর নিকট নির্যাতনের বিষয়গুলো শোনা হলেও আজ অবধি পঞ্চগড়ের পুলিশ অফিস থেকে সেতুর সাথে আর কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করেন, তাদের সন্তান না হওয়ায় স্বামী-স্ত্রী উভয়েই রংপুরে ডাক্তারি পরীক্ষা করান। পরীক্ষার রিপোর্টে সেতুর গর্ভধারণে কোন সমস্যা না থাকলেও স্বামী রাসেলের সেক্সচ্যুয়াল ত্রুটি ধরা পড়ে। কিন্তু স্বামী রাসেল পরীক্ষার ওই রিপোর্টকে মিথ্যা দাবি করে স্ত্রীর উপর নির্যাতন চালায়।

স্বামীর এমন কর্মকাণ্ডের বিচার চেয়ে বরাবরই ব্যর্থ হয়েছেন সেতু। স্বামী রাসেলের সহকারী পুলিশ সুপার জ্যাটাতো ভাই সুমন অনেক ক্ষমতাধর ও রাসেলের পরিবার অনেক অর্থ বিত্তের মালিক হওয়ায় সব জায়গায় টাকা ব্যবহারের কারণে সেতু বারবার ন্যায় বিচার চেয়ে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন। এ সময় সেতু তার স্বামী পুলিশ সদস্যের সুষ্ঠু বিচারের দাবি করেন।