সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের প্রয়াণ দিবস আজ

উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের প্রয়াণ দিবস আজ ১৫ নভেম্বর। গত বছরের (২০২১) ১৫ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে তিনি রাজশাহীর নিজ বাড়ি উজানে পরলোকগমন করেন। এবারে তার প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন আয়োজন করা হয়।

হাসান আজিজুল হক ছিলেন একজন বাংলাদেশী ঔপন্যাসিক, ছোট গল্পকার, কথাসাহিত্যিক। প্রখ্যাত এই কথাসাহিত্যিক ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দের ২ ফেব্রুয়ারি বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার যবগ্রামে এক সম্ভ্রান্ত এবং একান্নবর্তী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সালে রাজশাহী সরকারি কলেজে থেকে দর্শনে স্নাতক ডিগ্রি এবং ১৯৬০ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

কর্মজীবনে ১৯৬০ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী সিটি কলেজ, সিরাজগঞ্জ কলেজ, খুলনা সরকারি মহিলা কলেজ এবং সরকারি ব্রজলাল কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। ১৯৭৩ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন এবং একনাগাড়ে ৩১ বছর অধ্যাপনা করেন ২০০৪ সালে অবসর নেন। সাহিত্যে অবদানের জন্য হাসান আজিজুল হক ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান। ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করে।

২০১৯ সালে তাঁকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়। ১৯৬০ সালে ‘শকুন’ শীর্ষক গল্প প্রকাশের মধ্য দিয়ে হাসান আজিজুল হক সাহিত্যাঙ্গনে তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ১৯৬০ সালে বৃত্তায়ন নামের একটি উপন্যাস লিখলেও তিনি নিজেই এটির বড় সমালোচক। এ রচনাকে তিনি নিজেই উপন্যাস হিসেবে অস্বীকার করে থাকেন। তবে আগুনপাখি নামে একটি উপন্যাস প্রকাশিত হয় ২০০৬ সালে। উপন্যাসটি প্রথম আলো বর্ষসেরা বইয়ের স্বীকৃতি লাভ করে। এ উপন্যাসের জন্য তিনি ২০০৮ সালে কলকাতা থেকে আনন্দ সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। তার দ্বিতীয় উপন্যাস ‘সাবিত্রী উপাখ্যান’ ২০১৩ সালে প্রকাশিত হয়। ‘শিউলি’ নামে আরও একটি ছোট উপন্যাস তিনি লিখেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের প্রয়াণ দিবস আজ

প্রকাশিত সময় : ০২:৪৯:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ নভেম্বর ২০২২

উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের প্রয়াণ দিবস আজ ১৫ নভেম্বর। গত বছরের (২০২১) ১৫ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে তিনি রাজশাহীর নিজ বাড়ি উজানে পরলোকগমন করেন। এবারে তার প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন আয়োজন করা হয়।

হাসান আজিজুল হক ছিলেন একজন বাংলাদেশী ঔপন্যাসিক, ছোট গল্পকার, কথাসাহিত্যিক। প্রখ্যাত এই কথাসাহিত্যিক ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দের ২ ফেব্রুয়ারি বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার যবগ্রামে এক সম্ভ্রান্ত এবং একান্নবর্তী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সালে রাজশাহী সরকারি কলেজে থেকে দর্শনে স্নাতক ডিগ্রি এবং ১৯৬০ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

কর্মজীবনে ১৯৬০ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী সিটি কলেজ, সিরাজগঞ্জ কলেজ, খুলনা সরকারি মহিলা কলেজ এবং সরকারি ব্রজলাল কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। ১৯৭৩ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন এবং একনাগাড়ে ৩১ বছর অধ্যাপনা করেন ২০০৪ সালে অবসর নেন। সাহিত্যে অবদানের জন্য হাসান আজিজুল হক ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান। ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করে।

২০১৯ সালে তাঁকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়। ১৯৬০ সালে ‘শকুন’ শীর্ষক গল্প প্রকাশের মধ্য দিয়ে হাসান আজিজুল হক সাহিত্যাঙ্গনে তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ১৯৬০ সালে বৃত্তায়ন নামের একটি উপন্যাস লিখলেও তিনি নিজেই এটির বড় সমালোচক। এ রচনাকে তিনি নিজেই উপন্যাস হিসেবে অস্বীকার করে থাকেন। তবে আগুনপাখি নামে একটি উপন্যাস প্রকাশিত হয় ২০০৬ সালে। উপন্যাসটি প্রথম আলো বর্ষসেরা বইয়ের স্বীকৃতি লাভ করে। এ উপন্যাসের জন্য তিনি ২০০৮ সালে কলকাতা থেকে আনন্দ সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। তার দ্বিতীয় উপন্যাস ‘সাবিত্রী উপাখ্যান’ ২০১৩ সালে প্রকাশিত হয়। ‘শিউলি’ নামে আরও একটি ছোট উপন্যাস তিনি লিখেছেন।