ফুটবল বিশ্বকাপের ২২তম আসর মাঠে গড়ানোর অপেক্ষায় আছে পুরো বিশ্ব। ২০ নভেম্বর স্বাগতিক কাতার-ইকুয়েডর ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে বিশ্বকাপের। অনেক ফুটবলারের জন্য প্রথম হলেও অনেক তারকা ফুটবলারের জন্য হতে পারে এটাই শেষ বিশ্বকাপ।
লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা) : ফুটবল বিশ্বে সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের মধ্যে একজন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। দেশের জার্সিতে চারটি বিশ্বকাপ খেলেছেন তিনি। গোল পেয়েছেন ৬টি। এখনো পর্যন্ত বিশ্বকাপ ছুঁয়ে দেখতে না পারলেও কোপা আমেরিকার সর্বশেষ আসরে আলবেসেলেস্তেদের হয়ে প্রথম শিরোপা জয় করেছেন তিনি। এছাড়া ২০১৪ বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ফাইনালে নিয়ে হয়েছেন শিরোপ বঞ্চিত। ২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার জার্সিতে অভিষেক হয় তার। সর্বোচ্চ সাতবার ব্যালন ডি’অর পুরস্কার জিতেছেন। তার বয়স এখন প্রায় ৩৫। কাতার বিশ্বকাপের পর পরবর্তী বিশ্বকাপ আসতে আসতে তার বয়স হবে ৩৯। ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন কাতারই তার শেষ বিশ্বকাপ। তাই এই বিশ্বকাপে একটি শিরোপা ছুঁয়ে দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকবেন এই আর্জেন্টাইন।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল) : সর্বকালের অন্যতম আরেক সেরা ফুটবলার পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইতিহাসের ইতোমধ্যে সর্বাধিক গোলদাতার রেকর্ড অর্জন করেছেন তিনি। চার বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ১৭ ম্যাচে তিনি করেছেন ৭ গোল। পাঁচবার ব্যালন ডি’অর জয়ী এই জনপ্রিয় ফুটবলারের বর্তমান বয়স ৩৭। কাতার বিশ্বকাপে তাকে মাঠে দেখা গেলেও পরবর্তী বিশ্বকাপে না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কেননা তখন বয়স হবে ৪১। এই বয়সে ফিটনেস ধরে রেখে ফুটবল মাঠে দৌড়ানো প্রায় দুরূহ। তাই কাতারই হতে পারে তার শেষ বিশ্বকাপ।
রবার্ট লেভানদোভস্কি (পোল্যান্ড) : রবার্ট লেভানদোভস্কি বর্তমানে পোল্যান্ড জাতীয় দলের অধিনায়ক। পোল্যান্ডের হয়ে তিনি উয়েফা ইউরো ২০১২, উয়েফা ইউরো ২০১৬, ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপ এবং উয়েফা ইউরো ২০২০ টুর্নামেন্ট খেলেছেন। ১৯৮৮ সালের ২১ আগস্ট জন্ম নেয়া এই তারকার বয়স ৩৪। পরবর্তী বিশ্বকাপে তার বয়স হবে ৩৮। তাই এটাই হতে পারে এই ফরোয়ার্ডের শেষ বিশ্বকাপ।
লুকা মড্রিচ (ক্রোশিয়া) : ক্রোশিয়ার জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক লুকা মড্রিচের জন্ম ১৯৮৫ সালে। এই পর্যন্ত ৩টি বিশ্বকাপে অংশ নেয়া মড্রিচ ১২টি ম্যাচে গোল করেছেন ২টি। বিশ্বকাপের গত আসরে তার নেতৃত্বে ফাইনালে ওঠে ক্রোশিয়া। পরবর্তী বিশ্বকাপে তার বয়স হবে ৪১। তাই তিনিও হয়তো অংশ নিতে পারবেন না পরবর্তী বিশ্বকাপে।
নেইমার জুনিয়র (ব্রাজিল) : নেইমার জুনিয়রের জন্ম ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের সাও পাওলোতে। ২০১০ সালে জাতীয় দলে অভিষেক হওয়া নেইমার নিজেকে নিজেই ছাড়িয়ে গেছেন। ২০১৭ সালের আগস্টে রেকর্ড ২২ কোটি ২০ লাখ ইউরো ট্রান্সফার ফিতে বার্সা ছেড়ে যোগ দেন প্যারিস সেইন্ট জার্মান (পিএসজি)-তে। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ১০ ম্যাচে করেছেন ৬ গোল। বিভিন্ন সময় ইনজুরিতে আক্রান্ত এই ফরোয়ার্ডের বর্তমান বয়স ৩০। চোট কাটিয়ে এবং বয়স বিবেচনায় হয়তো নাও খেলতে পারেন পরবর্তী বিশ্বকাপ।
হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড) : হ্যারি কেইন রাশিয়া বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন। কাতার বিশ্বকাপেও তার পায়ের জাদু দেখতে পারে ফুটবল বিশ্ব। গত ইউরো কাপে করেছেন ৪ গোল। ২০২১-২২ মৌসুমের দেশের জার্সিতে মাত্র ৮ ম্যাচে পেয়েছেন ১২ গোল। কেইনের বর্তমান বয়স ২৯। তবে এই আসরের পর বয়স বেড়ে হবে ৩৩। ইতোমধ্যে ইংল্যান্ডে রয়েছে অনেক তরুণ তারকা ফুটবলার। ফলে পরবর্তী বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড শিবিরে দেখা নাও যেতে পারে এই অধিনায়ককে।-ভোরের কাগজ

দৈনিক দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 

























