মুসলিমমাত্রই হেরা পর্বতের নাম শুনলে আবেগাপ্লুত হয়ে ওঠেন। মুহাম্মদ (স.)-এর কাছে ওহি আসার আগে তিনি জনবিচ্ছিন্ন ওই স্থানেই মহান প্রভুর ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। সেখানেই তার প্রতি প্রথম ওহি আসে, ইকরা (পড়)। এরপর ধীরে ধীরে তার ওপর নাজিল হয় পুরো কোরআন। মহানবীর (স.) স্মৃতিবিজড়িত সেই ঐতিহাসিক হেরা পর্বতে কোরআনের আয়াত প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। খবর আরব নিউজ।
ঐতিহাসিক হেরা গুহা অবস্থিত ৬৪২ মিটার উঁচু জাবালে নুর বা নুর পাহাড়ের চূড়াতে। এটি মক্কা মুকাররমার পবিত্র বায়তুল্লাহ থেকে ১০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। সম্প্রতি সেখানে লেজার লাইটের মাধ্যমে পবিত্র কুরআনের কিছু আয়াত প্রদর্শন করা হয়। গত সোমবার মক্কার ‘হেরা কালচারাল ডিস্ট্রিক’ এক টুইট বার্তায় ওই অনুষ্ঠানের কিছু ছবি প্রকাশ করা হয়। নানা রঙের লেজার লাইটের এসব দৃশ্য মুগ্ধ করছে দর্শনার্থী ও পর্যটকদের।
প্রদর্শিত আয়াতগুলোর মধ্যে আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস উপলক্ষে কোরআনে বর্ণিত পাহাড়সংশ্লিষ্ট সুরা নাবারও একটি আয়াত ছিল। আয়াতটির অর্থ হলো, ‘এবং আমি কি পাহাড়কে পেরেক হিসেবে তৈরি করিনি?’ আরেকটি দৃশ্যে কোরআনের সুরা আলাকের প্রথম আয়াত ভেসে উঠতে দেখা যায়, যার অর্থ, ‘আপনি আপনার রবের নামে পড়ুন, যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন।’ এছাড়া আরও কয়েকটি দৃশ্যে ‘ইকরা’ (আপনি পড়ুন) এবং ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই ও মুহাম্মাদ আল্লাহ রাসুল) ইত্যাদি ছবিও ভেসে ওঠে।সেন্টার ফর দ্য হিস্টোরি অব মক্কার পরিচালক ড. ফাওয়াজ দাহাস বলেন, ইতিহাসে স্থানটি হেরা পর্বত নামে পরিচিত হলেও পরবর্তী সময়ে এর নাম জাবালে নুর বা আলোর পর্বত করা হয়েছিল। কারণ এখানেই পবিত্র কোরআনের প্রথম আয়াত নাজিল হয়েছিল, যার মাধ্যমে আলোকিত হয়েছিল পুরো পৃথিবীই।
এমনই এক স্মৃতিবিজড়িত স্থানে লেজার লাইটের মাধ্যমে পবিত্র কোরআনের আয়াতগুলো প্রদর্শন করায় তা দর্শকদের মধ্যে আধ্যাত্মিকতা, ভক্তি ও শ্রদ্ধার আবহ তৈরি করেছে।
সৌদি ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নে এখন দেশটি জুড়ে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে। দ্য রয়েল কমিশন ফর মক্কা সিটি অ্যান্ড হলি সাইটসের তত্ত্বাবধানে জাবালে নুরসহ ঐতিহাসিক স্থানগুলো নিয়ে কাজ করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ৬৭ হাজার বর্গমিটারের অধিক এলাকাজুড়ে হেরা কালচারাল ডিস্ট্রিক প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে। প্রাক-ইসলামী যুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত মহানবীর (স.) ইতিহাসের সাথে সবাইকে পরিচিত করাই এর অন্যতম লক্ষ্য। সাংস্কৃতিক ও পর্যটন স্পট ছাড়াও এখানে থাকবে রেভুলেশন গ্যালারি ও হলি কোরআন মিউজিয়াম।

দৈনিক দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 

























