বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কাতার বিশ্বকাপে মৃত বাংলাদেশি কর্মীদের তালিকা চেয়েছেন হাইকোর্ট

কাতারে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনকে কেন্দ্র করে মানবেতর পরিস্থিতিতে কাজ করতে গিয়ে নিহত কর্মীদের তালিকা প্রস্তুত করে তা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণলায়কে এই তালিকা প্রস্তুত করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

একই সঙ্গে কাতারে ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনকে কেন্দ্র করে মানবেতর পরিস্থিতিতে কাজ করতে গিয়ে যদি বাংলাদেশের সাড়ে ৪০০ শ্রমিকের মৃত্যু হয়ে থাকে, তাহলে তাদের কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেছেন আদালত। 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাস, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন প্রধান, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার বাংলাদেশ অফিস, ফেডারেশন অব ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ফিফা), কাতারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (ইন্টেরিয়র) ও কাতারের শ্রমমন্ত্রীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এ-সংক্রান্ত রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ সোমবার (৩০ জানুয়ারি) বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মাসুদ আর সোবহান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আবুল কালাম খান দাউদ এর আগে কাতারে ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনকে কেন্দ্র করে মানবেতর পরিস্থিতিতে কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশের অন্তত ৪৫০ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে দাবি করে ওই শ্রমিকদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। গত ১৩ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মাসুদ আর সোবহান জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাতার বিশ্বকাপে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন রিট আবেদনে সংযুক্ত করা হয়।

রিটে বলা হয়েছে, ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করতে গিয়ে কাতারে মানবেতর জীবন কাটিয়েছেন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমিকরা। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে দীর্ঘক্ষণ কাজ করতে বাধ্য করা হয় তাদের। শ্রম অধিকারের আন্তর্জাতিক কোনও রীতি-নীতি তারা মানেনি। এ জন্য বহু শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। 

রিট আবেদনে সংযুক্ত করা বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১০ বছর আগে বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পাওয়ার পর এর প্রস্তুতিতে সেখানে সাড়ে ৬ হাজারের বেশি দক্ষিণ এশিয়ান শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

কাতার বিশ্বকাপে মৃত বাংলাদেশি কর্মীদের তালিকা চেয়েছেন হাইকোর্ট

প্রকাশিত সময় : ০৫:২০:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩

কাতারে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনকে কেন্দ্র করে মানবেতর পরিস্থিতিতে কাজ করতে গিয়ে নিহত কর্মীদের তালিকা প্রস্তুত করে তা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণলায়কে এই তালিকা প্রস্তুত করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

একই সঙ্গে কাতারে ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনকে কেন্দ্র করে মানবেতর পরিস্থিতিতে কাজ করতে গিয়ে যদি বাংলাদেশের সাড়ে ৪০০ শ্রমিকের মৃত্যু হয়ে থাকে, তাহলে তাদের কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেছেন আদালত। 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাস, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন প্রধান, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার বাংলাদেশ অফিস, ফেডারেশন অব ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ফিফা), কাতারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (ইন্টেরিয়র) ও কাতারের শ্রমমন্ত্রীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এ-সংক্রান্ত রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ সোমবার (৩০ জানুয়ারি) বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মাসুদ আর সোবহান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আবুল কালাম খান দাউদ এর আগে কাতারে ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনকে কেন্দ্র করে মানবেতর পরিস্থিতিতে কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশের অন্তত ৪৫০ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে দাবি করে ওই শ্রমিকদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। গত ১৩ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মাসুদ আর সোবহান জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাতার বিশ্বকাপে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন রিট আবেদনে সংযুক্ত করা হয়।

রিটে বলা হয়েছে, ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করতে গিয়ে কাতারে মানবেতর জীবন কাটিয়েছেন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমিকরা। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে দীর্ঘক্ষণ কাজ করতে বাধ্য করা হয় তাদের। শ্রম অধিকারের আন্তর্জাতিক কোনও রীতি-নীতি তারা মানেনি। এ জন্য বহু শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। 

রিট আবেদনে সংযুক্ত করা বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১০ বছর আগে বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পাওয়ার পর এর প্রস্তুতিতে সেখানে সাড়ে ৬ হাজারের বেশি দক্ষিণ এশিয়ান শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।