ক্যাম্পাস অভ্যন্তরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী শহীদ হিমেল দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
আজ সকাল ১০টায় শহীদ হিমেলের স্মরণে শহীদ হবিবুর রহমান মাঠে দুর্ঘটনাস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি জোট ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ড্রামা এসোসিয়েশন (রুডা)।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে দূর্ঘটনাস্থলে শহীদ হিমেলের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানান জোটের সভাপতি মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অমিত কুমার দত্ত। তিনি বলেন, হিমেল মৃত্যুর এক বছর হলেও এখানে কোন স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ হয়নি। অথচ প্রশাসন সেটা নির্মাণের আশ্বাস মৃত্যুর পরদিই দিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পসে একজন শিক্ষার্থীর এভাবে মৃত্যু খুবই দুঃখজনক। এধরনের ঘটনা পুনর্বার যাতে না ঘটে সেবিষয়ে সচেষ্ট থাকতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবী জানান।
একই দাবি জানিয়ে শহীদ হিমেলের সংগঠন রুডার সভাপতি মো. মনির হোসাইন জানান, সেদিন হিমেলের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর হৃদয়কে নাড়া দিয়েছিল। প্রশাসন বাধ্য হয়ে উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের সকল দাবি মেনেও নিয়েছিল। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর এক বছর হলেও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ হয়নি। অথচ প্রশাসন নিজেই এটা নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতেও প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। তাই অবিলম্বে এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানাই।
দিবসটি উপলক্ষে বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ড্রামা এসোসিয়েশনের (রুডা) আয়োজনে ড মমতাজউদ্দিন কলা ভবনে স্মরণসভা এবং সন্ধ্যা ৬টায় দূর্ঘটনাস্থলে প্রদীপ প্রজ্জ্বল করবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সংস্কৃতিক জোট।
২০২২ সালের ১লা ফেব্রুয়ারী রাত ৮টার দিকে শহীদ হবিবুর রহমান হলের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত বেপরোয়া ট্রাকের চাপায় নিহত হন গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহবুব হাবিব হিমেল নিহত হন। এঘটনায় আহত হন তার বন্ধু সিরামিক ও ভাস্কর্য বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রায়হান প্রামানিক। হিমেল শহীদ শামসুজ্জোহা হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। এছাড়া তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ড্রামা এ্যাসোসিয়েশন (রুডা) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোটের দফতর সম্পাদক ছিলেন।
ট্রাক চাপায় শিক্ষার্থী মৃত্যু খবর পেলে দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হতে থাকে শিক্ষার্থীরা। হিমেলের ছিন্নভিন্ন মৃতদেহ দীর্ঘক্ষণ দূর্ঘটনাস্থলে পড়ে থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা না নেয়ার অভিযোগ তুলে উত্তেজিত হয়ে উঠেন শিক্ষার্থীরা।বিক্ষোভে উত্তার হয়ে উঠে পুরো ক্যাম্পাস। এটা হত্যা দাবি করে রাতভর আন্দোলন করতে থাকেন তারা। এসময় নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ৬টি ট্রাকে আগুন ও নির্মাণাধীন ভবনে ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা। এমনকি উপাচার্যের বাসভবন অবরোধ করে আন্দোলন চলতে থাকে।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রাতেই ৬ দফা দাবি জানান।
দাবিগুলো ছিল- প্রক্টোরিয়াল বডির পদত্যাগসহ নিহতের পরিবারকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া, নিহত শিক্ষার্থীর বোনকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি প্রদান, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান পাল্টানো এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও হিমেল নিহতের ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড- হিসেবে বিচার করা। ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়াসহ দাবিগুলো প্রাথমিকভাবে মেনে নেন প্রশাসন। সেই রাতেই প্রক্টরকে প্রত্যাহার করা হয়। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয় নির্মাণ কাজ। চালককে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ক্যাম্পাস জুড়ে নেমে আসে শোকের ছাঁয়া। ঐদিন বাদ যোহর নাটোরের কাপড়পট্টি এলাকায় নববিধান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাজার পর নানার বাড়ির পাশের কবরস্থানে দাফন কার্য সম্পন্ন হয়।
হিমেল ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক নিবেদিত কর্মী। তাঁর এই অকাল মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সংস্কৃতিক অঙ্গন তাঁকে চিরদিন স্মরণ করবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক: 
























