শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাগমারায় অপহৃত স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ

অপহরনের এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও রাজশাহীর বাগমারায় ষষ্ঠ শ্রেনীর শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করতে পারেনি থানা পুলিশ। পুলিশের এমন কর্মকান্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অপহিতার পরিবারসহ এলাকার সচেতন মানুষ। ওই ঘটনার পর থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা অবিলম্বে অপহিত স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার ও অপহরন কারীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ভানসীপাড়া গ্রামের জনৈক ব্যক্তির স্কুল পড়ুয়া মেয়ে (১৩) ছদ্দনাম সুন্দরীকে নিয়ে ,একই গ্রামের দুই সন্তানের জনক ভানসীপাড়া গ্রামের আক্কাছ আলীর বখাটে ছেলে বাবু হোসেন মরু (৩০) গত ২২ ফেব্রুয়ারী বাড়ি থেকে সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় পথের মধ্যে একটি অপরিচিত সিএনজিতে জোরপূর্বক উঠিয়ে অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে নিয়ে যায়। ওই দিন সন্ধ্যায় মেয়েটির চাচা জহুরুল ইসলাম বাদী হয়ে একই গ্রামের বাবু হোসেন মরুকে আসামী করে বাগমারা থানায় অপহরনের অভিযোগ এনে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও থানা পুলিশ রহস্যজনক কারনে স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার ও অপহরনকারীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। অপহৃত স্কুল ছাত্রীর সন্ধ্যান না পেয়ে হতভম্ব হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। পুলিশের দুর্বল তৎপরতার কারনেই স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মানুষ। অভিযোগের দায়ীত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা ভাগনদী তদন্ত কেন্দ্রে উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাবু হোসেন মরু একের পর এক অপকর্ম করে যাচ্ছে। কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্র ছায়ায় থেকেই অপরাধমূলক কর্মকান্ড করছেন এলাকায় জানা গেছে। পুলিশের গাফলতি ও অবহেলার কারনেই স্কুল ছাত্রীর জীবন নষ্ট হতে যাচ্ছে বলে এলাকার সাধারন মানুষ ধারনা করছেন। তাদের অভিযোগ, পুলিশের অবহেলা না থাকলে তথ্য প্রযুক্তির যুগে কোন আসামীই পালিয়ে থাকতে পারে না। তারা পুলিশী তৎপরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার ও অপহরনকারী বাবু হোসেন মরুকে গ্রেপ্তারের দাবী জানিয়েছেন। অভিযোগকারী জহুরুল ইসলাম জানান, বেশ কিছু দিন থেকে মরু তার ভাতিজীকে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন। যার কারনে আমার পরিবার থেকে মরুকে বার বার সর্তক করা হয়েছিল। তিনি সর্তক না হয়ে আমার নাবালিকা ভাতিজীকে জোরপূর্বক অপহরন করে নিয়ে গেছে। আমি আমার ভাতিজীকে উদ্ধার ও লম্পট মুরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবী জানাচ্ছি। এ ব্যাপারে যোগযোগ করা হলে বাগমারা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার মনে নেই। তার পরেও বিষয়টি দেখছি বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে থানায় অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি, ঝিকরা পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) বিকাশ চন্দ্রের সাথে কথা বলে। ওই ঘটনায় থানায় অভিযোগ হলে ভাগনদী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ অভিযোগের কপিটি বিকাশকে পাঠিয়ে বিষয়টির খোঁজখবর নিতে বলেন। তার পর থেকেই উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদের কোন খোঁজখবর না থাকায় বিকাশ চন্দ্র চেপে যান বলে তিনি জানিয়েছেন

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বাগমারায় অপহৃত স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ

প্রকাশিত সময় : ১১:০৫:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

অপহরনের এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও রাজশাহীর বাগমারায় ষষ্ঠ শ্রেনীর শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করতে পারেনি থানা পুলিশ। পুলিশের এমন কর্মকান্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অপহিতার পরিবারসহ এলাকার সচেতন মানুষ। ওই ঘটনার পর থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা অবিলম্বে অপহিত স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার ও অপহরন কারীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ভানসীপাড়া গ্রামের জনৈক ব্যক্তির স্কুল পড়ুয়া মেয়ে (১৩) ছদ্দনাম সুন্দরীকে নিয়ে ,একই গ্রামের দুই সন্তানের জনক ভানসীপাড়া গ্রামের আক্কাছ আলীর বখাটে ছেলে বাবু হোসেন মরু (৩০) গত ২২ ফেব্রুয়ারী বাড়ি থেকে সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় পথের মধ্যে একটি অপরিচিত সিএনজিতে জোরপূর্বক উঠিয়ে অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে নিয়ে যায়। ওই দিন সন্ধ্যায় মেয়েটির চাচা জহুরুল ইসলাম বাদী হয়ে একই গ্রামের বাবু হোসেন মরুকে আসামী করে বাগমারা থানায় অপহরনের অভিযোগ এনে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও থানা পুলিশ রহস্যজনক কারনে স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার ও অপহরনকারীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। অপহৃত স্কুল ছাত্রীর সন্ধ্যান না পেয়ে হতভম্ব হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। পুলিশের দুর্বল তৎপরতার কারনেই স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মানুষ। অভিযোগের দায়ীত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা ভাগনদী তদন্ত কেন্দ্রে উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাবু হোসেন মরু একের পর এক অপকর্ম করে যাচ্ছে। কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্র ছায়ায় থেকেই অপরাধমূলক কর্মকান্ড করছেন এলাকায় জানা গেছে। পুলিশের গাফলতি ও অবহেলার কারনেই স্কুল ছাত্রীর জীবন নষ্ট হতে যাচ্ছে বলে এলাকার সাধারন মানুষ ধারনা করছেন। তাদের অভিযোগ, পুলিশের অবহেলা না থাকলে তথ্য প্রযুক্তির যুগে কোন আসামীই পালিয়ে থাকতে পারে না। তারা পুলিশী তৎপরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার ও অপহরনকারী বাবু হোসেন মরুকে গ্রেপ্তারের দাবী জানিয়েছেন। অভিযোগকারী জহুরুল ইসলাম জানান, বেশ কিছু দিন থেকে মরু তার ভাতিজীকে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন। যার কারনে আমার পরিবার থেকে মরুকে বার বার সর্তক করা হয়েছিল। তিনি সর্তক না হয়ে আমার নাবালিকা ভাতিজীকে জোরপূর্বক অপহরন করে নিয়ে গেছে। আমি আমার ভাতিজীকে উদ্ধার ও লম্পট মুরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবী জানাচ্ছি। এ ব্যাপারে যোগযোগ করা হলে বাগমারা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার মনে নেই। তার পরেও বিষয়টি দেখছি বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে থানায় অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি, ঝিকরা পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) বিকাশ চন্দ্রের সাথে কথা বলে। ওই ঘটনায় থানায় অভিযোগ হলে ভাগনদী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ অভিযোগের কপিটি বিকাশকে পাঠিয়ে বিষয়টির খোঁজখবর নিতে বলেন। তার পর থেকেই উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদের কোন খোঁজখবর না থাকায় বিকাশ চন্দ্র চেপে যান বলে তিনি জানিয়েছেন