শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাগমারায় কৃষি অফিসের পরিচর্যায় রক্ষা পেল  সেই অর্ধশত তালগাছ

রাজশাহীর  বাগমারায় আওয়ামী লীগ নেতা শাহারিয়া আলীর বিরুদ্ধে ভবানীগঞ্জ-হাট-গাঙ্গোপাড়া এলাকার বাইগাছায় প্রায় অর্ধশত তালগাছে কীটনাশক প্রয়োগ করে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল। শাহরিয়া আলী নিজের পুকুরপাড়ের আমগাছ রক্ষার জন্য রাস্তার পাশের তাল গাছে তরল জাতীয় বিষাক্ত কিছু স্প্রে করে। এরপর সেই তালগাছগুলো মরতে থাকে। ওই ঘটনায় বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ পায়। সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।

মহামান্য আদালত  স্বপ্রণোদিত হয়ে শাহরিয়া আলীকে আদালতে তলব করেন। সেই সাথে তালগাছগুলো রক্ষায় উপজেলা কৃষি অফিসারকে নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশনায় কীটনাশক প্রয়োগকৃত তালগাছ রক্ষায় কাজ শুরু করেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আব্দুর রাজ্জাক সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা। কৃষি অফিসারের নিবির পরিচর্যায় মৃতপ্রায় তালগাছ মারা যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে তালগাছের বাকল তুলে সেখানে কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছিল। সেই বিষক্রিয়ায় সড়কের  পাশে থাকা তালগাছ গুলো মরার উপক্রম দেখা দেয়। কৃষি অফিসের তত্ত¡বধানে বর্তমানে ওই সকল তালগাছে নতুন করে পাতা এসে আগের অবস্থায় ফিরে আসতে শুরু করেছে। পরিবেশ বান্ধব তালগাছ রক্ষা পাওয়ায় সেখানের পরিবেশটা  বর্তমানে  অনেক সুন্দর হয়েছে। রাস্তার দুই পাশে পরিবেশ বান্ধব এই তালগাছ একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করবে অন্যদিকে প্রাকৃতিক বর্জ্রপাতের হাত থেকে রক্ষা করবে লোকজনকে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশব্যাপি রাস্তার পাশে তালগাছ রোপনের  অভিযান পরিচালনা করে আসছেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই নিদের্শনা বাস্তবায়ন করতেই স্থানীয় লোকজন প্রায় ১০-১২ বছর আগে ওই রাস্তায় সারিবদ্ধ তালগাছ লাগিয়েছিলেন।

তালগাছে কীটনাশক  প্রয়োগের ঘটনায় স্থানীয় বেলাল হোসেন বলেন, প্রথমে তালগাছ গুলো মরতে লাগলেও এখন আর মরেনি। কৃষি অফিসার এসে বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে গাছগুলো বেঁচে গেছে। এখন তালগাছে আগের মতোই পাতা বের হচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুর রাজ্জাক এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, এক সাথে ৪৭টি তালগাছে কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছিল। ঘটনাটি মহামান্য আদালত আমলে নেয়। পরে সেই তালগাছগুলা রক্ষার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের সেই নির্দেশনা মোতাবেক প্রায় ১ মাস ওই সকল তালগাছে বিভিন্ন প্রকার কীটনাশক প্রতিরোধক ব্যবহার করি। বর্তমানে কৃষি অফিসের নিবিড় পরিচর্যায় মৃতপ্রায় তালগাছগুলো রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বাগমারায় কৃষি অফিসের পরিচর্যায় রক্ষা পেল  সেই অর্ধশত তালগাছ

প্রকাশিত সময় : ০৭:৫৫:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ মার্চ ২০২৩

রাজশাহীর  বাগমারায় আওয়ামী লীগ নেতা শাহারিয়া আলীর বিরুদ্ধে ভবানীগঞ্জ-হাট-গাঙ্গোপাড়া এলাকার বাইগাছায় প্রায় অর্ধশত তালগাছে কীটনাশক প্রয়োগ করে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল। শাহরিয়া আলী নিজের পুকুরপাড়ের আমগাছ রক্ষার জন্য রাস্তার পাশের তাল গাছে তরল জাতীয় বিষাক্ত কিছু স্প্রে করে। এরপর সেই তালগাছগুলো মরতে থাকে। ওই ঘটনায় বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ পায়। সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।

মহামান্য আদালত  স্বপ্রণোদিত হয়ে শাহরিয়া আলীকে আদালতে তলব করেন। সেই সাথে তালগাছগুলো রক্ষায় উপজেলা কৃষি অফিসারকে নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশনায় কীটনাশক প্রয়োগকৃত তালগাছ রক্ষায় কাজ শুরু করেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আব্দুর রাজ্জাক সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা। কৃষি অফিসারের নিবির পরিচর্যায় মৃতপ্রায় তালগাছ মারা যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে তালগাছের বাকল তুলে সেখানে কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছিল। সেই বিষক্রিয়ায় সড়কের  পাশে থাকা তালগাছ গুলো মরার উপক্রম দেখা দেয়। কৃষি অফিসের তত্ত¡বধানে বর্তমানে ওই সকল তালগাছে নতুন করে পাতা এসে আগের অবস্থায় ফিরে আসতে শুরু করেছে। পরিবেশ বান্ধব তালগাছ রক্ষা পাওয়ায় সেখানের পরিবেশটা  বর্তমানে  অনেক সুন্দর হয়েছে। রাস্তার দুই পাশে পরিবেশ বান্ধব এই তালগাছ একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করবে অন্যদিকে প্রাকৃতিক বর্জ্রপাতের হাত থেকে রক্ষা করবে লোকজনকে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশব্যাপি রাস্তার পাশে তালগাছ রোপনের  অভিযান পরিচালনা করে আসছেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই নিদের্শনা বাস্তবায়ন করতেই স্থানীয় লোকজন প্রায় ১০-১২ বছর আগে ওই রাস্তায় সারিবদ্ধ তালগাছ লাগিয়েছিলেন।

তালগাছে কীটনাশক  প্রয়োগের ঘটনায় স্থানীয় বেলাল হোসেন বলেন, প্রথমে তালগাছ গুলো মরতে লাগলেও এখন আর মরেনি। কৃষি অফিসার এসে বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে গাছগুলো বেঁচে গেছে। এখন তালগাছে আগের মতোই পাতা বের হচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুর রাজ্জাক এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, এক সাথে ৪৭টি তালগাছে কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছিল। ঘটনাটি মহামান্য আদালত আমলে নেয়। পরে সেই তালগাছগুলা রক্ষার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের সেই নির্দেশনা মোতাবেক প্রায় ১ মাস ওই সকল তালগাছে বিভিন্ন প্রকার কীটনাশক প্রতিরোধক ব্যবহার করি। বর্তমানে কৃষি অফিসের নিবিড় পরিচর্যায় মৃতপ্রায় তালগাছগুলো রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।