সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চৈত্র সংক্রান্তি আজ

একসময় বাংলা প্রতিটি ঋতুরই সংক্রান্তির দিন উৎসবের আমেজে পালন করতো বাঙালি। কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে সংক্রান্তি উৎসব। তবে আজও গ্রাম বাংলার কোথাও কোথাও বাঙালি আগলে রেখেছে চৈত্র সংক্রান্তির উৎসব। যেখানে গ্রামীণ জনপদের মানুষ দিনভর মেতে থাকে লোকজ রীতি-রেওয়াজ, তৈজসপত্র আর খৈ ছাঁচের মেলায়। নেচে গেয়ে উৎসবমুখর কাটে বছরের শেষ দিন। চৈত্র সংক্রান্তির দিনে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে শিবগৌরী পূজা আর লোকজ মেলা যেন এখনও এখনও সেই রীতির ধারক হয়ে রয়েছে। সকাল সকাল নাগরপুরের দুয়াযানি গ্রামের নারীশিশু বৃদ্ধরা জড়ো হয়েছেন, হরগৌরি মন্দিরের এই মাঠে। বাংলা বছরের শেষদিন বা চৈত্র সংক্রান্তি উদযাপনের রীতি সময়ের গহবরে হারিয়ে গেলেও এখনো তা সগৌরবে টিকে আছে এই অঞ্চলে। বাঁশের ভেতর দুধজল ভরে, মহাদেবের কাছে অর্পণ করতে বটতলায় ভিড় জমেছে। বিশ্বাস করেন এই দুধজলে শরীরমন শীতল থাকবে বছরজুড়ে। এমন একজন বললেন, ‘ঠাকুরকে দুধ জল দিয়ে সব ঠাণ্ডা থাকবে, আপনারাও দিন। সবার মঙ্গল হবে। ‘ এছাড়াও যুগ যুগ ধরে চাল, কলা, শস্য আর গৃহপালিত পশুপাখিও দান করে, মানতের রীতি চলে আসছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে। তাদের মধ্যে একজন জানালেন, ঠাকুরের জন্য দুধ দিয়েছেন, কলা দিয়েছেন, আতপ চালও দিয়েছেন। পুঁজো দিয়ে অসুখ বিসুখ মুক্ত থাকতে পারবেন বলে তাদের বিশ্বাস। চৈত্র সংক্রান্তির ঐতিহ্য আর শত শত বছর ধরে চলে আসা এই পূজোর বিষয়ে মন্দিরের গুরু জানান, এই রীতি হাজার বছরের। কয়েক প্রজন্ম ধরেই তারা এই রেওয়াজ ধরে রেখেছেন। শিব পূজোর পর মেলায় সপরিবারে আনন্দে মাতেন দুয়াযানির আবাল বৃদ্ধ বনিতা। স্বাদ নেন দৈ খৈ ছাঁচ আর লোকজ মিষ্টান্নের। কালের কলতানে উৎসবের জয়ধ্বনি পৌঁছে যায় গ্রামের আঙিনায়। ঢাক, ঢোল, কাঁসর, ঘণ্টার ধ্বনি। এ ভাবে নিস্তরঙ্গ গ্রামের বুকে নেমে আসে বছরের শেষ বিকেল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ বারের মতো হাল্ট প্রাইজ’র গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত

চৈত্র সংক্রান্তি আজ

প্রকাশিত সময় : ১১:১৫:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৩

একসময় বাংলা প্রতিটি ঋতুরই সংক্রান্তির দিন উৎসবের আমেজে পালন করতো বাঙালি। কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে সংক্রান্তি উৎসব। তবে আজও গ্রাম বাংলার কোথাও কোথাও বাঙালি আগলে রেখেছে চৈত্র সংক্রান্তির উৎসব। যেখানে গ্রামীণ জনপদের মানুষ দিনভর মেতে থাকে লোকজ রীতি-রেওয়াজ, তৈজসপত্র আর খৈ ছাঁচের মেলায়। নেচে গেয়ে উৎসবমুখর কাটে বছরের শেষ দিন। চৈত্র সংক্রান্তির দিনে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে শিবগৌরী পূজা আর লোকজ মেলা যেন এখনও এখনও সেই রীতির ধারক হয়ে রয়েছে। সকাল সকাল নাগরপুরের দুয়াযানি গ্রামের নারীশিশু বৃদ্ধরা জড়ো হয়েছেন, হরগৌরি মন্দিরের এই মাঠে। বাংলা বছরের শেষদিন বা চৈত্র সংক্রান্তি উদযাপনের রীতি সময়ের গহবরে হারিয়ে গেলেও এখনো তা সগৌরবে টিকে আছে এই অঞ্চলে। বাঁশের ভেতর দুধজল ভরে, মহাদেবের কাছে অর্পণ করতে বটতলায় ভিড় জমেছে। বিশ্বাস করেন এই দুধজলে শরীরমন শীতল থাকবে বছরজুড়ে। এমন একজন বললেন, ‘ঠাকুরকে দুধ জল দিয়ে সব ঠাণ্ডা থাকবে, আপনারাও দিন। সবার মঙ্গল হবে। ‘ এছাড়াও যুগ যুগ ধরে চাল, কলা, শস্য আর গৃহপালিত পশুপাখিও দান করে, মানতের রীতি চলে আসছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে। তাদের মধ্যে একজন জানালেন, ঠাকুরের জন্য দুধ দিয়েছেন, কলা দিয়েছেন, আতপ চালও দিয়েছেন। পুঁজো দিয়ে অসুখ বিসুখ মুক্ত থাকতে পারবেন বলে তাদের বিশ্বাস। চৈত্র সংক্রান্তির ঐতিহ্য আর শত শত বছর ধরে চলে আসা এই পূজোর বিষয়ে মন্দিরের গুরু জানান, এই রীতি হাজার বছরের। কয়েক প্রজন্ম ধরেই তারা এই রেওয়াজ ধরে রেখেছেন। শিব পূজোর পর মেলায় সপরিবারে আনন্দে মাতেন দুয়াযানির আবাল বৃদ্ধ বনিতা। স্বাদ নেন দৈ খৈ ছাঁচ আর লোকজ মিষ্টান্নের। কালের কলতানে উৎসবের জয়ধ্বনি পৌঁছে যায় গ্রামের আঙিনায়। ঢাক, ঢোল, কাঁসর, ঘণ্টার ধ্বনি। এ ভাবে নিস্তরঙ্গ গ্রামের বুকে নেমে আসে বছরের শেষ বিকেল।