বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্নভঙ্গ মেহেরুননেসার

দেশের গুচ্ছভুক্ত ২২ টি সাধারণ ও বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা  শনিবার (২০ মে ) অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুপুর ১২ টা থেকে ১ টা পর্যন্ত দেশের ১৯ টি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কেন্দ্রে মানবিক বিভাগের (বি ইউনিট) এই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে মেহেরুন নেসা নামক একজন পরীক্ষার্থী ২০ মিনিট দেরি করে আসলে তাকে প্রশ্নপত্র দিয়ে আবার ওই শিক্ষার্থী থেকে প্রশ্নপত্র ও খাতা নিয়ে নেয় পরীক্ষার কক্ষের দায়িত্বরত এক শিক্ষক। এতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন ওই শিক্ষার্থী।

ভর্তি পরীক্ষা দিতে না পারা মেহেরুন নেসা বলেন, আমি ২০ মিনিট দেরি করে পরীক্ষা দিতে আসি, পরে স্কাউটের এক আপু আমাকে রফিক ভবনের তৃতীয় তলায় নিয়ে যায়। পরে আমাকে একজন স্যার বলেন, ওএমআর শিট নাই, পরীক্ষা দেওয়া যাবে না। পরে স্যার বলেন চেয়ারম্যানের অনুমতি নিতে হবে। চেয়ারম্যানের অনুমতি নিতে নিতে ৪০ মিনিট দেরি হয়ে যায়। পরে ওই স্যার আর আমাকে পরীক্ষা দিতে দেয়নি

তিনি আরও বলেন, আমাকে যখন পরীক্ষা দিতে দিবে না কেন আমাকে একজন শিক্ষকের কাছে এমন হেনেস্তার শিকার হতে হলো? 

এদিকে সাংবাদিকদের সাথে ব্রিফিং করা সময়েও প্রায় ১২ টা ২৫ মিনিটর পর দেখা গিয়েছিল দেড়িতে আসার ফলেও ২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার হলে যাচ্ছেন। তাহলে এই শিক্ষার্থী ক্ষেত্রে কেন এমন হলো সবার একই প্রশ্ন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.মো.ইমদাদুল হক বলেন, পরীক্ষায় দেরি করে দিতে আসা শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে পারবেন নাকি পারবেন না সম্পূর্ণ দায়িত্ব হলে দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের হাতে। যদিও আমরা শিক্ষার্থীদের মানবিক দিক বিবেচনা করে ১৫-২০ মিনিট দেরি করে আসলেও পরীক্ষায় বসার অনুমতি দিয়েছি। তাছাড়া আজকে উপকেন্দ্র নটরডেম কলেজের একজন পরীক্ষার্থী ভুল করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চলে আসলে তারও পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। আমাকে যদি আগে বিষয়টি জানানো হতো তাহলে কোনো কিছু করা যেতো। যেহেতু আমাকে পরে জানানো হয়েছে সেহেতু এখন আর দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া কিছু করার নাই। 

শিক্ষকের হেনেস্তার বিষয়ে জানতে চাইলে জবি উপাচার্য বলেন, আমাকে যদি লিখিত অভিযোগ দিয়ে যায় অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক রইছ উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীর উচিত ছিল আমাদের কাছে রিপোর্ট করা। যেহেতু পরীক্ষা শেষ হয়ে গেছে এখন আর কিছু করার নেই। আপনাদের দায়িত্ব অবহেলার দেখছেন কি না এ প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাদের দায়িত্বের কোনো অবহেলা ছিল না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্নভঙ্গ মেহেরুননেসার

প্রকাশিত সময় : ১০:২৩:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ মে ২০২৩

দেশের গুচ্ছভুক্ত ২২ টি সাধারণ ও বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা  শনিবার (২০ মে ) অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুপুর ১২ টা থেকে ১ টা পর্যন্ত দেশের ১৯ টি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কেন্দ্রে মানবিক বিভাগের (বি ইউনিট) এই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে মেহেরুন নেসা নামক একজন পরীক্ষার্থী ২০ মিনিট দেরি করে আসলে তাকে প্রশ্নপত্র দিয়ে আবার ওই শিক্ষার্থী থেকে প্রশ্নপত্র ও খাতা নিয়ে নেয় পরীক্ষার কক্ষের দায়িত্বরত এক শিক্ষক। এতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন ওই শিক্ষার্থী।

ভর্তি পরীক্ষা দিতে না পারা মেহেরুন নেসা বলেন, আমি ২০ মিনিট দেরি করে পরীক্ষা দিতে আসি, পরে স্কাউটের এক আপু আমাকে রফিক ভবনের তৃতীয় তলায় নিয়ে যায়। পরে আমাকে একজন স্যার বলেন, ওএমআর শিট নাই, পরীক্ষা দেওয়া যাবে না। পরে স্যার বলেন চেয়ারম্যানের অনুমতি নিতে হবে। চেয়ারম্যানের অনুমতি নিতে নিতে ৪০ মিনিট দেরি হয়ে যায়। পরে ওই স্যার আর আমাকে পরীক্ষা দিতে দেয়নি

তিনি আরও বলেন, আমাকে যখন পরীক্ষা দিতে দিবে না কেন আমাকে একজন শিক্ষকের কাছে এমন হেনেস্তার শিকার হতে হলো? 

এদিকে সাংবাদিকদের সাথে ব্রিফিং করা সময়েও প্রায় ১২ টা ২৫ মিনিটর পর দেখা গিয়েছিল দেড়িতে আসার ফলেও ২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার হলে যাচ্ছেন। তাহলে এই শিক্ষার্থী ক্ষেত্রে কেন এমন হলো সবার একই প্রশ্ন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.মো.ইমদাদুল হক বলেন, পরীক্ষায় দেরি করে দিতে আসা শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে পারবেন নাকি পারবেন না সম্পূর্ণ দায়িত্ব হলে দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের হাতে। যদিও আমরা শিক্ষার্থীদের মানবিক দিক বিবেচনা করে ১৫-২০ মিনিট দেরি করে আসলেও পরীক্ষায় বসার অনুমতি দিয়েছি। তাছাড়া আজকে উপকেন্দ্র নটরডেম কলেজের একজন পরীক্ষার্থী ভুল করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চলে আসলে তারও পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। আমাকে যদি আগে বিষয়টি জানানো হতো তাহলে কোনো কিছু করা যেতো। যেহেতু আমাকে পরে জানানো হয়েছে সেহেতু এখন আর দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া কিছু করার নাই। 

শিক্ষকের হেনেস্তার বিষয়ে জানতে চাইলে জবি উপাচার্য বলেন, আমাকে যদি লিখিত অভিযোগ দিয়ে যায় অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক রইছ উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীর উচিত ছিল আমাদের কাছে রিপোর্ট করা। যেহেতু পরীক্ষা শেষ হয়ে গেছে এখন আর কিছু করার নেই। আপনাদের দায়িত্ব অবহেলার দেখছেন কি না এ প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাদের দায়িত্বের কোনো অবহেলা ছিল না।