বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অভিনয়ে মঞ্চায়িত যাত্রাপালা ‘অনুরাধা’

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুল-জন্মজয়ন্তী  উদযাপন অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের অভিনয়ে  মঞ্চায়িত  হয়েছে যাত্রাপালা ‘অনুরাধা’। 

গত বৃহস্পতিবার (২৫ মে) রাতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দুই দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানের শেষ আকর্ষণ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাহি সাম্যের গান মুক্ত মঞ্চে যাত্রাপালাটি মঞ্চস্থ হয়। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, তিন হল প্রভোস্ট ও বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানসহ ১৫ জন শিক্ষকের অভিনয়ে মঞ্চায়িত এই যাত্রাপালার সম্পাদনা ও নির্দেশনায় ছিলেন নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হীরক মুশফিক। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখরের তত্ত্বাবধানে যাত্রাপালাটির নাম ভূমিকায় অভিনয় করা সঙ্গীত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তন্বী সাহা ছাড়াও শিক্ষকদের মধ্যে অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেন ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান, ড. সোহেল রানা, ড. জাহিদুল কবীর, ড. তুহিন অবন্ত, মাসুম হাওলাদার, রায়হানা আক্তার, কল্যানাংশু নাহা, মাহমুদুল হক, আসিফ ইকবাল আরিফ, তানিয়া তন্বী, মাশকুরা রহমান রিদম ও রাগীব রহমান। 

বিদ্যাপতি চরিত্রে অভিনয় করা ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং অভিনেতা মনোজ কুমার প্রামাণিক সহ যাত্রাপালাটিতে যুক্ত ছিলেন বিভিন্ন বিভাগের ২৫ জন শিক্ষার্থী।

যাত্রাপালাটির নির্দেশক  হীরক মুশফিক বলেন, নজরুলের নাটক বিদ্যাপতিতে পঞ্চদশ শতকের মিথিলার কবি বিদ্যাপতির সাথে মিথিলা রাজ্যের রাজা শিবসিংহের বন্ধুত্ব ও প্রধানত একটি ত্রৈমাত্রিক প্রেমের বাস্তবতা ফুটে উঠেছে। যার অন্তীমে ধৈর্য, ত্যাগ ও সৃষ্টিকর্তার সাথে সৃষ্টির প্রেমময় মাহাত্ম্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

সহকারী অধ্যাপক হীরক মুশফিক আরো বলেন, বর্তমানে সুষ্ঠু সাংস্কৃতিক চর্চার যে টানাপোড়েন চলছে সেরকম একটি সময়ে এই উদ্যোগ নেয়ার পেছনে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক কারণ রয়েছে। বলা যেতে পারে প্রজন্মের সাথে শেকড়ের মেলবন্ধন ঘটাবার দায়মুক্তির ক্ষেত্রে ছোট্ট একটি প্রয়াস এটি। 

যাত্রাপালা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, নজরুল জন্মজয়ন্তীর আয়োজনে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে শিক্ষকদের অভিনীত যাত্রাপালা ‘অনুরাধা’।বিলুপ্তপ্রায় এই শিল্পমাধ্যমকে যেভাবে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা সত্যি অসাধারণ। বৈরী আবহাওয়ার মাঝেও শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা যাত্রাপালা উপভোগ করেছেন।যার আগামীতেও এরকম আয়োজন থাকবে বলে তিনি আশা করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অভিনয়ে মঞ্চায়িত যাত্রাপালা ‘অনুরাধা’

প্রকাশিত সময় : ১২:৪৯:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ মে ২০২৩

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুল-জন্মজয়ন্তী  উদযাপন অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের অভিনয়ে  মঞ্চায়িত  হয়েছে যাত্রাপালা ‘অনুরাধা’। 

গত বৃহস্পতিবার (২৫ মে) রাতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দুই দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানের শেষ আকর্ষণ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাহি সাম্যের গান মুক্ত মঞ্চে যাত্রাপালাটি মঞ্চস্থ হয়। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, তিন হল প্রভোস্ট ও বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানসহ ১৫ জন শিক্ষকের অভিনয়ে মঞ্চায়িত এই যাত্রাপালার সম্পাদনা ও নির্দেশনায় ছিলেন নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হীরক মুশফিক। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখরের তত্ত্বাবধানে যাত্রাপালাটির নাম ভূমিকায় অভিনয় করা সঙ্গীত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তন্বী সাহা ছাড়াও শিক্ষকদের মধ্যে অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেন ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান, ড. সোহেল রানা, ড. জাহিদুল কবীর, ড. তুহিন অবন্ত, মাসুম হাওলাদার, রায়হানা আক্তার, কল্যানাংশু নাহা, মাহমুদুল হক, আসিফ ইকবাল আরিফ, তানিয়া তন্বী, মাশকুরা রহমান রিদম ও রাগীব রহমান। 

বিদ্যাপতি চরিত্রে অভিনয় করা ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং অভিনেতা মনোজ কুমার প্রামাণিক সহ যাত্রাপালাটিতে যুক্ত ছিলেন বিভিন্ন বিভাগের ২৫ জন শিক্ষার্থী।

যাত্রাপালাটির নির্দেশক  হীরক মুশফিক বলেন, নজরুলের নাটক বিদ্যাপতিতে পঞ্চদশ শতকের মিথিলার কবি বিদ্যাপতির সাথে মিথিলা রাজ্যের রাজা শিবসিংহের বন্ধুত্ব ও প্রধানত একটি ত্রৈমাত্রিক প্রেমের বাস্তবতা ফুটে উঠেছে। যার অন্তীমে ধৈর্য, ত্যাগ ও সৃষ্টিকর্তার সাথে সৃষ্টির প্রেমময় মাহাত্ম্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

সহকারী অধ্যাপক হীরক মুশফিক আরো বলেন, বর্তমানে সুষ্ঠু সাংস্কৃতিক চর্চার যে টানাপোড়েন চলছে সেরকম একটি সময়ে এই উদ্যোগ নেয়ার পেছনে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক কারণ রয়েছে। বলা যেতে পারে প্রজন্মের সাথে শেকড়ের মেলবন্ধন ঘটাবার দায়মুক্তির ক্ষেত্রে ছোট্ট একটি প্রয়াস এটি। 

যাত্রাপালা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, নজরুল জন্মজয়ন্তীর আয়োজনে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে শিক্ষকদের অভিনীত যাত্রাপালা ‘অনুরাধা’।বিলুপ্তপ্রায় এই শিল্পমাধ্যমকে যেভাবে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা সত্যি অসাধারণ। বৈরী আবহাওয়ার মাঝেও শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা যাত্রাপালা উপভোগ করেছেন।যার আগামীতেও এরকম আয়োজন থাকবে বলে তিনি আশা করেন।