শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে ছুরিকাঘাতে কাউন্সিলর প্রার্থী আহত

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় এক কাউন্সিলর প্রার্থীসহ তিন জন ছুরিকাহত হয়েছেন। পরে খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। শনিবার (৩ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের শিরোইল কলোনী এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ছুরিকাহাত তিনজন হলেন- কাউন্সিলর প্রার্থী ও মহানগর যুবলীগের সহ-সভাপতি আশরাফ বাবু (৪৭), তাঁর সমর্থক রেজাউল করিম রেজা (৪২) ও জয় হোসেন (৩২)। তাদের সবাইকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত আশরাফ বাবুর গ্রুপের সঙ্গে বর্তমান কাউন্সিলর ও আসন্ন নির্বাচনের প্রার্থী তৌহিদুল হক সুমনের সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। তৌহিদুল হক সুমন মহানগর যুবলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক । আহত আশরাফ বাবু জানান, তার নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে তৌহিদুল হক সুমনের কয়েকজন সমর্থক ধারালো অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেয়। প্রতিবাদ করতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে সুমনের সমর্থকরা তার ওপর ছুরি নিয়ে হামলা করে। এতে তার হাত জখম হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার পরে দুই গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আশরাফ বাবু এবং বর্তমান কাউন্সিলর সুমনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে সেই বিরোধ আরও চরম আকার ধারণ করেছে। বছর ছয়েক আগে এক যুবককে যৌন নিপিড়নের ঘটনায় সুমনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন আশরাফ বাবু। এছাড়াও রেলের টেন্ডার ভাগাভাগি নিয়ে উভয়ের মধ্যে বিরোধ চলছে। যৌন নিপিড়নের অভিযোগেই সুমনকে মহানগর যুবলীগ থেকে বহিষ্কারর করা হয়েছিল। জানতে চাইলে কাউন্সিলর প্রার্থী তৌহিদুল হক সুমন বলেন, আমার কোনো লোকজন আশরাফ বাবুকে মারধর করেনি। তার লোকজনই আমার কয়েকজন সমর্থককে পিটিয়েছে। বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে। এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ শুরু করেছে। চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। একজন প্রার্থীর হাতে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। তবে এখন পরিস্থিতি শান্ত। থানায় অভিযোগ আসলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাজশাহীতে ছুরিকাঘাতে কাউন্সিলর প্রার্থী আহত

প্রকাশিত সময় : ০৮:৩৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জুন ২০২৩

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় এক কাউন্সিলর প্রার্থীসহ তিন জন ছুরিকাহত হয়েছেন। পরে খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। শনিবার (৩ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের শিরোইল কলোনী এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ছুরিকাহাত তিনজন হলেন- কাউন্সিলর প্রার্থী ও মহানগর যুবলীগের সহ-সভাপতি আশরাফ বাবু (৪৭), তাঁর সমর্থক রেজাউল করিম রেজা (৪২) ও জয় হোসেন (৩২)। তাদের সবাইকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত আশরাফ বাবুর গ্রুপের সঙ্গে বর্তমান কাউন্সিলর ও আসন্ন নির্বাচনের প্রার্থী তৌহিদুল হক সুমনের সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। তৌহিদুল হক সুমন মহানগর যুবলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক । আহত আশরাফ বাবু জানান, তার নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে তৌহিদুল হক সুমনের কয়েকজন সমর্থক ধারালো অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেয়। প্রতিবাদ করতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে সুমনের সমর্থকরা তার ওপর ছুরি নিয়ে হামলা করে। এতে তার হাত জখম হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার পরে দুই গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আশরাফ বাবু এবং বর্তমান কাউন্সিলর সুমনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে সেই বিরোধ আরও চরম আকার ধারণ করেছে। বছর ছয়েক আগে এক যুবককে যৌন নিপিড়নের ঘটনায় সুমনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন আশরাফ বাবু। এছাড়াও রেলের টেন্ডার ভাগাভাগি নিয়ে উভয়ের মধ্যে বিরোধ চলছে। যৌন নিপিড়নের অভিযোগেই সুমনকে মহানগর যুবলীগ থেকে বহিষ্কারর করা হয়েছিল। জানতে চাইলে কাউন্সিলর প্রার্থী তৌহিদুল হক সুমন বলেন, আমার কোনো লোকজন আশরাফ বাবুকে মারধর করেনি। তার লোকজনই আমার কয়েকজন সমর্থককে পিটিয়েছে। বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে। এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ শুরু করেছে। চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। একজন প্রার্থীর হাতে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। তবে এখন পরিস্থিতি শান্ত। থানায় অভিযোগ আসলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’