রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব বাবা দিবস আজ

বাবা―ছোট একটি শব্দ, কিন্তু এর মাঝেই জড়িয়ে আছে ভালোবাসা, মায়া, নির্ভরতা। আর তাই প্রত্যেক বাবাকে শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিবছর জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বিশ্বব্যাপী পালন করা হয় ‘বিশ্ব বাবা দিবস’।

জানা যায়, মোঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট বাবর সন্তানের প্রতি বাবার ভালোবাসার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে আছেন। এ জন্যই ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় গোলাম মোস্তফা তুলে ধরেছেন সন্তানের প্রতি বাবার ভালোবাসার চিত্র। যেখানে সন্তানের রোগমুক্তির আশায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেন একজন বাবা। এমন স্বার্থহীন ভালোবাসা বোধহয় বাবারাই বাসতে পারে।

বাবা দিবসের শুরু

বিংশ শতাব্দীর প্রথমদিকে বাবা দিবস পালন শুরু হয়। মায়েদের পাশাপাশি বাবারাও তাদের সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল- এটা বোঝানোর জন্যই দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে।

১৯০৮ সালের ৫ জুলাই, আমেরিকার পশ্চিম ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্টের এক গির্জায় দিনটি প্রথম পালিত হয়। আবার সনোরা স্মার্ট ডড নামের ওয়াশিংটনের এক নারীর মাথাতেও পিতৃ দিবসের আইডিয়া আসে। যদিও তিনি ১৯০৯ সালে ভার্জিনিয়ার বাবা দিবসের কথা একেবারেই জানতেন না। ডড এই আইডিয়াটা পান গির্জার এক পুরোহিতের বক্তব্য থেকে, সেই পুরোহিত আবার মাকে নিয়ে অনেক ভালো ভালো কথা বলছিলেন। তার মনে হয়, তাহলে বাবাদের নিয়েও তো কিছু করা দরকার। ডড আবার তার বাবাকে খুব ভালোবাসতেন। তিনি নিজ উদ্যোগেই পরের বছর অর্থাৎ ১৯ জুন, ১৯১০ সালের থেকে বাবা দিবস পালন করা শুরু করেন।

তবে মা দিবস নিয়ে মানুষ যতটা উৎসাহ দেখাত তার একবারেই উল্টো ঘটনা ঘটে বাবা দিবস নিয়ে। বাবা দিবসে মোটেও মানুষের আগ্রহ ছিল না বরং এ বিষয়টি তাদের কাছে হাস্যকর ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়।

১৯১৩ সালে আমেরিকান সংসদে বাবা দিবসকে ছুটির দিন ঘোষণা করার জন্য একটা বিল উত্থাপন করা হয়। ১৯২৪ সালে তৎকালীন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ বিলটিতে পূর্ণ সমর্থন দেন। অবশেষে ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসন বাবা দিবসকে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বাবা দিবস হিসেবে পালিত হয়।

বাবা দিবস বিভিন্ন দেশে বিভিন্নভাবে পালিত হয়। এ দিন ছেলেমেয়েরা তাদের বাবাকে উপহার দিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করে। আর বাবারাও ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে গিফট পেয়ে অভিভূত হন। এ গিফট দেওয়ার ক্ষেত্রেও দেশভেদে দেখা যায় ভিন্নতা। কোনো কোনো দেশে ছেলেমেয়েরা বাবাকে কার্ড বা ফুলের তোড়া উপহার দিয়ে বাবা দিবসের শুভেচ্ছা জানায়। অনেকে আবার বাবা দিবস উপলক্ষে কেক কাটার আয়োজনও করে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বিশ্ব বাবা দিবস আজ

প্রকাশিত সময় : ০৮:৪৫:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জুন ২০২৩

বাবা―ছোট একটি শব্দ, কিন্তু এর মাঝেই জড়িয়ে আছে ভালোবাসা, মায়া, নির্ভরতা। আর তাই প্রত্যেক বাবাকে শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিবছর জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বিশ্বব্যাপী পালন করা হয় ‘বিশ্ব বাবা দিবস’।

জানা যায়, মোঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট বাবর সন্তানের প্রতি বাবার ভালোবাসার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে আছেন। এ জন্যই ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় গোলাম মোস্তফা তুলে ধরেছেন সন্তানের প্রতি বাবার ভালোবাসার চিত্র। যেখানে সন্তানের রোগমুক্তির আশায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেন একজন বাবা। এমন স্বার্থহীন ভালোবাসা বোধহয় বাবারাই বাসতে পারে।

বাবা দিবসের শুরু

বিংশ শতাব্দীর প্রথমদিকে বাবা দিবস পালন শুরু হয়। মায়েদের পাশাপাশি বাবারাও তাদের সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল- এটা বোঝানোর জন্যই দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে।

১৯০৮ সালের ৫ জুলাই, আমেরিকার পশ্চিম ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্টের এক গির্জায় দিনটি প্রথম পালিত হয়। আবার সনোরা স্মার্ট ডড নামের ওয়াশিংটনের এক নারীর মাথাতেও পিতৃ দিবসের আইডিয়া আসে। যদিও তিনি ১৯০৯ সালে ভার্জিনিয়ার বাবা দিবসের কথা একেবারেই জানতেন না। ডড এই আইডিয়াটা পান গির্জার এক পুরোহিতের বক্তব্য থেকে, সেই পুরোহিত আবার মাকে নিয়ে অনেক ভালো ভালো কথা বলছিলেন। তার মনে হয়, তাহলে বাবাদের নিয়েও তো কিছু করা দরকার। ডড আবার তার বাবাকে খুব ভালোবাসতেন। তিনি নিজ উদ্যোগেই পরের বছর অর্থাৎ ১৯ জুন, ১৯১০ সালের থেকে বাবা দিবস পালন করা শুরু করেন।

তবে মা দিবস নিয়ে মানুষ যতটা উৎসাহ দেখাত তার একবারেই উল্টো ঘটনা ঘটে বাবা দিবস নিয়ে। বাবা দিবসে মোটেও মানুষের আগ্রহ ছিল না বরং এ বিষয়টি তাদের কাছে হাস্যকর ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়।

১৯১৩ সালে আমেরিকান সংসদে বাবা দিবসকে ছুটির দিন ঘোষণা করার জন্য একটা বিল উত্থাপন করা হয়। ১৯২৪ সালে তৎকালীন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ বিলটিতে পূর্ণ সমর্থন দেন। অবশেষে ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসন বাবা দিবসকে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বাবা দিবস হিসেবে পালিত হয়।

বাবা দিবস বিভিন্ন দেশে বিভিন্নভাবে পালিত হয়। এ দিন ছেলেমেয়েরা তাদের বাবাকে উপহার দিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করে। আর বাবারাও ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে গিফট পেয়ে অভিভূত হন। এ গিফট দেওয়ার ক্ষেত্রেও দেশভেদে দেখা যায় ভিন্নতা। কোনো কোনো দেশে ছেলেমেয়েরা বাবাকে কার্ড বা ফুলের তোড়া উপহার দিয়ে বাবা দিবসের শুভেচ্ছা জানায়। অনেকে আবার বাবা দিবস উপলক্ষে কেক কাটার আয়োজনও করে।