বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জবি শিক্ষার্থী খাদিজার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদ সমাবেশ

সরকারবিরোধী লাইভ অনুষ্ঠান করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা প্রচারের অভিযোগে ২০২২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরাসহ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া সবাইকে ঈদের আগেই মুক্তি দেয়া এবং এই আইন বাতিলের দাবিতে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

“প্রতিবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহ”-এর ব্যানারে শনিবার (২৪ জুন) বিকাল সাড়ে ৫টায় বাহাদুর শাহ পার্কের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে যোগ দেয় গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতিসহ সমমনা অন্যান্য সংগঠনগুলোও।

সমাজ চিন্তা ফোরাম-এর কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক কামাল হোসেন বাদল-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শামীম ইমাম, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি দীপক শীল, প্রগতি লেখক সংঘ- এর সহ-সভাপতি জাকির হোসেন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সহ-সভাপতি জাকির হোসেন, গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি আনোয়ারুল হক, ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ পার্ক রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আকতারুজ্জামান। সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন উদীচী গেন্ডারিয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক ওমকার নাথ ঝলক।

প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে বক্তারা বলেন, সংবিধানের মৌল চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে দেশের জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা তথা বাকস্বাধীনতাকে খর্ব করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, গণমাধ্যম, শিক্ষক, ছাত্র, শিল্পীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে হয়রানি এবং বিরোধীমত দমনের এ আইনকে অন্যতম হাতিয়ার বানানো হয়েছে।

একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রে এ ধরনের নিবর্তনমূলক আইন কখনোই বলবৎ থাকতে পারে না। অগণতান্ত্রিক, নিবর্তনমূলক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ব্যবহার করে সরকার একের পর এক সংবাদকর্মী ও সমাজের নানাস্তরের মুক্তচিন্তার মানুষকে গ্রেফতার, ভয় ভীতি দেখানোর মাধ্যমে সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ এবং জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করে চলেছে।

এ সময় বক্তারা আরো বলেন,  অগণতান্ত্রিক আইনকানুন এবং দমন-পীড়ন স্বাধীনতার ঘোষণা তথা সাম্য, সামাজিক ন্যায় বিচার ও মানবিক মর্যাদার পরিপন্থী। তাই অবিলম্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সকল নিবর্তনমূলক আইন বাতিল করার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে সোচ্চার হওয়ার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয় সমাবেশ থেকে।
এছাড়া বাহাদুর শাহ পার্কসহ রাজধানীর সব ঐতিহাসিক স্থাপনা, পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান যথাযথ সংরক্ষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণের দাবিও জানানো হয় সমাবেশ থেকে। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জবি শিক্ষার্থী খাদিজার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদ সমাবেশ

প্রকাশিত সময় : ১১:২২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জুন ২০২৩

সরকারবিরোধী লাইভ অনুষ্ঠান করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা প্রচারের অভিযোগে ২০২২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরাসহ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া সবাইকে ঈদের আগেই মুক্তি দেয়া এবং এই আইন বাতিলের দাবিতে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

“প্রতিবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহ”-এর ব্যানারে শনিবার (২৪ জুন) বিকাল সাড়ে ৫টায় বাহাদুর শাহ পার্কের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে যোগ দেয় গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতিসহ সমমনা অন্যান্য সংগঠনগুলোও।

সমাজ চিন্তা ফোরাম-এর কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক কামাল হোসেন বাদল-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শামীম ইমাম, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি দীপক শীল, প্রগতি লেখক সংঘ- এর সহ-সভাপতি জাকির হোসেন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সহ-সভাপতি জাকির হোসেন, গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি আনোয়ারুল হক, ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ পার্ক রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আকতারুজ্জামান। সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন উদীচী গেন্ডারিয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক ওমকার নাথ ঝলক।

প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে বক্তারা বলেন, সংবিধানের মৌল চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে দেশের জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা তথা বাকস্বাধীনতাকে খর্ব করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, গণমাধ্যম, শিক্ষক, ছাত্র, শিল্পীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে হয়রানি এবং বিরোধীমত দমনের এ আইনকে অন্যতম হাতিয়ার বানানো হয়েছে।

একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রে এ ধরনের নিবর্তনমূলক আইন কখনোই বলবৎ থাকতে পারে না। অগণতান্ত্রিক, নিবর্তনমূলক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ব্যবহার করে সরকার একের পর এক সংবাদকর্মী ও সমাজের নানাস্তরের মুক্তচিন্তার মানুষকে গ্রেফতার, ভয় ভীতি দেখানোর মাধ্যমে সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ এবং জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করে চলেছে।

এ সময় বক্তারা আরো বলেন,  অগণতান্ত্রিক আইনকানুন এবং দমন-পীড়ন স্বাধীনতার ঘোষণা তথা সাম্য, সামাজিক ন্যায় বিচার ও মানবিক মর্যাদার পরিপন্থী। তাই অবিলম্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সকল নিবর্তনমূলক আইন বাতিল করার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে সোচ্চার হওয়ার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয় সমাবেশ থেকে।
এছাড়া বাহাদুর শাহ পার্কসহ রাজধানীর সব ঐতিহাসিক স্থাপনা, পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান যথাযথ সংরক্ষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণের দাবিও জানানো হয় সমাবেশ থেকে।