শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে জমজমাট পশুর হাট

রাজশাহীতে এখন জমজমাট পশুর হাট। তবে এখনও দাম কমছে না কোরবানির পশুর। তাই মানুষের ভিড়ে পশুর হাট জমে ওঠলেও কেনাবেচা হচ্ছে কম। মানুষ দর-দাম করেই হাট মাতিয়ে তুলেছেন। রবিবার রাজশাহীর পশুর হাটে মানুষের স্রোত নামে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ সিটি হাটে এদিন তিল ধারণের ঠাঁই ছিলো না। শুধু সিটি হাট নয়, জেলায় সব হাটেই পর্যাপ্ত গরু-ছাগলে ভরে উঠে রবিবারভ আগামী ২৯ জুন ত্যাগের মহিমায় ঈদ উদযাপিত হবে। মঙ্গলবার থেকেই শুরু হয়ে যাবে ঈদের ছুটি। সময় খুবই কম। তাই কোরবানির জন্য পছন্দের পশুটি কিনতে এখন বেশিরভাগ মানুষই হাটে ছুটছেন। তবে যাদের কোরবানির পশু রাখার জায়গা নেই তারা এখনও রয়েছেন চাঁদরাতের অপেক্ষায়। হাটে একদিকে যেমন দর-দাম চলছে অন্যদিকে তেমন পশু কেনাবেচাও চলছে। তবে বাজারে মাংসের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় কোরবানির পশুর দামও প্রায় দ্বিগুণ। খামারি ও ব্যবসায়ীরা মাংসের দামের কেজি হিসেবে পশুর দাম নির্ধারণ করছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি দাম হাঁকছেন। আর দাম বেশি হওয়ায় কম বাজেটে কোরবানির পশু কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষ হিমশিম খাচ্ছেন। অনেকেই সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় ঘটাতে ব্যর্থ হয়ে খালি হাতেই ফিরছেন বাড়ি।
তবে যাদের সামর্থ্য রয়েছে- আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় তারা বেশি দাম দিয়েই কোরবানির জন্য হাটের সেরা পশুটিই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। রোববার দুপুরের পর তাই মানুষের ভিড় বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দুপুর ২টার পরে এ হাট কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, এবার একটুও দাম কমাচ্ছেন না বিক্রেতারা।
দাম নিয়ে কথা বলতে গেলে গরু নিয়ে হাটে আসা পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বরের ব্যবসায়ী হক বলেন, তার কাছে ৩ মণ ওজনের গরু আছে দাম ১ লাখ টাকা, ৪ মণ ওজনের গরুর দাম দাম ১ লাখ ২০ থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। আর ৫ মণ ওজনের গরু দেড় লাখ টাকা দাম চাইছেন। এছাড়া বড় গরুর দাম দুই লাখ টাকা থেকে শুরু।কোরবানির পশু কিনতে আসা রাজশাহী মহানগরীর সপুরা এলাকার সাইফুল ইসলাম বলেন, তীব্র গরম উপেক্ষা করে ভর দুপুরেই হাটে এসেছেন। হাটে প্রচুর মানুষের সমাগম। কিন্তু দাম বেশি। তাই হাটের ভিড় ঠেলে ঘুরে ঘুরে গরু দেখছেন। আজ অন্যান্য দিনের তুলনায় পশুর সরবরাহ বেশি। দর-দাম করে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছেন। ব্যাপারী জানিয়েছেন ওজন ৪ মণের একটু বেশি হবে। তবে ওজন দেখে তো আর কোরবানির গরু কেনা হয় না। পছন্দ হয়েছে তাই কিনেছি।রাজশাহী সিটি হাটের ইজারাদার বলেন, এবার নানা কারণেই কোরবানির পশুর দাম বেশি। সীমান্তও বন্ধ। হাটে ভারতীয় গরু নেই। তাদের হাটে দেশি জাতের গরুতেই ভরপুর। আর হাটে দেশি গরুই বেশি বিক্রি হচ্ছে। ঈদ ঘনিয়ে আসায় শেষ সময়ে হাটে ক্রেতার সংখ্যাও বেশি। আজ থেকে আগামী কয়েক দিন রোজই হাট বসবে। চাঁদরাত পর্যন্ত গরু কেনাবেচা চলবে। এবার শেষ মুহূর্তেও দাম কমবে না বলে মনে করেন সর্ববৃহৎ এ হাটের ইজারাদার।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাজশাহীতে জমজমাট পশুর হাট

প্রকাশিত সময় : ০৯:৪৮:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জুন ২০২৩

রাজশাহীতে এখন জমজমাট পশুর হাট। তবে এখনও দাম কমছে না কোরবানির পশুর। তাই মানুষের ভিড়ে পশুর হাট জমে ওঠলেও কেনাবেচা হচ্ছে কম। মানুষ দর-দাম করেই হাট মাতিয়ে তুলেছেন। রবিবার রাজশাহীর পশুর হাটে মানুষের স্রোত নামে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ সিটি হাটে এদিন তিল ধারণের ঠাঁই ছিলো না। শুধু সিটি হাট নয়, জেলায় সব হাটেই পর্যাপ্ত গরু-ছাগলে ভরে উঠে রবিবারভ আগামী ২৯ জুন ত্যাগের মহিমায় ঈদ উদযাপিত হবে। মঙ্গলবার থেকেই শুরু হয়ে যাবে ঈদের ছুটি। সময় খুবই কম। তাই কোরবানির জন্য পছন্দের পশুটি কিনতে এখন বেশিরভাগ মানুষই হাটে ছুটছেন। তবে যাদের কোরবানির পশু রাখার জায়গা নেই তারা এখনও রয়েছেন চাঁদরাতের অপেক্ষায়। হাটে একদিকে যেমন দর-দাম চলছে অন্যদিকে তেমন পশু কেনাবেচাও চলছে। তবে বাজারে মাংসের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় কোরবানির পশুর দামও প্রায় দ্বিগুণ। খামারি ও ব্যবসায়ীরা মাংসের দামের কেজি হিসেবে পশুর দাম নির্ধারণ করছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি দাম হাঁকছেন। আর দাম বেশি হওয়ায় কম বাজেটে কোরবানির পশু কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষ হিমশিম খাচ্ছেন। অনেকেই সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় ঘটাতে ব্যর্থ হয়ে খালি হাতেই ফিরছেন বাড়ি।
তবে যাদের সামর্থ্য রয়েছে- আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় তারা বেশি দাম দিয়েই কোরবানির জন্য হাটের সেরা পশুটিই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। রোববার দুপুরের পর তাই মানুষের ভিড় বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দুপুর ২টার পরে এ হাট কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, এবার একটুও দাম কমাচ্ছেন না বিক্রেতারা।
দাম নিয়ে কথা বলতে গেলে গরু নিয়ে হাটে আসা পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বরের ব্যবসায়ী হক বলেন, তার কাছে ৩ মণ ওজনের গরু আছে দাম ১ লাখ টাকা, ৪ মণ ওজনের গরুর দাম দাম ১ লাখ ২০ থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। আর ৫ মণ ওজনের গরু দেড় লাখ টাকা দাম চাইছেন। এছাড়া বড় গরুর দাম দুই লাখ টাকা থেকে শুরু।কোরবানির পশু কিনতে আসা রাজশাহী মহানগরীর সপুরা এলাকার সাইফুল ইসলাম বলেন, তীব্র গরম উপেক্ষা করে ভর দুপুরেই হাটে এসেছেন। হাটে প্রচুর মানুষের সমাগম। কিন্তু দাম বেশি। তাই হাটের ভিড় ঠেলে ঘুরে ঘুরে গরু দেখছেন। আজ অন্যান্য দিনের তুলনায় পশুর সরবরাহ বেশি। দর-দাম করে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছেন। ব্যাপারী জানিয়েছেন ওজন ৪ মণের একটু বেশি হবে। তবে ওজন দেখে তো আর কোরবানির গরু কেনা হয় না। পছন্দ হয়েছে তাই কিনেছি।রাজশাহী সিটি হাটের ইজারাদার বলেন, এবার নানা কারণেই কোরবানির পশুর দাম বেশি। সীমান্তও বন্ধ। হাটে ভারতীয় গরু নেই। তাদের হাটে দেশি জাতের গরুতেই ভরপুর। আর হাটে দেশি গরুই বেশি বিক্রি হচ্ছে। ঈদ ঘনিয়ে আসায় শেষ সময়ে হাটে ক্রেতার সংখ্যাও বেশি। আজ থেকে আগামী কয়েক দিন রোজই হাট বসবে। চাঁদরাত পর্যন্ত গরু কেনাবেচা চলবে। এবার শেষ মুহূর্তেও দাম কমবে না বলে মনে করেন সর্ববৃহৎ এ হাটের ইজারাদার।