বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডেঙ্গু আতঙ্কে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা

ঈদুল-আযহার ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ক্লাস শুরু পর থেকে দেখা যাচ্ছে অনেকরই অসুস্থতা,যার মধ্যে গুরুতর ভাবে জ্বর, সর্দি কাশি ও ডেঙ্গুর লক্ষণ। মেডিকেল সেন্টারে রোজ ভীড় জমছে শত শত শিক্ষার্থীর যার আশি শতাংশই ভুগছে জ্বরে। ঢাকায় এখন ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব অনেক বেশী।ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৫৮টি ওয়ার্ডে জরিপ চালিয়ে ২৮টি ওয়ার্ডে ব্রুটো ইনডেক্স ২০-এর বেশি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬০ ব্রুটো ইনডেক্স ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে। এই ওয়ার্ডটি পুরান ঢাকার সিদ্দিকবাজার, নওয়াবপুর রোড, হাজী ওসমান গনি রোড, নাজিরা বাজার লেন, কাজী আলাউদ্দীন রোড, ফুলবাড়িয়া পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন নিয়ে গঠিত। দক্ষিণ সিটি এলাকায় ব্রুটো ইনডেক্স ৪০-এর বেশি পাওয়া গেছে আরও ৫টি ওয়ার্ডে। সেগুলো হলো ১৬, ১৮, ২২, ২৬ ও ৪৫ নম্বর ওয়ার্ড। কাঁঠালবাগান, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, নর্থ রোড, সার্কুলার রোড, গ্রীন রোড, ওয়েস্ট স্ট্রিট, আল আমিন রোড, নর্থ সার্কুলার রোড ও ক্রিসেন্ট রোড এলাকা নিয়ে ১৬ নম্বর ওয়ার্ড গঠিত। অথচ উক্ত এলাকাগুলোতেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনেক বেশী থাকে। অনেকর বাসায় নেই সুপেয় পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, “ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পরও আমার ক্যাম্পাসে আসতে হচ্ছে। যেহেতু সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা চলছে বাসায় থেকে বিশ্রাম নেয়ার উপায় নেই। শেষবর্ষের পরীক্ষা না দিতে পারলে আমাকে এক বছর অপেক্ষা করতে হবে। আমার প্লাটিলেট এক লাখে নেমে এসেছে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা গুলো দিয়ে যাচ্ছি।” জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের উপ-প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মিতা শবনম জানান,” আমাদের এখানে রোজ শত শত শিক্ষার্থীরা আসছে যাদের আশি শতাংশই জ্বরে আক্রান্ত। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ ট্রিটমেন্ট দিচ্ছি। ” জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো: আইনুল ইসলাম বলেন,”আমরা খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে একটি সেমিনার করবো। সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবো। তবে শিক্ষক শিক্ষার্থী সকলের নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন থাকতে হবে।” বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল জানান,”ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন গুলোর কর্মসূচী ইতোমধ্যেই হয়েছে। আমরা সিটি কর্পোরেশনকেও আরও তৎপর হওয়ার জন্য অনুরোধ করবো। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি সিটি করপোরেশন এর তৎপরতা থাকলে এ দুরবস্থা থেকে দ্রুত উত্তরণ সম্ভব।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ডেঙ্গু আতঙ্কে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত সময় : ০৩:৫৯:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুলাই ২০২৩

ঈদুল-আযহার ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ক্লাস শুরু পর থেকে দেখা যাচ্ছে অনেকরই অসুস্থতা,যার মধ্যে গুরুতর ভাবে জ্বর, সর্দি কাশি ও ডেঙ্গুর লক্ষণ। মেডিকেল সেন্টারে রোজ ভীড় জমছে শত শত শিক্ষার্থীর যার আশি শতাংশই ভুগছে জ্বরে। ঢাকায় এখন ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব অনেক বেশী।ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৫৮টি ওয়ার্ডে জরিপ চালিয়ে ২৮টি ওয়ার্ডে ব্রুটো ইনডেক্স ২০-এর বেশি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬০ ব্রুটো ইনডেক্স ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে। এই ওয়ার্ডটি পুরান ঢাকার সিদ্দিকবাজার, নওয়াবপুর রোড, হাজী ওসমান গনি রোড, নাজিরা বাজার লেন, কাজী আলাউদ্দীন রোড, ফুলবাড়িয়া পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন নিয়ে গঠিত। দক্ষিণ সিটি এলাকায় ব্রুটো ইনডেক্স ৪০-এর বেশি পাওয়া গেছে আরও ৫টি ওয়ার্ডে। সেগুলো হলো ১৬, ১৮, ২২, ২৬ ও ৪৫ নম্বর ওয়ার্ড। কাঁঠালবাগান, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, নর্থ রোড, সার্কুলার রোড, গ্রীন রোড, ওয়েস্ট স্ট্রিট, আল আমিন রোড, নর্থ সার্কুলার রোড ও ক্রিসেন্ট রোড এলাকা নিয়ে ১৬ নম্বর ওয়ার্ড গঠিত। অথচ উক্ত এলাকাগুলোতেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনেক বেশী থাকে। অনেকর বাসায় নেই সুপেয় পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, “ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পরও আমার ক্যাম্পাসে আসতে হচ্ছে। যেহেতু সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা চলছে বাসায় থেকে বিশ্রাম নেয়ার উপায় নেই। শেষবর্ষের পরীক্ষা না দিতে পারলে আমাকে এক বছর অপেক্ষা করতে হবে। আমার প্লাটিলেট এক লাখে নেমে এসেছে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা গুলো দিয়ে যাচ্ছি।” জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের উপ-প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মিতা শবনম জানান,” আমাদের এখানে রোজ শত শত শিক্ষার্থীরা আসছে যাদের আশি শতাংশই জ্বরে আক্রান্ত। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ ট্রিটমেন্ট দিচ্ছি। ” জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো: আইনুল ইসলাম বলেন,”আমরা খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে একটি সেমিনার করবো। সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবো। তবে শিক্ষক শিক্ষার্থী সকলের নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন থাকতে হবে।” বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল জানান,”ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন গুলোর কর্মসূচী ইতোমধ্যেই হয়েছে। আমরা সিটি কর্পোরেশনকেও আরও তৎপর হওয়ার জন্য অনুরোধ করবো। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি সিটি করপোরেশন এর তৎপরতা থাকলে এ দুরবস্থা থেকে দ্রুত উত্তরণ সম্ভব।