বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মেসি ম্যাজিকে মিয়ামির জয়

ইন্টার মিয়ামির জার্সি গায়ে জড়িয়ে অভিষেক রাঙিয়েছিলেন মেসি। এরপরই ক্লাবটি তাকে অধিনায়ক ঘোষণা করে। নতুন দায়িত্ব কাঁধে নিয়েই জোড়া গোলে দলকে জয় উপহার দিয়েছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৫টায় আটলান্টা ইউনাইটেডের মুখোমুখি হয় মিয়ামি। এ ম্যাচে মিয়ামির হয়ে জোড়া গোল করেন লিওনেল মেসি ও রবার্ট টেলর। ম্যাচের শেষ দিকে মিয়ামির ক্রিস্টোফার ম্যাকভি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। পরে ৮৪তম মিনিটের সময় আটলান্টা একটি পেনাল্টি পেলেও সেখান থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন আর্জেন্টাইন থিয়েগো আলমাদা। ম্যাচে জোড়া গোলের সুবাদে ফুটবল ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার মেসি ক্যারিয়ারে ৭০০’র বেশি পেনাল্টি ছাড়া গোল করলেন। তার ক্যারিয়ারে গোল সংখ্যা এখন ৮১০টি। ইন্টার মিয়ামির হয়ে ৩টি, পিএসজির হয়ে ৩২টি, আর্জেন্টিনার হয়ে ১০৩টি ও বার্সেলোনার হয়ে ৬৭২টি গোল। অভিষেক ম্যাচে ক্রুজ আজুলের বিপক্ষে বদলি হয়ে মাঠে নামেন মেসি। তবে আটলান্টার আগে আনুষ্ঠানিকভাবে মেসির কাঁধে ক্লাবের অধিনায়কত্ব তুলে দেন কোচ টাটা মার্টিনো। এতে করে দ্বিতীয় ম্যাচে শুরুর একাদশেই ছিলেন মেসি। শুরু একাদশে ছিলেন আগের ম্যাচে বদলি নামা অভিজ্ঞ সার্জিও বুসকেটসও। ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই ইন্টার মিয়ামিকে লিড এনে দেন লিওনেল মেসি। মাঝমাঠ থেকে বুসকেটসের বাড়ানো বল ধরে একক প্রচেষ্টায় গোল করেন মেসি। এটি ছিল মিয়ামির হয়ে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গোল। গোল পেয়ে খেলার ধার আরো বেড়ে যায় মিয়ামির। মুহুর্মুহু আক্রমণে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে আটলান্টার রক্ষণকে। যার ফল ম্যাচের ২২ মিনিটে ধরা দেয়। মাঝমাঠ থেকে বল টেনে বাঁ দিক দিয়ে ফাঁকায় থাকা রবার্ট টেলরকে পাস দেন মেসি। টেলর প্রতিপক্ষের ডি বক্সে ঢুকে ব্যাকপাসে মেসিকে দিলে সেখান থেকে দলের লিড দ্বিগুণ করেন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। বিরতির আগে গোলের দেখা পান রবার্ট টেলর। মিডফিল্ডার বেঞ্জামিন ক্রেমাচির কাছ থেকে বল পেয়ে ম্যাচের ৪৪ মিনিটে দলের লিড আরো বাড়ান রবার্ট টেলর। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় মায়ামি। বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের ৫৩ মিনিটের সময় দলের লিড ৪ এ উন্নীত করেন টেলর। কাউন্টার অ্যাটাকে নিজেদের হাফ বল ধরে প্রতিপক্ষে ডিফেন্স ভেঙে টেলরকে পাস দেন মেসি। সেখান থেকে গোল করতে ভুল হয়নি তার। ম্যাচের ৭৮ মিনিটের সময় মেসিকে উঠিয়ে নেন কোচ টাটা মার্টিনো। এর চার মিনিট পর ৮২ মিনিটের সময় আরেক গোলদাতা টেলরকেও উঠিয়ে নেন কোচ। ম্যাচে তখন শেষের দিকে। কিন্তু ৮৪ মিনিটে নিজেদের ডি বক্সে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে টেনে ফেলে দিলে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ক্রিস্টোফার ম্যাকভি। কিন্তু সেখান থেকে প্রাপ্ত সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন থিয়েগো আলমাদা। তার নেয়া শট বাঁ দিকে ঝাপিয়ে আটকে দেন মিয়ামি গোলরক্ষক। শেষ দিকে আর কোনো গোল না হওয়ায় ৪-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে এলএমএসের ক্লাবটি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মেসি ম্যাজিকে মিয়ামির জয়

প্রকাশিত সময় : ১০:০২:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুলাই ২০২৩

ইন্টার মিয়ামির জার্সি গায়ে জড়িয়ে অভিষেক রাঙিয়েছিলেন মেসি। এরপরই ক্লাবটি তাকে অধিনায়ক ঘোষণা করে। নতুন দায়িত্ব কাঁধে নিয়েই জোড়া গোলে দলকে জয় উপহার দিয়েছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৫টায় আটলান্টা ইউনাইটেডের মুখোমুখি হয় মিয়ামি। এ ম্যাচে মিয়ামির হয়ে জোড়া গোল করেন লিওনেল মেসি ও রবার্ট টেলর। ম্যাচের শেষ দিকে মিয়ামির ক্রিস্টোফার ম্যাকভি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। পরে ৮৪তম মিনিটের সময় আটলান্টা একটি পেনাল্টি পেলেও সেখান থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন আর্জেন্টাইন থিয়েগো আলমাদা। ম্যাচে জোড়া গোলের সুবাদে ফুটবল ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার মেসি ক্যারিয়ারে ৭০০’র বেশি পেনাল্টি ছাড়া গোল করলেন। তার ক্যারিয়ারে গোল সংখ্যা এখন ৮১০টি। ইন্টার মিয়ামির হয়ে ৩টি, পিএসজির হয়ে ৩২টি, আর্জেন্টিনার হয়ে ১০৩টি ও বার্সেলোনার হয়ে ৬৭২টি গোল। অভিষেক ম্যাচে ক্রুজ আজুলের বিপক্ষে বদলি হয়ে মাঠে নামেন মেসি। তবে আটলান্টার আগে আনুষ্ঠানিকভাবে মেসির কাঁধে ক্লাবের অধিনায়কত্ব তুলে দেন কোচ টাটা মার্টিনো। এতে করে দ্বিতীয় ম্যাচে শুরুর একাদশেই ছিলেন মেসি। শুরু একাদশে ছিলেন আগের ম্যাচে বদলি নামা অভিজ্ঞ সার্জিও বুসকেটসও। ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই ইন্টার মিয়ামিকে লিড এনে দেন লিওনেল মেসি। মাঝমাঠ থেকে বুসকেটসের বাড়ানো বল ধরে একক প্রচেষ্টায় গোল করেন মেসি। এটি ছিল মিয়ামির হয়ে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গোল। গোল পেয়ে খেলার ধার আরো বেড়ে যায় মিয়ামির। মুহুর্মুহু আক্রমণে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে আটলান্টার রক্ষণকে। যার ফল ম্যাচের ২২ মিনিটে ধরা দেয়। মাঝমাঠ থেকে বল টেনে বাঁ দিক দিয়ে ফাঁকায় থাকা রবার্ট টেলরকে পাস দেন মেসি। টেলর প্রতিপক্ষের ডি বক্সে ঢুকে ব্যাকপাসে মেসিকে দিলে সেখান থেকে দলের লিড দ্বিগুণ করেন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। বিরতির আগে গোলের দেখা পান রবার্ট টেলর। মিডফিল্ডার বেঞ্জামিন ক্রেমাচির কাছ থেকে বল পেয়ে ম্যাচের ৪৪ মিনিটে দলের লিড আরো বাড়ান রবার্ট টেলর। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় মায়ামি। বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের ৫৩ মিনিটের সময় দলের লিড ৪ এ উন্নীত করেন টেলর। কাউন্টার অ্যাটাকে নিজেদের হাফ বল ধরে প্রতিপক্ষে ডিফেন্স ভেঙে টেলরকে পাস দেন মেসি। সেখান থেকে গোল করতে ভুল হয়নি তার। ম্যাচের ৭৮ মিনিটের সময় মেসিকে উঠিয়ে নেন কোচ টাটা মার্টিনো। এর চার মিনিট পর ৮২ মিনিটের সময় আরেক গোলদাতা টেলরকেও উঠিয়ে নেন কোচ। ম্যাচে তখন শেষের দিকে। কিন্তু ৮৪ মিনিটে নিজেদের ডি বক্সে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে টেনে ফেলে দিলে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ক্রিস্টোফার ম্যাকভি। কিন্তু সেখান থেকে প্রাপ্ত সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন থিয়েগো আলমাদা। তার নেয়া শট বাঁ দিকে ঝাপিয়ে আটকে দেন মিয়ামি গোলরক্ষক। শেষ দিকে আর কোনো গোল না হওয়ায় ৪-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে এলএমএসের ক্লাবটি।