রাজশাহীতে স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সবশেষ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীদের অর্ধেকই রাজশাহীর বাইরে না গিয়েই আক্রান্ত হয়েছেন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ৬৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন। এর মধ্যে স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত ৩৪ জন। বাকিরা ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় গিয়ে আক্রান্ত হয়ে রাজশাহী এসেছেন।
সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন ২০ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছে। একই সময় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১৬ জন। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৩৩৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে মারা গেছেন একজন। আর চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ২৬৫ জন।
এসব রোগীদের মধ্যে ১০৪ জন স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত হয়েছেন। বাকিরা রাজশাহীর বাইরের কোনো জেলায় গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন।রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু ইউনিটের শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের ইনচার্জ ও মেডিসিন বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ডা. তানজিলুল বারি বলেন, “রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। রোগীদের সেবায় হাসপাতালের একটি বিশেষায়িত টিম কাজ করছে। মজুদ রাখা হয়েছে ওষুধপত্র। তবে এভাবে রোগী বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হবে।”
স্থানীয়ভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মশা নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন আবু সাঈদ মো. ফারুক।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম শরীফ উদ্দিন বলেন, “এইডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে বিশেষ অভিযান চলছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ডেঙ্গু বিষয়ে ক্যাম্পেইন ও সচেতনতামূলক নানান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।”
এছাড়া ‘ডেঙ্গু হতে পারে মহামারী, ব্যবস্থা নেওয়া অতীব জরুরী’ এ স্লোগান সামনে রেখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনাতামূলক প্রচার চালানো হয়েছে।
সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত র্যালি ও লিফলেট বিতরনের মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অন্যান্যদের ডেঙ্গু রোধে করনীয় ও সচেতন হবার বার্তা দেওয়া হয়।
এসময় ক্যাম্পাসে কোথাও যেন পানি জমে এইডিসের লার্ভা জন্ম নিতে না পারে সেদিকে সবাইকে নজর রাখার প্রতি আহ্বান জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার।

স্টাফ রিপোর্টার : 

























